সামাজিক নেটওয়ার্কের জন্যই ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি

  • ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
internet ছবির কপিরাইট AP

বাংলাদেশে গত এক বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন পাঁচ কোটির বেশি, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ কি কাজে ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট?

বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকেই এখন লোকে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, আর এর ৯৫ শতাংশই ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।

তবে বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। এর বাইরেও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম - যেমন পাসপোর্টের ফর্ম পূরণ বা জমির রেজিষ্ট্রেশনের কাজও এখন ইন্টারনেটে করা যাচ্ছে।

ঢাকার বনানী মাঠে আজই শুরু হয়েছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং দেশের সফটওয়্যার ও তথ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের আয়োজনে এক মেলা।

সপ্তাহব্যপী এই ইন্টারনেট উইক নামে মেলার প্রাঙ্গণে কথা হচ্ছিল কয়েকজনের সাথে। তাদের কাছে প্রশ্ন ছিল, ইন্টারনেট কি কাজে ব্যবহার করেন?

জবাবে দেখলাম, সবাই ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ সাইটের কথা বললেন। কেউ বললেন, তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন দেশ-বিদেশে কথা বলার জন্য, কেউ বাইমেইলের জন্য - আবার কেউ পড়াশোনার সহায়ক জিনিসপত্র বা গান ডাউনলোডের কথা।

ছবির কপিরাইট Reuters

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র হিসেব অনুযায়ী এ বছরের জুলাই মাসে দেশে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। এক বছর আগে একই সময়ে দেশে সেই সংখ্যা ছিল পৌনে চার কোটির মত।

এই ব্যবহারকারীদের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অপরদিকে, ব্রডব্যান্ড লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় তিন শতাংশ মানুষ।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। তবে, গত কয়েক বছর ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নতুন ধরনের ব্যবসাবানিজ্য শুরু হয়েছে দেশে, যার একটি অংশ ইন্টারনেটে নানা ধরনের পণ্য কেনাবেচা করছেন।

এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান সব্জি বাজার ডট কম, নাগরিক মানুষদের প্রতিদিনের তাজা সব্জি ও শাকের অর্ডার নিয়ে দিনেদিনেই সেটি সরবরাহ করে গ্রাহকের কাছে।

প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বার্হী সোহেলী আক্তার বলছেন, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপেজে গড়ে দশ-বারোটি অর্ডার আসে, একই সমান অর্ডার আসে ফোনেও। "যেসব পণ্য আমাদের নিজস্ব ফার্মে নেই - তা বিভিন্ন জায়গার কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দিনে দিনে সরবরাহ করার জন্য ইন্টরনেট ব্যবহার করি" - বলছেন তিনি।

অনলাইন কেনাবেচার পাশাপশি এরকম আরো অনেক ক্ষেত্রেই এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে।

ছবির কপিরাইট Thinkstock

এই মূহুর্তে সরকারী সহযোগিতায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সহজে ও কম খরচে প্রায় ৬০ ধরনের সরকারি বেসরকারি সেবা দেয়া হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট-ভিসা সংক্রান্ত তথ্য, জমির পর্চা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, নাগরিকত্ব সনদপত্র, এবং মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা।

তবে, অনেক ক্ষেত্রেই সেসব কেন্দ্রে ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং উচ্চমূল্যের ব্যপারে অভিযোগ শোনা যায়। একই অভিযোগ শোনা যায়, সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও। তবে, উদ্যোক্তাদের অনেকেরই অভিযোগ, মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চড়ামূল্য গুনতে হয়।

এমনইএকজন উদ্যোক্তা আব্দুল হাসিব বিপু বলছেন, "যারা এ সেবা দিচ্ছেন তারা সরকারের কাছ থেকে আনলিমিটেড গিগাবাইট হিসেবেই কিনছেন, কিন্তু আমাদের মাসে তিন-চার হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে - তার ওপর একটা সময় পরে ইন্টারনেটের স্পিড কমিয়ে দেয়া হয়, তখন খুবই হয়রানি হয়।"

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে এর ভালো এবং মন্দ দুইরকম ব্যবহারই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নানারকম সাইবার ক্রাইমের উদাহরণ যেমন রয়েছে, একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সেসব প্রতিরোধ এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনাও রয়েছে।

মাত্র কদিন আগেই হবিগঞ্জে একটি রাস্তায় এক স্কুলছাত্রীকে মারধোর ও হয়রানি করার ভিডিও সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকেরাই ওই কিশোরটিকে চিনতে পেরে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেন।