ঢাকা বোর্ডে এসএসসি’র প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কি হয়নি?

  • সাইয়েদা আক্তার
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
প্রশ্ন ফাঁস

ছবির উৎস, সংগৃহীত

ছবির ক্যাপশান,

মূল প্রশ্নপত্র এবং ইন্টারনেটে পাওয়া প্রশ্নপত্র পাশাপাশি ছাপিয়ে দেয় বিডিনিউজ

ঢাকা বোর্ডের এসএসসিতে গণিতের পরীক্ষা ছিল রোববার।

আগে থেকেই ঢাকায় পরীক্ষার্থী কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এবং ইন্টারনেটে তা পাওয়া যাচেছ।

পরীক্ষার দিন ঢাকার ইন্টারনেট-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করে পরীক্ষার আগের দিনই প্রশ্ন পাওয়া যাচিছল। প্রতিবেদনে তারা প্রামাণ্য কিছু ছবিও ছাপে যেখানে দেখা গেছে পরীক্ষার দিন ভোরেই হোয়াটসঅ্যাপে ছাপা প্রশ্ন আদান প্রদান হচ্ছে।

যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে এবং ইন্টারনেটে কথিত ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কিছু নমুনা মিলিয়ে দেখা যায়, বীজগণিত ও জ্যামিতি অংশগুলোতে অনেক মিল । কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে হুবহু সাদৃশ্য।

পরীক্ষার্থীদের অনেকের অভিযোগ, তাদের সহপাঠীদের কেউ কেউ পরীক্ষার আগের রাতেই পেয়েছে প্রশ্নপত্র।

এমন একজন পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিবিসিকে বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে তার নিজের সহপাঠী এবং অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলাবলি করেছে তারা প্রশ্ন পেয়েছে।

"পরীক্ষা চলার সময় এবং পরীক্ষা শেষে শুনি যে সেন্টারে আমাদের স্কুলের কেউ এবং অন্য স্কুলের কেউকেউ বলাবলি করছে, রাতেই তারা প্রশ্ন পেয়েছে। একজন নিজের বন্ধুকে বলছিল রাতে যেটা পাঠাইছিলি, সেটাই আসছে।"

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে রোববার থেকে হৈচৈ এবং উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে পুলিশ আজ (মঙ্গলবার) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার এবং তদন্তের ঘোষণা এলেও সরকার বলছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেছেন ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল নেই।

"রাতে কর্তৃপক্ষ ফাঁস হওয়া যে প্রশ্নপত্র পেয়েছিল, তার সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের কোন মিল নেই। তবে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে 'ওপেন' করা হয়েছে, সেটি তখন কেউ বাইরে পাঠালে তাতো পুরো মিলতেই পারে। কিন্তু সেটিকে আমরা ফাঁস বলছিনা।"

তবে মি. সরকার বলছেন, বিষয়টি তদন্তে ইতিমধ্যেই কমিটি গঠন করা হয়েছে, এবং কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী করনীয় ঠিক করা হবে।