ইসলামপন্থী জঙ্গিদের নিন্দায় লিবিয়ার সংসদ

ত্রিপোলির বিমানবন্দরে জঙ্গি জোট
Image caption ত্রিপোলির বিমানবন্দরে জঙ্গি জোট

লিবিয়ায় ইসলামপন্থী জঙ্গিরা মিসরাটা শহরের একটি মিলিশিয়া গ্রুপকে সাথে নিয়ে রাজধানী ত্রিপোলিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দখল করে নেওয়ার পর লিবিয়ার সংসদে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সংসদ সদস্যরা মিলিশিয়াদের এই জোটকে সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, জঙ্গিদের একজন মুখপাত্র নতুন এই সংসদ অবৈধ ঘোষণা দিয়ে, আগের ন্যাশনাল কাউন্সিল পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। ইসলামন্থীরা এই পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করতো।

বিমানবন্দরটিতে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সেটি বন্ধ।

লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত শুরু হয়েছিল ২০১১ মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে।

রাজধানী ত্রিপলির কাছে সবচেয়ে বড় বিমান বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলছিল প্রায় এক মাস ধরে, এবং এ কারণে বিমান বন্দরটি বন্ধ রয়েছে।

ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption বিমানবন্দর দখলের লড়াই চলেছে একমাস ধরে

গত তিন বছর ধরে যে যিনতান মিলিশিয়ারা এই বিমানবন্দরটি নিয়ন্ত্রণ করছিল, সেটি তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে, মিসরাটা ভিত্তিক ইসলামপন্থী মিলিশিয়ারা এখন এটি দখল করেছে।

লিবিয়ার নতুন সংসদ বিমান বন্দর দখল করে নেয়া এই মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসবাদী বলে বর্ণনা করছে।

এই সংসদ থেকে ইতোমধ্যে এসব মিলিশিয়া বাহিনি ভেঙ্গে দিয়ে তাদের জাতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নইলে তারা সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে।

লিবিয়া থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে জাতীয়তাবাদী বনাম ইসলামপন্থীদের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করা হবে অতি সরলীকরণ।

বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী সেখানে নানা ধরণের স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এরা লিবিয়ার বিরাট অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

অন্যদিকে লিবিয়ার পুলিশ, সেনাবাহিনী এখনো একেবারেই দুর্বল। ফলে ২০১১ সালের কথিত বিপ্লবের পরও লিবিয়ায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসার কোন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।