ঢাকা লিট ফেস্টিভ্যাল: লেখা বন্ধ করা যাবে না

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শুরু হওয়া এক সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দুশোর বেশি লেখক-সাহিত্যিক।

বাংলাদেশে এই সাহিত্য উৎসব এবছর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে পশ্চিমা অনেক দেশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্ক করছে।

একই সাথে বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ব্লগার ও একজন প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সম্প্রতি। নানা দেশ থেকে উৎসবে আসা এসব লেখক, সাহিত্যিকরা কিভাবে দেখছেন বিষয়গুলোকে?

সকালে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরেই শুরু হয়ে যায় লেখক,কবি, সাহিত্যিক, সংবাদকর্মীদের সম্মেলনে আলোচনা। এমনি একটি আলোচনা শেষে আমার কথা হচ্ছিল জার্মান ব্রিটিশ লেখক ও প্রকাশক মেইক যারভোগেল এর সাথে।

অনুষ্ঠানের মাত্র দুদিন আগে এই লেখক তার টুইটার আ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন অনেক পশ্চিমা লেখক বাংলাদেশের এই সাহিত্য উৎসবে আসার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। কিন্তু তিনি ঠিকই আসবেন। মেইক যারভোগেল কে সামনে পেয়ে তার কাছে জানতে চাইলাম, তার টুইটারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে।

"আসলে আমি যেটা জানি সেটা হল কিছু লেখক এই উৎসব থেকে সরে গেছেন নিরাপত্তার কারণে। আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তারপরেও আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ আমি মনে করি এই ধরণের আন্তর্জাতিক মিলন-মেলায় লেখকদের আসা উচিত সৃজনশীল চিন্তা, ও লেখা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তবে হ্যাঁ নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।"

পঞ্চম বারের মত এই সাহিত্য উৎসবটি হচ্ছে দেশে। আগে ‘হে-ফেস্টিভ্যাল’ নাম নিয়ে অনুষ্ঠান হলেও এবারে নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ নামে।

ঢাকায় এবছরের উৎসব এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তিনজন বিদেশী নাগরিকের ওপর হামলা হয়েছে পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সর্তক করেছে। এশিয়া লিটারারি এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা কেলি ফ্যালকোনার বলছিলেন এমন সময়ে ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন কারণ তিনি মনে করেন একজন লেখক যে যুক্তিকে বিশ্বাস করেন সেটার পাশেই দাঁড়ানো উচিত।

লেখকদের চিন্তার স্বাধীনতা ও তাদের লেখার বিষয় বস্তু নিয়ে কথা হচ্ছে এই উৎসবে। সাথে সাথে বাংলাদেশে কয়েকজন ব্লগার ও একজন প্রকাশক যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল এই এসব লেখকরা। ভারতের প্রখ্যাত লেখক নয়নতারা সায়গল বলছিলেন বাংলাদেশের সরকারের উচিত লেখক ও প্রকাশকদের প্রকাশ্যে সমর্থন করা উচিত।

"লেখক, প্রকাশক ও অন্যদের জন্য সরকারের উচিত প্রকাশ্যে শক্ত সর্মথন দেয়া, পুলিশেরও উচিত তাদেরকে রক্ষা করা। যাতে লেখকরা মনে করেন সরকার তাদের সাথে আছে, হত্যার হুমকিসহ অন্য হুমকি ব্যাপারে সরকারের যেটা করা দরকার সেটা তারা করছে। অন্যদিকে এসব হুমকির মুখে লেখকদের উচিত হবে না লেখা বন্ধ করে দেয়া। তারা চায় আমাদেরকে থামিয়ে দিতে যেটা আমাদের কোন ভাবেই করা উচিত হবে না।"

ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার পর বাংলাদেশের সরকারের তরফ থেকে কিছু বিষয়ে বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করে এবং বর্তক সৃষ্টি করে এমন বিষয়ে না লেখালেখি করার জন্য বলা হয়েছে। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সাথে উৎসবে এক পর্যায়ে কথা হচ্ছিল।

তিনি বলছিলেন “কতগুলো জিনিস আছে যেগুলো হয়ত সুস্পষ্টভাবে মানুষের মনে আঘাত দেয়, আমি মনে করি না সেটা করা উচিত, কারো ধর্মে যদি লাগে হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম, সেটা আমি কিছুতেই অনুমোদন করবো না কিন্তু আমার কথা হল আমি যেভাবে থাকতে চাই, আমাকেও সেভাবে থাকতে দিতে হবে, আমাকে বাধা দেয়া যাবে না”।

আজ থেকে শুরু হয়ে এই লিট ফেস্ট চলবে আরো দুদিন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়াটা এক উদ্দেশ্যে, বলছেন আয়োজকরা তবে এখানে আসা লেখকরা বলছেন মুক্তচিন্তা ও খোলামেলা আলোচনার জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকির পরেও ঠিক এসময়ে এ আয়োজন দরকার ছিল।