ঢাকায় বাড়ছে অস্ত্রধারী কিশোরদের গ্যাং কালচার

  • শাহনাজ পারভীন
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করার পর মিডিয়ার সামনে হাজির করেছে র‍্যাব

ছবির উৎস, ফোকাসবাংলা

ছবির ক্যাপশান,

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করার পর মিডিয়ার সামনে হাজির করেছে র‍্যাব

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় স্কুল পড়ুয়া এক কিশোর আদনান কবীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর কিশোরদের গ্যাং সম্পর্কিত নানা তথ্য সামনে এসেছে।

এই গ্যাং কালচার কতটা গড়ে উঠছে ঢাকায়? এ ব্যাপারে কী বলছে পুলিশ আর তা নিয়ে কতটাই বা উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা?

র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন ওই হত্যা মামলার সূত্রে যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা উত্তরার ডিসকো বয়েজ এবং বিগ বস কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এর মধ্য গ্যাংয়ের দলনেতাও রয়েছে।

ঢাকায় সাংবাদিকদের সামনে বুধবার তাদের হাজির করা হয়ে। মুখে সবে দাড়ি-গোঁফ গজিয়েছে। পাওয়ার বয়েজ, ডার্ক শ্যাডো, নাইন স্টার এমন আরো অনেক স্টাইলিশ নাম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

এমন ফিল্মি সব নাম হলেও এদের কার্যক্রম অতটা সরল নয়। এর সদস্য কিশোরেরা আরো অনেক কিছুর সাথে জড়িয়ে পড়ছে বলছেন র‍্যাবের কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলছেন, "তারা মাদকের সাথে কিছুটা জড়িত। আবার পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন যায়গায় লম্বা সময় ধরে বসে থেকে ইভ টিজিং করে। এদের সাথে চলতে চলতে ভালো ছেলেরাও অপরাধে ঝুঁকে পড়ে।"

তিনি আরো বলছেন, "এর সদস্য আছে বিভিন্ন রকম। তবে প্রায়ই দেখা যায় স্কুল ড্রপ-আউট ছেলেরা যারা কিছু করে না তারা স্থানীয় অন্য ছেলেদের গ্রুপে আসার জন্য বাধ্য করে। মনের মিল হলে অন্যরাও আসে।"

তিনি বলছেন, ঢাকার উত্তরায় তারা এই সংস্কৃতি বেশি দেখতে পাচ্ছেন। জানুয়ারির শুরুতে ঢাকার উত্তরায় ১৫ বছর বয়সী আর এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল এই সব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।

ছবির উৎস, ফোকাসবাংলা

ছবির ক্যাপশান,

গ্রেফতার হওয়া গ্যাং মেম্বারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্র

উত্তরার ঘটনাটি ঘটেছিলো গত মাসের ছয় তারিখ। কিশোর আদনান কবীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর কিশোরদের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে।

বনশ্রীর বাসিন্দা দুই যমজ ছেলের মা লীনা পারভীন বলছেন, ঘটনাটি জানার পর কর্মজীবী মা হিসেবে তিনি খুবই বিচলিত বোধ করছেন।

"আমি কর্মজীবী। সেই সকালে যাই আর সন্ধ্যায় আসি। এই সময়টা তারা কী করে, কার সাথে মেশে সেটা জানার আমার কোন উপায় নেই। এই বয়সী বাচ্চারাও যে গ্রুপিং বা পেশীশক্তির ধারণায় চলে যাচ্ছে এটা উত্তরার ঘটনাই আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। পুরো অজানা একটা বিষয়ের সাথে আমার পরিচয় হলো", বলছিলেন তিনি।

উত্তরার একজন বাসিন্দা বলছেন, "ফ্রেন্ডের সাথে বিবাদ মারামারি বা অস্ত্র পর্যন্ত কেন যাবে? কেন সেটা মৌখিকভাবে শেষ করা যায় না? এটা ভেবে দেখার বিষয় আসলে!"

তিনি জানালেন তার ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে উদ্বেগে তিনি তার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছেন।

"এই যুগের ছেলে-পেলেদের হাতের মুঠোয় থাকে ইন্টারনেট। তারা কী ধরনের সাইটে যায় সেটি ল্যাপটপ হিস্ট্রি দেখি। যেসব বন্ধুরা বাসায় আসে বা যেসব ফ্যামিলির সাথে ওঠাবসা এগুলো মনিটর করি।"