রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের বৌদ্ধরা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় জাঁকজমক পরিহার করবেন

ছবির কপিরাইট Ashoke Barua
Image caption আজ ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে বৌদ্ধদের শীর্ষ সংগঠন আজ জানিয়েছে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদে বৌদ্ধরা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়াবে না।

বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৫ই অক্টোবর।

বাংলাদেশে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের প্রধান সমন্বয়ক অশোক বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সমবেদনা, সহমর্মিতা জানাতে প্রবারণা পূর্ণিমার দিন কোন ধরণের জাঁকজমক পরিহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

ছবির কপিরাইট STR
Image caption ঢাকায় একটি বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা করছেন একজন ভান্তে।

তিনি বলছেন, "প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধদের মধ্যে এক ধরনের আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু এবছর আমরা এই আনন্দ থেকে বিরত থাকতে চাই কারণ লক্ষ লক্ষ নি:স্ব মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। মিয়ানমারে মানুষের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চলছে এই কান্নার মধ্যে কিভাবে উৎসব হয় বলুন? এই জন্য এ বছর আমাদের এই উৎসব আমরা কোন আড়ম্বরতা ছাড়াই পালন করবো। আমরা আমাদের আনন্দকে রোহিঙ্গাদের জন্য উৎসর্গ করলাম"

বৌদ্ধ ধর্মের নামে মিয়ানমারে যা হচ্ছে সেটি নিয়ে তারা এর আগেও প্রতিবাদ করেছেন।

এর আগে এই সংগঠনটি এক মানববন্ধন করে বলেছিল যে বৌদ্ধ ধর্ম এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ফানুস ওড়ানো প্রবারণা পূর্ণিমার একটি অন্যতম বড় আয়োজন।

মি বড়ুয়া বলছেন তারা তাদের মনোভাব একটি স্বারক লিপির মাধ্যমে মিয়ানমার দূতাবাসে জানিয়েছেন।

তিনি বলছেন, "আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে মিয়ানমারের সরকারকে অনুরোধ করেছি যে বুদ্ধ কখনো সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেননি। আমরা মনে করি তারা বুদ্ধের অনুসারী নয়।"

সম্পর্কিত বিষয়