প্রিয়া সাহা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত

প্রিয়া সাহা। ছবির কপিরাইট Youtube
Image caption প্রিয়া সাহা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সাহায্য চাওয়ার পর প্রিয়া সাহাকে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার সংগঠনের স্থায়ী কমিটির জরুরী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রান দাশগুপ্ত বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কাজের জন্য তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি মনে করেন, দেশের বাইরে আরেকটি রাষ্ট্রের প্রধানের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রিয়া সাহা সংগঠনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কাজ করেছেন এবং এতেই তাদের প্রধান আপত্তি।

প্রিয়া সাহা ওয়াশিংটনে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর এক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ১৭ই জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশ থেকে প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়ে গেছে।

প্রিয়া সাহা আরো বলেছেন, মৌলবাদী মুসলিম গ্রুপগুলো গ্রামের বাড়িতে তার জমি দখল করে নিয়েছে। বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এসব অভিযোগ তোলার পর তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এবিষয়ে সাহায্য চান।

আরো পড়তে পারেন:

ট্রাম্পকে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহার অভিযোগ কতটা আমলে নিতে পারেন ট্রাম্প

'প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে'

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী: কমছে নাকি বাড়ছে?

ছবির কপিরাইট Facebook
Image caption হোয়াইট হাইজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলছেন প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহাকে বরখাস্ত করার ব্যাপারে রানা দাশগুপ্ত বলেন, "আমাদের সংগঠন থেকে ওয়াশিংটনের সম্মেলনে তিনজন প্রতিনিধি গিয়েছিলেন। এর বাইরে আর কোন প্রতিনিধি ছিলেন না। হঠাৎ করেই আমরা জানতে পারলাম আমাদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা আমেরিকায় গেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন।"

"এ দুটো বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না। আমেরিকায় যাওয়ার আগে এবিষয়ে সাংগঠনিকভাবে তিনি আমাদের কিছু জানান নি। একারণে আমরা এটিকে সংগঠনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখতে চাই।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার এসব অভিযোগের একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে সোশাল মিডিয়াতে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। একে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সরকারের মন্ত্রীরাও প্রিয়া সাহার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। পরে সরকারি দলের নেতা ওবায়দুল কাদের জানান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা বলেছেন।

তারপর মন্ত্রীরা এবিষয়ে তাদের সুর বদলে ফেলেন।

সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করে যে সংগঠনটি তার একজন নেতা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরলে সেটা কিভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কাজ হয়- জানতে চাইলে রানা দাশগুপ্ত বলেন, "আমরা দেশের ভেতরেই এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমরা কখনো মনে করি না পৃথিবীর অন্য রাষ্ট্রের যারা কর্ণধার তাদের কাছে সমস্যা তুলে ধরলে তার সমাধান হবে না।"

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা যা বলেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত মত। কিন্তু তারপরেও তিনি যেহেতু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক, সেকারণে তারা তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরো পড়তে পারেন:

বরগুনা হত্যাকাণ্ড: মাদক, রাজনীতি আর ক্ষমতার চক্র

গুজব ঠেকাতে সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখছে পুলিশ

ইসরায়েলে হাজার বছরের পুরনো মসজিদ