বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ: ক্রিকেট আম্পায়ারের পারফরম্যান্স খারাপ হলে কী হয়?

আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই প্রতিবাদ জানান উইন্ডিজ অধিনায়ক ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই প্রতিবাদ জানান উইন্ডিজ অধিনায়ক

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আম্পায়ারিং। তবে ভুল করলেও নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়ারদের উন্নতির সুযোগ থাকে বলে জানালেন বিসিবির আম্পায়ার্স চিফ কোচ এনামুল হক মনি।

দু'দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল শিরোপা লড়াইয়ে অঘোষিত ফাইনাল। ব্যাট-বলের লড়াইও দারুণ জমে উঠেছিল। কিন্তু তাতে যেন জল ঢেলে দেন আম্পায়ার।

১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা বাংলাদেশের ইনিংসের ৪র্থ ওভারটিই তাই যত আলোচনায়। ক্যারিবীয় পেসার ওশানে থমাসের করা ওভারের শেষ বলটি মিড অফে ক্যাচ তুলে নেন ব্যাটসম্যান লিটন দাস। কিন্তু তার আগেই সেটাকে নো ডাকেন আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বোলারের পা ভিতরেই ছিল।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption আম্পায়ার তানভীর আহমেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক

এ নিয়েই প্রতিবাদ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট। প্রায় ৯ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।

একই ওভারে আরেকটা বৈধ ডেলিভারিকে নো বল দিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন ঐ একই আম্পায়ার।

কিন্তু ক্রিকেটাররা যেরকম জরিমানার শিকার হন, আম্পায়ারদের জন্য তাৎক্ষণিক এরকম কোন ব্যবস্থা নেই। তবে তাঁদের পারফরম্যান্সও যে বিচার করা হয় সেটা জানাচ্ছিলেন বিসিবির আম্পায়ার্স চিফ কোচ এনামুল হক মনি।

"প্রতি ম্যাচে আম্পায়ারদের জন্য একজন লোকাল ও একজন আন্তর্জাতিক কোচ থাকেন। এই ম্যাচে লোকাল কোচ হিসেবে আমি ছিলাম। আমরা আমাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখি ও তাঁদের সেটা বলি।''

আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে কোন দলের অসন্তুষ্টি থাকলে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক যে প্রতিবেদন জমা দেন তাতে সেটা উঠে আসে।

ছবির কপিরাইট WICB
Image caption সিরিজজুড়েই আম্পায়ারিং নিয়ে অসন্তুষ্টি জানান ব্রাথওয়েট

"ক্যাপ্টেন্স রিপোর্ট কনফিডেনশিয়াল, সে আনহ্যাপি হলে অবশ্যই লিখবে। ম্যাচ রেফারিও একটা রিপোর্ট লিখবে। সেটা ঐ আম্পায়ার পাবে, আইসিসিতে যাবে। এরপর সেই অনুযায়ী আম্পায়ার তার উন্নতির জন্য কাজ করবে।"

এক্ষেত্রে দেখভালের দায়িত্বটা পালন করতে হয় এনামুল হক মনির মতে লোকাল কোচদেরই। নিজে খেলা থেকে অবসরের পর বাংলাদেশের ১ম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে এক দশক আন্তর্জাতিক আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এখন তার উত্তরসূরীদের কেমন দেখছেন সাবেক এ ক্রিকেটার।

"দেখুন আমার পর যারা এসেছে সবাই ভালো করছে। এ দুজন মাত্রই আইসিসি প্যানেলে ঢুকেছে।"

তিনি বলেন, "তানভীরের এই সিরিজেই অভিষেক হল। হয়তো বাংলাদেশে তাঁরা অভিজ্ঞ, কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নেই। তার উপর এটা ডে-নাইট টেলিভাইজড ম্যাচ, হাইভোল্টেজ সিরিজ ডিসাইডার, প্রেশার ছিল অনেক।"

"তবে আম্পায়ারকে আসলে যাচাই করা হয় তখনই, এমন নয় যে তার কাজ শুধু বল কাউন্ট করা বা আউট হল কি হল না সেটা দেখা, বরং এরকম পরিস্থিতি হলে সে কিভাবে সামাল দিচ্ছে, ল-রুলস কিভাবে প্রয়োগ করছে - সেটাই তার বিচক্ষণতার পরিচয়।"

ছবির কপিরাইট Tom Shaw
Image caption বিসিবির আম্পায়ার্স চিফ কোচ এনামুল হক মনি

পূর্ণ সদস্য দেশগুলো থেকে একাধিক আম্পায়ার নিয়ে প্রতিবছর প্যানেল তালিকা প্রস্তুত করে আইসিসি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আম্পায়ার ঠিক হয় বিসিবির সুপারিশেই।

কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয় প্রায়ই।

এখন তাই প্রশ্ন উঠছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো কি কোনভাবে আম্পায়ারিংয়ের মান কমিয়ে দিচ্ছে?

এনামুল হক মনির উত্তর-"অবশ্যই। দেখুন আমি টপ লেভেলে ক্রিকেট খেলে টপ লেভেলে আম্পায়ারিং করেছি। আর এখানেও ঘরোয়া ক্রিকেটটাই হল অনুশীলনের জায়গা।"

"তো আপনি যদি ভালো প্রাকটিস করতে না পারেন, পরিচ্ছন্নভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে না পারেন, তাহলে তো ডেভেলপ হবে না। আমাদের ডমেস্টিকে যেসব বাধা আছে সেগুলো ওভারকাম না হলে তার প্রভাব পড়বেই।"

এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট সম্প্রচার না হওয়াও একটা কারণ হিসেবে দেখছেন এনামুল হক। তবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই আম্পায়ারদের সেরাটা বের করে আনার তাগিদ তাঁর।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: 'পর্যবেক্ষণ এইভাবে কখনো নিরুৎসাহিত করা হয়নি'

মাশরাফির নির্বাচন: বিসিবি'র কোনো বাধানিষেধ আছে?

খেলার মাঠে যেসব মুহূর্ত অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য