প্রসঙ্গ: নৌ দুর্ঘটনা

The panelists

প্যানেল সদস্যরা (বাঁ থেকে): বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, কবির হোসেন চৌধুরী, উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা, সুলতানা কামাল এবং শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ।

এবারের বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন ছিলো সিলেটে গত ৫ই ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় এবারের সংলাপের প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ কবির হোসেন চৌধুরী এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। আমন্ত্রিত দর্শকরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সময় যে লিখিত প্রশ্নগুলো জমা দেন প্রতিবারের মতো তা থেকেই বাছাই করে নেয়া হয় এবারের বাংলাদেশ সংলাপের প্রশ্ন সমূহ। প্যানেল সদস্যরা উত্থাপিত প্রশ্নের উপর তাৎক্ষনিকভাবে তাদের বক্তব্য কিংবা মতামত দেন। সেই সাথে উপস্থিত অন্য দর্শকরাও সেইসব প্রশ্নের উপর বিভিন্ন মতামত প্রদানের এবং সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

এবারের সংলাপের প্রথম প্রশ্ন করেন আব্দুল জলিল। তিনি জানতে চান: লঞ্চঘাটে কর্তৃপক্ষ থাকা সত্ত্বেও কেন অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে সাধারন মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দেয়া হয়?

বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই বলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি বলেন, দেশে আইনের সরাসরি প্রয়োগ সম্ভব হয় না। তিনি মনে করেন, শুধু বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে নয়, বরং সবসময় লঞ্চ আইনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে লঞ্চ আইন থাকলেও এর যথার্থ প্রয়োগ নেই।

সুলতানা কামাল বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে এর অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক দিকগুলির কথা উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে অনেক সময় আইন না মেনে চলার প্রবণতা দেখা যায়। এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, লঞ্চের মালিকপক্ষের পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকে। তিনি বলেন, লঞ্চে যারা অতিরিক্ত যাত্রী বহন তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

এ সময় একজন দর্শক জানতে চান: গত ২৯ বছরে প্রায় ৫০০ লঞ্চ দূর্ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এর মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও আলোর মুখ দেখেনি কেন?

দর্শকদের মধ্যে আরেকজন বলেন, দেশে লঞ্চ দূর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট আইন থাকলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় দুর্বল।

আরেকজন দর্শক মতামত দেন, লঞ্চ দূর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টরা যে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায় সেটিই মূলত লঞ্চ দূর্ঘটনার প্রধান কারণ।

দর্শকদের আরেকজন এ বিষয়ে বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, এ দেশে যাত্রী অনেক বেশী কিন্তু সামর্থ্য অনেক কম। এ সমস্যা রোধে তিনি যাত্রীবাহী জলযানের সংখ্যা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি মনে করেন, এটি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর হওয়া উচিত। তিনি বলেন, লঞ্চ দূর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনগুলি আলোর মুখ দেখলে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা গেলে লঞ্চ দূর্ঘটনার হার কমে যেত। তিনি জানান, লঞ্চ দূর্ঘটনার জন্য নৌ-যান মালিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের না করে নৌ-যান কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে এবং দূর্ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

কবির হোসেন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, লঞ্চ দূর্ঘটনা নিছক কোন দূর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তিনি দূর্ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান৻ তিনি আরও বলেন, নৌ-যান দূর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন ও পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরী। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, বিভিন্ন উৎসবের সময়ে যাত্রীবাহী বৈধ নৌ-যানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সুলতানা কামাল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এ দেশে লঞ্চ দূর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের কাউকেই এখন পর্যন্ত শাস্তির মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।

হাসিনা মমতাজ ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তিনি জানতে চান: রাজনৈতিক দলেরগুলির কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ফলে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে সাধারন জনগন কিভাবে উপকৃত হচ্ছে?

প্রথমেই এ প্রশ্নের জবাব দেন মি শাহরিয়ার। তিনি বলেন, দলে সঠিক দিক নির্দেশনার জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে নের্তৃত্ব সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে নের্তৃত্ব সৃষ্টি করা গেলে জনগনই সবচেয়ে উপকৃত হবে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, বিএনপি’র আসন্ন কাউন্সিলে তৃণমূল পর্যায় থেকে নের্তৃত্ব সৃষ্টির দিকে জোর দেয়া হচ্ছে।

মি চৌধুরী এ বিষয়ে বলতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নের্তৃত্ব নির্বাচনের সকল স্তরেই গণতন্ত্রের সুষ্ঠু প্রতিফলন থাকা উচিত।

এ সময় একজন দর্শক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির কাউন্সিল নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলে দেশের গণতন্ত্র আরও বিকশিত হবে।

দর্শকদের আরেকজন বলেন, দেশের কোন রাজনৈতিক দলের মধ্যেই গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা নেই।

সুলতানা কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, নিয়মিত কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে গণতন্ত্র বিকাশে অনীহা দেখা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলি তাদের কাউন্সিলের প্রক্রিয়াগুলিকে আরও বেশী গণতন্ত্রায়নের দিকে নিয়ে যাবে।

