ঢাকা-কলকাতা ট্রেন যাত্রায় তিন ঘণ্টা সময় কমবে

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঢাকা-কলকাতা রেল যাত্রায় দীর্ঘ সময় লাগে বলে অনেক যাত্রীর অভিযোগ

ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের এখন থেকে আর সীমান্তে ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস চেকিং করাতে হবে না।

যাত্রা শুরুর আগেই কলকাতা এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময়েই পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষার কাজ সেরে ফেলা হবে।

বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা ট্রেনে যাতায়াত করতে প্রায় এগারো ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন নিয়ম চালু হলে সময় লাগবে প্রায় আট ঘণ্টা।

৯ নভেম্বর থেকে এ নতুন পদ্ধতি চালু হবে, যার ফলে মৈত্রী এক্সপ্রেসে করে কলকাতা থেকে ঢাকা যেতে যাত্রার সময় কমে যাবে প্রায় তিন ঘণ্টা।

পূর্ব রেলের মুখপাত্র রবি মহাপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, "এতদিন ভারতে গেদে স্টেশন এবং বাংলাদেশে দর্শনা স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নেমে পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা করাতে হতো। সেখানে কাস্টমস চেকিংও হত। এখন সেই নিয়ম তুলে দেওয়া হচ্ছে। ট্রেনে ওঠার আগেই ওইসব পরীক্ষা হয়ে যাবে। সীমান্তে যাত্রীদের আর নামতে হবে না।"

২০০৮ সালের পয়লা বৈশাখ মৈত্রী এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রার দিন থেকেই সীমান্ত-স্টেশনে নিজের সব মালপত্র নিয়ে যাত্রীদের নেমে গিয়ে পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা করাতে হতো। এরপর ট্রেনে উঠতে হতো মাল নিয়ে।

"গেদেতে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা করিয়ে ট্রেনে উঠলাম, আবার দশ মিনিটের মধ্যে ওপারে গিয়ে দর্শনাতেও সেই একই কাজ করতে হল। সব মালপত্র নিয়ে বারে বারে ট্রেনে ওঠা নামা যে কী অসুবিধার! আমি দেখছিলাম হুইলচেয়ারে বসা এক যাত্রীকেও ওই ভাবে ওঠানামা করতে হচ্ছিল," বলেছেন সদ্য মৈত্রী এক্সপ্রেসে যাত্রা করা এক ভারতীয় মনিকা সাহা।

দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীরা দাবী করছিলেন যে যাত্রার শুরুতেই যদি স্টেশনগুলিতে অভিবাসন এবং শুল্ক বিভাগ পাসপোর্ট-ভিসা-কাস্টমসের পরীক্ষা সেরে নেয়, তাহলে সীমান্ত স্টেশনে এই ঝামেলা পোহাতে হয় না এবং যাত্রার সময়ও অনেকটা কমে যায়।

মিসেস সাহার কথায়, "যদি কলকাতা আর ঢাকাতেই পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা হয়ে যায়, তাহলে খুবই ভাল হবে। আমি যেমন একা গিয়েছিলাম, সেরকমই বহু অসুস্থ মানুষও চিকিৎসা করাতে আসেন ভারতে। তাঁদেরও আর মালপত্র নিয়ে বারবার ওঠানামার ভোগান্তি পোহাতে হবে না। একই সঙ্গে মানি এক্সচেঞ্জের সুবিধাও যদি বাড়ানো হয়, ভাল হবে।"

দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়ার পরে মঙ্গলবার বাংলাদেশ রেল আর ভারতের পূর্ব রেলের কর্মকর্তারা এক বৈঠকে নতুন ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন।

কলকাতা স্টেশনে অভিবাসন আর শুল্ক দপ্তরের কাউন্টার তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

যেদিন থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে, সেদিনই শুরু হবে কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেনও।

"ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় করতে নতুন ট্রেন পরিষেবার পরীক্ষামূলক যাত্রা হবে ৯ নভেম্বর।

এই ট্রেনের নাম দেওয়া হচ্ছে বন্ধন। কলকাতা স্টেশন থেকে চালু হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে ট্রেনটি খুলনা যাবে," জানাচ্ছিলেন পূর্ব রেলের মুখপাত্র রবি মহাপাত্র।

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তটিই দুই দেশের যাত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয়তম পথ। এটি সবথেকে বড় স্থলবন্দরও। বহু আগে এই পথ দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলত, কিন্তু তা বন্ধ হয়ে যায়।

২০০১ সাল থেকে অবশ্য পণ্যবাহী ট্রেন যাতায়াত করে এই পথে।

আধিকারিকরা বলছেন, ৯ই নভেম্বরের পরীক্ষামূলক যাত্রার পরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ১৪ই নভেম্বর থেকে নিয়মিত যাত্রা করবে নতুন ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস।

কলকাতা থেকে খুলনা যেতে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগবে। আর এই ট্রেনের ক্ষেত্রেও প্রারম্ভিক স্টেশনেই পাসপোর্ট ভিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।

সম্পর্কিত বিষয়