ব্লগার হত্যার বিচারে সরকার কতটা আন্তরিক?

  • ৮ অগাস্ট ২০১৫
Image caption ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান

বাংলাদেশে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারের মধ্যে এক ধরনের দোদুল্যমানতা আছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

রাজনীতিতে ধর্মের জোরালো প্রভাবের কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। যে কারণে একের পর এক ব্লগারকে হত্যা করা হলেও বিচারের বিষয়টি সরকারের দিক থেকে তেমন কোন গুরুত্ব পাচ্ছে না ।

শনিবার ঢাকায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন ব্লগার হত্যাকারীদের ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে।

অধ্যাপক জিয়া বলেন, “একের পর এক ব্লগার খুন হচ্ছে। একটি হত্যারও বিচার হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষকে অপরাধ করতে নতুনভাবে উৎসাহিত করে।”

অধ্যাপক জিয়া বলেন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশে এখন বেশ স্পর্শকাতর। কারণ এর সাথে ধর্মের বিষয়টি জড়িত।

বাংলাদেশে অনেকেই মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ বিএনপি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করে। সে কারণে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আওয়ামীলীগকে অনেক ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে হচ্ছে।

Image caption প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন মত প্রকাশের স্বাধীনতার একটি সীমা আছে।

তিনি বলেন যেভাবে ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে সেটা উদ্বেগের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে কোন কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া যাবে না।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক একই ভাবে মতপ্রকাশের কারণে কাউকে হত্যা করতে হবে সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারের মধ্যে কোন দোদুল্যমানতা নেই।

Image caption বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলাদেশ সংলাপের আরেকজন প্যানেলিষ্ট বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন বাংলাদেশে আইন শাসন না থাকার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “যারা আইনের শাসন বাস্তবায়ন করবে তাদের দিয়ে যদি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার কাজে ব্যবহার করা হয়, বিরোধী দলকে নিপীড়নের কাজে ব্যবহার করা হয়, তখন তাদের উপর সঠিক দায়িত্ব পালনের চাপ থাকে না।”

মি: চৌধুরী বলেন সব রাজনৈতিক দল ইসলামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন জঙ্গিবাদ এবং ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

Image caption বেসরকারী সংস্থা খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি রোকসানা খন্দকার

আরেকজন প্যানেলিষ্ট বেসরকারি সংস্থা খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রোকসানা খন্দকার প্রশ্ন তোলেন ব্লগার হত্যাকারীদের কেন বিচার করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, একের পর এক ব্লগার হত্যাকাণ্ডের কারণে জনগণের মনে ধারনা তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশ বিপদজনক অবস্থানে যাচ্ছে।