যৌনতার বিনিময়ে বাড়ি ভাড়া দিতে চাইছেন যুক্তরাজ্যের কিছু বাড়ি মালিক

শেয়ার করুন Email শেয়ার করুন ফেসবুক শেয়ার করুন টুইটার শেয়ার করুন হোয়াটসঅ্যাপ

Image caption যৌনতার বিনিময়ে বাড়ি ভাড়া দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, এমন দুজনের সঙ্গে ভাড়াটিয়া সেজে দেখা করেন বিবিসির সংবাদদাতা। তখন তাকে বলা হয়, সপ্তাহে অন্তত একটি যৌনতার বিনিময়ে বাড়ি ভাড়া দেয়া হতে পারে

বিবিসির একটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, যুক্তরাজ্যের কোন কোন বাড়ি মালিকরা যৌনতার বিনিময়ে বাসা ভাড়া দিতে চাইছেন। সেই সঙ্গে তাদের বিনামূল্যের ইউটিলিটি আর ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগও থাকছে।

অনলাইনে দেয়া এরকম বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের খোঁজ পেয়েছে বিবিসি এবং ছদ্মবেশে বিজ্ঞাপনদাতা কয়েকজনের সাক্ষাৎকারও নিয়েছে।

কিভাবে বাড়ি ভাড়া করতে গিয়ে মেয়েরা হয়রানি ও অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে, সেটি প্রকাশ করতে ওই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগ বলছে, এটা পুরোপুরি অবৈধ। এ রকম বিজ্ঞাপন দেয়াটাও আইন বিরোধী যার জন্য সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

কিন্তু তারপরেও এরকম ঘটনা ঘটছে।

যে দুজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসির ইনসাইড আওয়ার ওয়েস্ট প্রোগ্রামের সংবাদদাতা, তারা দুজনেই ব্রিস্টলে থাকেন।

বিজ্ঞাপনে তারা বাড়ি ভাড়া মওকুফের পাশাপাশি বিল দেয়া, এমনকি অন্যান্য খরচ দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শর্ত একটাই, সপ্তাহে অন্তত একদিন তাদের সঙ্গে বিছানায় যেতে হবে।

বাড়ি ভাড়া নিতে ইচ্ছুক এমন একজন নারী হিসাবে তাদের সঙ্গে একটি বারে দেখা করেন বিবিসির সংবাদদাতা।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

নতুন মাদক 'খাট': মানবদেহের জন্য কতোটা ভয়াবহ

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে পৃথিবী বাঁচাবেন যেভাবে

Image caption অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও যৌনতার বিনিময়ে বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাব দিয়ে অনেক বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে অনলাইনে

মাইক নামের একজন বাড়ি মালিক ছদ্মবেশী সাংবাদিককে বলেন, তিনি দুই বেডরুমের একটি চমৎকার বাড়ি পেতে পারেন, যেখানে সব কিছুই থাকবে। যতদিন তিনি ''বন্ধুত্বে সুবিধার সম্পর্ক'' বজায় রাখবেন।

এই সুবিধা বলতে তিনি বোঝান, সপ্তাহে অন্তত একদিন তার সঙ্গে বিছানায় যেতে হবে।

তবে এই প্রোগ্রামের কথা জানার পর মাইক দাবি করেন, তিনি একজন বাড়ি মালিক হিসাবে ভান করেছিলেন কারণ, তিনি যুক্তরাজ্যে মেয়েদের হয়রানির ওপর গবেষণা করছেন।

টম নামের আরেকজন মালিক, যার বয়স ৬০ বছর, বিবিসির ছদ্মবেশী নারী সাংবাদিককে বলেন, তিনি যদি তার ফ্লাটে উঠে আসেন, তাহলে ভাড়া তো দিতেই হবে না। সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন।

তবে যখন তাকে জানানো হয় যে, বিবিসির ক্যামেরায় এসব রেকর্ড করা হয়েছে, তিনি কোন জবাব দিতে রাজি হননি।

অনলাইনে এরকম আরো বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।

একটি বিজ্ঞাপনে একজন লিখেছেন, হাই, আমি ৩৫ বছরের একজন পুরুষ। আমার নিজের বাড়ি আছে যেখানে বাড়তি একটি রুম আছে। আমি একজন নারী ভাড়াটিয়া চাই, তার সেবার ওপর ভাড়া নাও লাগতে পারে। একটি ছবি এবং আপনার সম্পর্কে কিছু তথ্যসহ যোগাযোগ করুন।

যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগ বলছে, এটা পুরোপুরি অবৈধ। এ রকম বিজ্ঞাপন দেয়াটাও আইন বিরোধী যার জন্য সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

কিন্তু এরকম বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য কাউকে বিচারের ঘটনা ঘটেনি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

বাংলাদেশেই সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে 'অতি ধনীর' সংখ্যা

আসামের 'অবৈধদের' বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি

কে এই যাত্রী কল্যাণের মোজাম্মেল চৌধুরী?