ক্রিসমাসের আগে ৪০ লাখ খেলনা উদ্ধার: ২ জন গ্রেফতার

খেলনা কোম্পানিতে সশস্ত্র সৈন্যদের অভিযান

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান,

খেলনা কোম্পানিতে সশস্ত্র সৈন্যদের অভিযান

ভেনেজুয়েলায় ক্রিসমাসের আগে প্রচুর পরিমাণে শিশুদের খেলনা মজুদ করার অভিযোগে একটি টয় কোম্পানির দু'জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসময় প্রায় চল্লিশ লাখ খেলনাও উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব খেলনা দরিদ্র শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

খেলনা কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, খৃস্টানদের সবচে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বড়দিনের আগে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা খেলনা মজুদ করে রাখছিলো।

গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে খুচরা বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো বিভিন্ন পণ্যের দাম ৩০ শতাংশ কমানো জন্যে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার এই আদেশ দিয়েছে। কিন্তু এর ফলে ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে বলে তারা দাবি করছেন।

ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী এই কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রাইসেল নামের কোম্পানিটি এসব খেলনা কিনে সেগুলো মজুদ করে পরে বাজারে ৫০,০০০ বেশি গুনে বিক্রি করছিলো।

ছবির উৎস, Twitter

ছবির ক্যাপশান,

সরকারি দপ্তরের টুইট

"বাচ্চারা ভয় পেয়ে গেছে। আমরা তাদের ক্রিসমাসের আনন্দ নষ্ট হতে দেবো না," সরকারি ওই দপ্তরের পক্ষ থেকে টুইট করে শিশুদের ও তাদের পিতামাতাদের এভাবে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

একই সাথে প্রকাশ করা হয়েছে জব্দ করা লাখ লাখ খেলনার ছবিও।

বলা হয়েছে, দুটো গুদাম ঘর থেকে এসব খেলনা উদ্ধার করা হয়। এখন সেগুলো অল্প দামে বিক্রি করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সরকারি ওই দপ্তরের প্রধান বলেছেন, কোম্পানিটি দাবি করেছে এসব খেলনা পুরনো।

কোম্পানির ওই দু'জন কর্মকর্তার ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে একদল সশস্ত্র সৈন্য তাদেরকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলায় এর আগেও ক্রিসমাসের আগে পণ্যের দাম কমানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিলো।

সেই আদেশ কার্যকর করার জন্যে সশস্ত্র সৈন্যরা তৎপর ছিলো বাজারেও।

সরকার ২০১৩ সালে একটি আইন করে যাতে সরকারকে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়।

আটা, মাংস, রুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যাপারেও এই আইন প্রযোজ্য।

দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে খুব খারাপ। আর একারণে সরকারের জনপ্রিয়তাও সঙ্কটের মুখে পড়েছে।

দেশটির অর্থনীতি তেলসমৃদ্ধ হলেও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পড়ে গেছে।

এর ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে।