সরকার গণমাধ্যম 'নিয়ন্ত্রণ' করতে চাইছে: সম্পাদক পরিষদ

দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পাতা
Image caption দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পাতা

বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিককে গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় সম্পাদক পরিষদ নিন্দা জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার ইনকিলাব কার্যালয়ে পুলিশী অভিযান ও দেশের বিভিন্ন স্থানে গণমাধ্যমের কর্মীদের গ্রেপ্তারেরও নিন্দা জানানো হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় তারা রবিউল্লাহ রবিকে তারা আটক করেছেন। আদালত মি. রবিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে সোমবার ওই পত্রিকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে জড়িয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেটি তারা মনে করছেন সঠিক সংবাদ নয়।

পরে ঐ কর্মকর্তার মামলার প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার রাতে ইনকিলাব কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মি. রবিকে আটক করে নিয়ে যায়।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলায় মি. রবির বিরুদ্ধে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনসহ নানা ধরণের অভিযোগ করা হয়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান বলেন, সম্প্রতি পত্রিকাটিতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েকটি খবর প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানার জন্যই এর সাথে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তিনি বলেন, ''গত ১৮ই আগস্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার নামে একটি রিপোর্ট হয় যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে আধিপত্য পুলিশ কর্মকর্তার। আমরা দেখেছি রিপোর্টে উপস্থাপিত তথ্য ছিল মনগড়া। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তিনি যা বলেছেন সেগুলো যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে।''

তবে মি. রবির আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী বলেন, মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর সাথে তার মক্কেলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তার অভিযোগ একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যই এ ধরনের মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, ''মামলার আগে উনি প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন, পেনাল কোডে মামলা করতে পারেন, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতেন কিন্তু এগুলো করেননি। তা না করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা করেছেন।''

তবে এ বিষয়ে দৈনিক ইনকিলাবের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলছেন, তিনি এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আঘাত মনে করছেন। তিনি বলেন, এ কারণেই কোন সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকার পাওয়ার যেসব গ্রহণযোগ্য উপায় রয়েছে সেগুলো এড়িয়ে একটি জাতীয় সংবাদপত্রের বার্তা সম্পাদককে অফিসে ঢুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অভিযানের বিষয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের জের ধরে পত্রিকাটির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ।

সে সময় কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিলো এবং পত্রিকাটির প্রকাশনাও বন্ধ রাখা হয়েছিলো।

অবশ্য পরে ওই সংবাদ প্রকাশের জন্য পত্রিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশ করে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য