মি কামরান এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জানান, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু প্রতিফলন হয়েছে। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে জনগনই সবচেয়ে উপকৃত হবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সকল স্তরের নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে।

মি শাহরিয়ার এ প্রসঙ্গে আরও যোগ করতে গিয়ে বলেন, বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়ার সমকক্ষ কেউ নেই বলেই তিনি বারবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নির্বাচিত হন।

সুলতানা কামাল এ বিষয়ে আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি এখনও ব্যক্তি কেন্দ্রিক রয়ে গিয়েছে যেটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। তিনি বলেন, বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে বিষয়টি কিছুটা মেনে নেয়া গেলেও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নেতৃত্বের সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

রওশন আরা মুকুল আলী ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তার জিজ্ঞাসা ছিলো, কবে নাগাদ উপজেলা চেয়ারম্যানদের সক্রিয়ভাবে দেখা যাবে৻

বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে সুলতানা কামাল প্রথমেই বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন আছে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত।

মি কামরান এ প্রসঙ্গে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে না পারার বিষয়টি ঠিক নয়। তিনি মনে করেন, স্থানীয় সরকার যতবেশী শক্তিশালী হবে, সাধারণ জনগন ততবেশী উপকৃত হবে। তিনি জানান, খুব শিগগিরই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানদের এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের অধিক শক্তিশালী করা হবে।

এ সময় একজন দর্শক জানতে চান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের পরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের ফলে জনগন যে ভোগন্তির শিকার হচ্ছে এর জন্য দায়ী কে৻

দর্শকদের মধ্যে আরেকজন বলেন, দলীয়করণের দ্বন্দ্ব নিরসনের কারণেই সাংসদরা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে উৎসাহী নন।

আরেকজন দর্শক বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারের সদিচ্ছার অভাব আছে।

এ বিষয়ে মি চৌধুরী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্যই সাংসদরা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সাংসদেরা স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা থাকলে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে। তিনি জানান, সংবিধানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন বিষয় একাধিক অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে সক্রিয় করবেন।

বিষয়টিকে মি শাহরিয়ার রাজনৈতিকভাবে দেখার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের সদস্যদের সিংহভাগই সরকারী দলের অনুসারী নয় বলেই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের জন্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বিএনপি’র সময়ে স্থানীয় সরকার এবং সাংসদদের মধ্যে মত-পার্থক্যের কারণে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিতই হয়নি। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিরসনের জন্য দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতায় আসতে হবে।

মি কামরান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখা ঠিক নয়। তিনি মনে করেন, স্থানীয় সাংসদরা উপজেলা চেয়ারম্যানদেরি উপদেষ্টা হিসেবে থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

এবারের বাংলাদেশ সংলাপের সর্বশেষ প্রশ্নকারী ছিলেন ছিলেন উত্তম কুমার দাস। তিনি জানতে চান, প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেটকে রক্ষার জন্য কি পদেক্ষেপ নেয়া উচিত৻

মি চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে দল মত নির্বিশেষে এর সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি মনে করেন, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটবাসী পরিবেশসহ বিভিন্ন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আসন্ন ভারত সফরে দেশের অন্যান্য ইস্যুর সাথে টিপাইমুখ ইস্যুটিও ভারতের কাছে জোরালো ভাবে তুলে ধরবেন।

সুলতানা কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, টিপাইমুখ ইস্যু নিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের একটি সুদৃঢ় সমঝোতায় আসা উচিত। তিনি মনে করেন, প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উপর এর কি প্রভাব পড়বে এবং সেটি রোধে ভারত কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে এটি নিয়ে ভারতের সাথে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া উচিত।

মি চৌধুরী এ বিষয়ে বলছেন, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের খুব সুদৃঢ় একটি অবস্থান নিতে হবে।

এ সময় একজন দর্শক মি কামরানের কাছে জানতে চান, টিপাইমুখে আদৌ কোন বাঁধ দেয়া হচ্ছে কিনা৻

আরেকজন দর্শক বলেন, টিপাইমুখ সংক্রান্ত ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞর মতামত নিতে হবে।

দর্শকদের একজন বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ সিলেটের জন্য একটি মরণফাঁদ।

মি শাহরিয়ার এই প্রসঙ্গে বলেন, টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট মরুভূমিতে পরিণত হবে। তিনি মনে করেন, এটি থেকে বাঁচতে হলে সিলেটকে আন্দোলনে যেতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টিকে জাতীয়ভাবে চিন্তা করতে হবে এবং সরকারকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মি কামরান এ বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রথমেই অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলকে আহবান করলেও বিরোধী দল সরকারের এ আহবানে সাড়া দেন নি। তিনিও মনে করেন, টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেটি সিলেটের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তিনি টিপাইমুখের মতো জাতীয় ইস্যুতে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে একই প্লাটফর্মে দাঁড়ানোর আহবান জানান। সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের নের্তৃত্বেই টিপাইমুখ সমস্যার সমাধান হবে।

অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় গত ৬ই ডিসেম্বর, ২০০৯ প্রবাহ অধিবেশনে

বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