বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা যাচ্ছে সংসদের হাতে

  • ১৮ অগাস্ট ২০১৪
ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption বাংলাদেশের হাই কোর্ট

বাংলাদেশে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার আজকের বৈঠকে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এই খসড়া আইনটি অনুমোদন করা হলো।

বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আওতায় রয়েছে, যে কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারপতি নিজেই।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসিকে বলেছেন, সংবিধানের সব জায়গাতেই যাতে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাধান্য থাকে সেজন্যই সরকার এই সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে।

সরকার বলছে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের আলোকে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। ওই সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা ছিলো জাতীয় সংসদের কাছে।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর সমালোচনা করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই সরকার এই সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন আইনটি পাস হলে বিচারকদের অপসারণের জন্যে বর্তমানে যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের যে বিধান রয়েছে তা আর থাকবে না।

মন্ত্রী পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাড়ে তিনশো সদস্যের জাতীয় সংসদে উপস্থিত দুই তৃতীয়াংশ সদস্য যদি কোনো বিচারককে অপসারণের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করেন তাহলে ওই বিচারক অপসারিত হবেন।

তিনি বলেন, এই প্রস্তাব গ্রহণের পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নির্ধারণ করবে।

অর্থাৎ মন্ত্রিসভায় আজ যে খসড়াটি অনুমোদন করা হলো সেটি সংসদে পাস হওয়ার পর প্রস্তাব গ্রহণের প্রক্রিয়া, অসদাচরণের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পদ্ধতি এসব বিষয়ে আরেকটি আইন তৈরি করা হবে।