চোখের সামনেই জন্ম নতুন প্রজাতির পাখির
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

চোখের সামনেই জন্ম নতুন প্রজাতির পাখির, কোরাল প্রাচীর রক্ষায় নতুন কৌশল

আমরা প্রায়শই শুনি- পৃথিবী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটি খবর এসেছে চমকে যাওয়ার মতো। খবরটি হলো- চোখের সামনেই নতুন প্রজাতির এক পাখির জন্ম হয়েছে।

বলা হচ্ছে, আটলান্টিক মহাসাগরের গ্যালাপাগোস দ্বীপে বিজ্ঞানীরা এই প্রথম নতুন প্রজাতির একটি পাখিকে মাঠেই সরাসরি দেখতে পেলেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে বিগ বার্ড।

গবেষকরা এই পাখিটির উপর বহু বছর ধরেই নজর রেখে আসছিলেন। তারা দেখতে পেলেন কিভাবে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নতুন এই প্রজাতিটির জন্ম হলো।

ব্রিটেনে বিজ্ঞান বিষয় সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্রাকৃতির এই পাখির গ্রুপকে বলা হয় ডারউইনের ফিঞ্চ। এই পাখিটি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনকে সাহায্য করেছিলো প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনবাদের তত্ত্বে পৌঁছাতে।

বিজ্ঞানীরা ১৯৮১ সালে দেখতে পান যে একটি পুরুষ প্রজাতির পাখি বাইরে থেকে গ্যালাপাগোসে গিয়ে পৌঁছায়। ওটা ছিলো ক্যাকটাস ফিঞ্চ প্রজাতির।

গবেষক প্রফেসর রোজম্যারি এবং পিটার গ্র্যান্ট তখন দেখতে পান ওই পুরুষ প্রজাতিটি স্থানীয় একটি নারী প্রজাতির পাখির সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হচ্ছে। তারপর নতুন এক পাখির জন্ম হয়েছে।

এর প্রায় ৪০ বছর পরেও ওই বংশধরের ওপর নজর রাখা হচ্ছে যারা এই প্রজাতির পাখির বংশবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এদের সংখ্যা এখন ৩০টির মতো।

ছবির কপিরাইট B R Grant
Image caption পাখিটির উপর বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে নজর রেখেছেন

নতুন এই পাখিটি স্থানীয় পাখির চেয়ে আলাদা- আকার আকৃতি ও স্বভাবের দিক থেকেও। এসব কারণেই কি কাউকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে ধরা যেতে পারে? প্রজাতির সংজ্ঞা কি?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞানী ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলছেন, একটি দলের সদস্যরা যদি মিলন ঘটিয়ে তাদের মতো আরো একটি প্রাণীর জন্ম দিতে পারে এবং নতুন প্রাণীটিও যৌন মিলনের মাধ্যমে আবারও এই ধরনের প্রাণীর জন্ম দিতে পারে তখনই তাকে প্রজাতি বলা হয়।

মি. ইসলাম বলেন, প্রাণীটির জন্মের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই শুধু তাকে প্রজাতি বলা যাবে, অন্যথায় নয়।

ব্রিটিশ গবেষকরা ধারণা করছেন, আসল পুরুষ পাখিটি ৬৫ মাইল দূরের এসপানোলা দ্বীপ থেকে উড়ে গ্যালাপাগোস দ্বীপে এসেছে। উড়ার জন্যে এখন নতুন প্রজাতির এই ছোট্ট পাখিটির পক্ষে এতো লম্বা পথ উড়ে যাওয়া খুব কঠিন।

ফলে নতুন প্রজাতির পাখিটি যে সেখানে ফিরে যেতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

প্রবালের প্রাচীর পুনরুদ্ধার

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রে কোরালের যেসব প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব পুনরুদ্ধারের একটি উপায় তারা হয়তো খুঁজে পেয়েছেন। কোরাল উৎপাদনের এক সফল পরীক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা এই দাবি করছেন।

গবেষকরা বলছেন, প্রথমে তারা এসব কোরালের ডিম প্রতিপালন করেছেন। তারপর সেগুলোকে বড় করেছেন লার্ভার মধ্যে রেখে। তারপর সেগুলোকে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের একটি অংশে প্রতিস্থাপন করেছেন। তারপর বহু মাস পর সেখানে গিয়ে দেখেছেন সেসব প্রবাল তখনও বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠছে।

অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। তারা বলছেন, এই একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সমুদ্রের অন্যান্য স্থানেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবালের প্রাচীর মেরামত করা সম্ভব।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ

মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এসব প্রবাল মরে যাচ্ছে, কিম্বা তাদের জীবন হুমকির মুখে গিয়ে পড়ছে।

এর আগে পরিবেশবাদীরা ভিন্ন একটি উপায়ে এসব প্রবাল রক্ষার কথা বলে আসছিলেন। আর সেটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যবান কোরালের কিছু অংশ ভেঙে সেটিকে অন্য কোথাও লাগানো এই আশা থেকে যে সেখানেও ওই প্রবাল বেঁচে থাকবে।

এসব নিয়ে শুনুন বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানী প্রফেসর সাইদুর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার। শুনতে চাইলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।

সম্পর্কিত বিষয়