মস্তিষ্ক দান করার জন্যে আহবান

আমরা চক্ষু দান করার কথা শুনেছি। শুনেছি রক্ত, কিডনি ইত্যাদি দান করার কথাও।

এসব দান করা হয় অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্যে। কখনো কখনো গবেষণা কাজেও। এজন্যে মৃত্যুর পর গোটা শরীরটাকেও অনেকে দান করে যান।

বিজ্ঞানীরা এখন আহবান জানাচ্ছেন, গবেষণায় ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর পর তাদের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন দান করার জন্যে।

তারা বলছেন, কিছু কিছু রোগ, যেমন বিষণ্ণতা কিম্বা বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনার পর মানুষের মনের ওপর যে ধরনের চাপ সৃষ্টি হয় - এসবের ওপর গবেষণার জন্যে তাদের কাছে যথেষ্ট মস্তিষ্ক নেই।

ছবির ক্যাপশান,

হার্ভার্ড ব্রেইন সেন্টারে আছে তিন হাজারেরও বেশি মস্তিষ্ক

মানুষের মস্তিষ্ক একদিকে যেমন সুন্দর, তেমনি জটিল।

এর গঠন, অর্থাৎ মস্তিষ্কের ভেতরে অযুত নিযুত কোটি স্নায়ু বা টিস্যু যেভাবে তারের মতো পেঁচিয়ে থাকে সেগুলো আমাদের বেড়ে ওঠার সাথে সাথে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।

আমরা কি এবং আমাদের আচরণ- এসবের এক মূর্ত শারীরিক প্রকাশ এই মস্তিষ্ক।

যুক্তরাষ্ট্রে বোস্টন শহরের কাছের একটি হাসপাতালে সংরক্ষিত আছে এরকম তিন হাজারেরও বেশি মস্তিষ্ক।

যেখানে এসব রাখা আছে তার নাম হার্ভার্ড ব্রেইন টিস্যু রিসোর্স সেন্টার। পৃথিবীর সবচে বড়ো ব্রেইন ব্যাঙ্ক-এর একটি এই সেন্টার।

এসব মস্তিষ্ক যাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ছিলেন মানসিক রোগী এবং যাদের স্নায়বিক বৈকল্য ছিলো তাদের।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পারকিনসন্স ,আলঝেইমার এবং আরো অনেক মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্যে আরো মস্তিষ্কের ওপর গবেষণা চালানো প্রয়োজন।

অতি সম্প্রতি গবেষকরা মস্তিষ্কের আকার আকৃতি ও গঠনের সাথে মানসিক এবং স্নায়ু-জনিত সমস্যার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।

ওই হাসপাতালের প্রধান সায়েন্টিফিক কর্মকর্তা ড. কেরি রেসলার বলছেন, অনেক মানসিক রোগেরই চিকিৎসার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ব্রেইনের টিস্যুর অভাবের কারণে তারা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছেন না-

ছবির ক্যাপশান,

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গবেষণার জন্যে যথেষ্ট মস্তিষ্ক নেই

"মানুষের মস্তিষ্ক এবং জীববিদ্যার ওপর আরো বিস্তৃত ও গভীর গবেষণা চালানোর উপকরণ এবং ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কিন্তু আমাদের যেটার বড় রকমের অভাব সেটা হচ্ছে যাদের মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যা ছিলো সেরকম মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু। এসব রোগ ভালোভাবে বোঝার জন্যে তাদের টিস্যুর ওপর গবেষণা চালানো প্রয়োজন," বলেন তিনি।

এরকম এক নারী যিনি তার মস্তিষ্ক দান করতে চান গবেষণার জন্যে তিনি বলেছেন, তার এক বোন স্কিটসোফ্রেনিয়ায় মারা যাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আশা করছেন, তার এই দানের ফলে এধরনের জটিল রোগের চিকিৎসার উপায় বের করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, "আমার বাবা মায়ের এধরনের সমস্যা ছিলো না। তাহলে আমার বোনের স্কিটসোফ্রেনিয়া কেন হলো? এই রোগ তার শরীরে কোত্থেকে এলো সেটা আমরা নিশ্চিত করে জানি না। এখন যদি মস্তিষ্কের ওপর আরো গবেষণা না হয় তাহলে আমরা সেটা কিভাবে জানতে পারবো? এই সমস্যাটা কি, কেন এরকম হয় -এসবতো জানা জরুরী।"

ব্ল্যাক হোলের ছবি

এই মহাবিশ্বে আছে বহু বহু ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর। এসব সম্পর্কে এখনও খুব বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি। ছবি তোলা তো দূরের কথা।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন এই প্রথম তারা এরকম একটি ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

এজন্যে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ধরনের টেলিস্কোপ। আমাদের এই পৃথিবীর সমান।

হ্যাঁ, এই টেলিস্কোপটি ভার্চুয়াল। বিস্তৃত দক্ষিণ মেরু থেকে হাওয়াই, ইউরোপ থেকে অ্যামেরিকা পর্যন্ত। নাম ইভেন্ট হরাইজন।

ছবির ক্যাপশান,

কম্পিউটারে তৈরি ব্ল্যাকে হোলের ছবি

আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম দু'সপ্তাহের যেকোনো সময়ে এর সাহায্যে ব্ল্যাক হোলটি দেখা সম্ভব হতে পারে।

এই কৃষ্ণ গহ্বরটি গ্যালাক্সির প্রায় কেন্দ্রে অবস্থিত।

ব্ল্যাক হোল কি এবং কিভাবে এর ছবি তোলা হবে এনিয়ে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষ। সাক্ষাৎকারটি শোনা যাবে আমাদের রেডিওর অনুষ্ঠানে এবং এই অডিও ফাইলে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান