ঢাকার নতুন ফ্লাইওভার যানজট কমাবে না বাড়াবে?

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption সদ্য চালু হওয়া মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার আরো একটি ফ্লাইওভার উদ্বোধন করা হয়েছে। শহরের যানজটপ্রবণ মালিবাগ-মগবাজার এলাকা দিয়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পরে শেষ হলো।

এই ফ্লাইওভারটি নিয়ে গত নয় বছরে ঢাকা শহরে মোট ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলো।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, সার্বিকভাবে ঢাকার যানজট কমাতে এই ফ্লাইওভারগুলো তেমন ভূমিকা রাখছে না, বরং এটি গণ-পরিবহন সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাড়াচ্ছে।

নকশায় ত্রুটি এবং ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর কারণে মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং খরচও বেড়েছে। এনিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি।

ফ্লাইওভারের ওপরে বসেছে সিগনাল বাতি, যার ফলে সেখানেও যানজট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা যাত্রীদের।

গত সাড়ে আট বছরে ছোট বড় মিলিয়ে ঢাকায় তৈরি হয়েছে প্রায় ২৯ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, যার পেছনে খরচ হয়েছে চার হাজার কোটি টাকার বেশি।

ফ্লাইওভার তৈরিতে কিলোমিটার-প্রতি ব্যয়ের হিসেবে এশিয়ার অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় এই খরচ অনেক বেশি।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption এই তীব্র যানজট ঢাকা শহরের প্রায় রোজকার ছবি

অথচ এই সময়ের মধ্যে ঢাকা শহরের মধ্যে গাড়ি বেড়েছে অনেক, গাড়ির গতি কমেছে ব্যাপক হারে। মাত্র ১০ বছর আগেও ঢাকায় ঘণ্টায় গাড়ির গতি ছিল ২০ কিলোমিটারের বেশি, সাম্প্রতিক গবেষণায় যা নেমেছে ঘণ্টায় ৭ কিলোমিটারে।

যদিও ঢাকাবাসীদের অনেকে বলছেন, ফ্লাইওভারের কারণে অনেক স্থান থেকে যাতায়াত সহজ হয়েছে, তবে যানজট নিয়ে ক্ষোভ কমছে না তাদের।

ঢাকায় আরো ফ্লাইওভার তৈরির কাজ এখনো চলছে। সরকার বলছে, এই ফ্লাইওভারগুলোর ফলে ঢাকা শহরের যানজট কমে আসবে।

কিন্তু যানজট কমাতে যে ফ্লাইওভারগুলো তৈরি তার সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সুফল মূলত পাচ্ছে ছোট এবং ব্যাক্তিগত গাড়ি। গণপরিবহণগুলো ফ্লাইওভার কমই ব্যবহার করে এবং ফ্লাইওভারগুলোর কারণে নিচের রাস্তাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ায় সেখানেও যানজটের পরিমাণ কম নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে ফ্লাইওভার নির্মাণ যানজট নিরসনের স্বীকৃত পদ্ধতি নয়। যার ফলে ব্যাস্ততম সময়গুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

অধ্যাপক হকের কথায়, "শহরের কেন্দ্রে যেখানে গণপরিবহন চলার কথা, সেখানে খুঁটি বসিয়ে যদি আমরা কয়েকটা মোড় পার করিয়ে দেব, তখন যেটুকু কমফোর্ট পাওয়া যাবে নামার পর সেটাও লস হয়ে যাবে।"

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার যেখানে নিচে এসে মিশেছে

সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনাতেও বারবার ঢাকার যানজট নিরসনে গণপরিবহণ বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এনিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে। তবে দেখা গেছে এ সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনেক সময় বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে ফ্লাইওভার।

শামসুল হক বলছেন, ঢাকার গণপরিবহনের কৌশলগত পরিকল্পনায় যেসব রুট ঠিক করা হয়েছিল তার কয়েকটির মাঝে ফ্লাইওভার পড়ে যাওয়ায় সেগুলো আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

"রাস্তা তো আমরা বাড়াতে পারবো না, এখন আমাদের হাতে সুযোগ ছিল ছোট গাড়িকে রিপ্লেস করে বড় গাড়ি দিয়ে অপারেশনাল ক্যাপাসিটি বাড়ানো। সেখানে আমরা একটি অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেললাম।"

মি হক তাই মনে করেন, যেভাবে ফ্লাইওভারগুলো তৈরি হয়েছে তাতে পরবর্তীতে গণপরিবহন পরিকল্পনার সাথে এর সমন্বয় করাও সম্ভব হবে না।

আমাদের পেজে আরও পড়ুন :

রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে সময় নেবে মিয়ানমার

ভারতের ক্রিকেট দলে এখন কেন মুসলিম ক্রিকেটার নেই, এই প্রশ্নকে ঘিরে বিতর্কের ঝড়

'ওরা আমার বাবা-মা, সন্ত্রাসী নয়'

সম্পর্কিত বিষয়