বাংলাদেশের আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে কি আমৃত্যু কারাদণ্ড?

ছবির কপিরাইট Anadolu Agency
Image caption ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

বাংলাদেশের আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে কি আমৃত্যু কারাদণ্ড, নাকি নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা?

এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে আজ (মঙ্গলবার) একটি হত্যা মামলার আপীলের রায় দিতে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে আমৃত্যু কারাদণ্ড বলে বর্ণনা করার পর।

১৯৯৬ সালে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সার্কুলারে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছিল। তখন থেকে এটিই প্রচলিত রয়েছে।

এমনকী কারাগারে ভালো আচরণের জন্য জেল কোড অনুযায়ী ৩০ বছরের আগেও অনেক কয়েদি মুক্তি পান।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে মঙ্গলবারের এই রায়ের পর বর্তমানের সর্বোচ্চ ৩০ বছর কারাদণ্ডের মেয়াদ এবং আগাম মুক্তির প্রচলন কি বৈধ থাকবে কিনা - তা নিয়ে বেশ কজন আইনজীবী পরিষ্কার উত্তর দিতে পারেন নি।

এমনকী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বিবিসির এক প্রশ্নে খোলাখুলি বিভ্রান্তি প্রকাশ করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এক খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুজনের আপিলের শুনানির সময় আদালত বলেন, যাবজ্জীবন দণ্ড মানে আমৃত্যু দণ্ড, এবং এই মামলার রায়ে সেটা তারা স্পষ্ট করে দেবেন।

এর অর্থ কী এখন থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হলেই তা আমৃত্যু দণ্ড হিসাবে গণ্য হবে - এই প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন তা বুঝতে রায়ের লিখিত কপির জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।

সুপ্রিম কোর্টেরই একজন সিনিয়র আইনজীবী বিবিসিকে বলেছেন, সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে 'আমৃত্যু' কারাদণ্ডের রায় হওয়ার পর থেকেই এই বিভ্রান্তির শুরু হয়।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের ঐ সব রায়ের সূত্র ধরেই গত বছর খানেক ধরে আপিল বিভাগের কিছু রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে আমৃত্যু শব্দটি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর