ক্রসফায়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত প্রিয়?

প্যানেল সদস্যরা বাঁ থেকে): তালুকদার আব্দুল খালেক, মুনীর আহমেদ, উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা, ফৈরদৌসী আলী এবং নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

এবারের বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন ছিলো খুলনায় গত ১৪ই নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় জিয়া হলে আয়োজিত এবারের সংলাপের প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা নগর বিএনপি’র আহবায়ক এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা চেম্বারস্ অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট মুনীর আহমেদ এবং দৈনিক পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফৈরদৌসী আলী। আমন্ত্রিত দর্শকরা মিলনায়তনে প্রবেশের সময় যে লিখিত প্রশ্নগুলো জমা দেন প্রতিবারের মতো তা থেকেই বাছাই করে নেয়া হয় এবারের বাংলাদেশ সংলাপের প্রশ্ন সমূহ। প্যানেল সদস্যরা উত্থাপিত প্রশ্নের উপর তাৎক্ষনিকভাবে তাদের বক্তব্য কিংবা মতামত দেন। সেই সাথে উপস্থিত অন্য দর্শকরাও সেইসব প্রশ্নের উপর বিভিন্ন মতামত প্রদানের এবং সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

এবারের সংলাপের প্রথম প্রশ্ন করেন মুকুল সরদার। তিনি জানতে চান, সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের উপর বোমা হামলার সাথে সেনা কর্মকর্তাদের কথিত সম্পৃক্ততা কিসের ইঙ্গিত বহন করছে?

বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই বলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ফজলে নূর তাপসের উপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বিধায় তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

মুনীর আহমেদও মি তাপসের উপর বোমা হামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

এসময় একজন দর্শক মনে করেন, মি তাপসের উপর বোমা হামলার সাথে সেনাসদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুন্ঠিত হবে।

দর্শকদের মধ্যে আরেকজন মত দেন, তদন্তাধীন অবস্থায় মি তাপসের উপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলে সেটি ঘটনার তদন্ত কাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

দর্শকদের আরেকজন আশা প্রকাশ করেন, সরকার মি তাপসের উপর বোমা হামলা ঘটনার তদন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করবে।

ফৈরদৌসী আলী এ প্রসংগে বলেন, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্ন ভাষ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে, ফলে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়। তিনি এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তালুকদার আব্দুল খালেকও তদন্তাধীন কোন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার মি তাপসের উপর সন্ত্রাসী হামলার নিরপেক্ষ তদন্তে নিশ্চিত করবে।

মো হাসানুজ্জামান ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সংসদ উপনেতার পুত্রকে দুর্নীতি মামলায় প্রাপ্ত ১৮ বছরের সাজা থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। তিনি জানতে চান এ ঘটনার ফলে দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করা হলো কিনা?

মি মঞ্জু এ প্রসংগে বলতে গিয়ে মনে করেন, সংসদ উপনেতার পুত্রকে দুর্নীতি মামলার সাজা থেকে অব্যহতি দেয়ার আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা উচিত ছিলো। তিনি আরও মনে করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক লেবাসের ভিত্তিতে ঢালাওভাবে কোন মামলা প্রত্যাহার করা হলে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হবে।

এ সময় একজন দর্শক জানতে চান, সংসদ উপনেতার সাজাপ্রাপ্ত পুত্র কিভাবে জেলে না গিয়েই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেলেন?

আরেকজন দর্শক রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দুর্নীতির মামলা থেকে সংসদ উপনেতার পুত্রকে অব্যহতি দেয়ার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।

দর্শকদের আরেকজন কাছে জানতে চান, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দুর্নীতির সাজা মওকুফের ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি এক ধরণের আস্থাহীনতা প্রকাশ পেল কিনা?

এ বিষয়ে মি খালেক জানান, সংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে নিঃশর্ত ক্ষমা ঘোষনা করতে পারেন। একই সাথে তিনি মনে করেন, কোন মামলার সাজা ক্ষমা ঘোষনার আগে সেই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিনা সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। দর্শকদের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা থেকে রাষ্ট্রপতি কাউকে অব্যহতি দিলে এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ পায় না।

ফৈরদৌসী আলী এ প্রসংগে জানান, রাষ্ট্রপতি যৌক্তিক মনে করলে যেকোন সাজা মওকুফ করার ক্ষমতা রাখেন।

গণেশ কুমার মল্লিক ছিলেন পরবর্তী প্রশ্নকর্তা। তার জিজ্ঞাসা ছিলো, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে কি করণীয়?

প্রথমেই ফৈরদৌসী আলী এ বিষয়ে মনে করেন, সন্ত্রাস দমনের জন্য জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকার এবং জনগনের সমন্বিত ভূমিকা পালন করা উচিত।

মি আহমেদ বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সন্ত্রাস কিছুটা কমেছে। তিনিও সন্ত্রাস দমনে ঐক্য এবং জনসচেতনতার প্রতি গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, জনগনের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সরকার দল ও বিরোধী দলের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

এ সময় একজন দর্শক জানতে চান, সন্ত্রাস দমনের জন্য সরকার ক্রসফায়ারের বিকল্প কোন ব্যবস্থার কথা ভাববেন কিনা? দর্শকদের মধ্যে আরেকজন মনে করেন, সন্ত্রাস দমনের জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি করতে হবে।

আরেকজন দর্শক মনে করেন, সন্ত্রাসের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে এর মূলে আঘাত করতে পারলে সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হবে।

মি মঞ্জু এ প্রসংগে বলতে গিয়ে মনে করেন, বর্তমান সরকার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি পূরণ করতে পারেন নি। সন্ত্রাস দমনে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও মনে করেন, সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় রাজনৈতিক সচেতনতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে বলতে গিয়ে মি খালেক মনে করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস লালন-পালন করা হলে সন্ত্রাস নির্মূল করা কঠিন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস লালন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি মনে করেন, মানবাধিকারের লঙ্ঘন হলেও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে সন্ত্রাস দমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগনের কাছে ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। তিনিও মনে করেন, সন্ত্রাস দমনে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন।

মি আহমেদ এ প্রসংগে আরও যোগ করতে গিয়ে বলেন, মানবাধিকার মানুষের জন্য প্রযোজ্য কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রসফায়ারে সে সকল সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে তারা মানুষ নামধারী দানব। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের দৌরাত্মের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিবাসীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছিলো। সেই সাথে তিনি মনে করেন, ক্রসফায়ার চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনমনে স্বস্তি এবং নিরাপত্তাবোধ ফিরে এসেছে।

ফৈরদৌসী আলী দেশের দক্ষিণাঞ্চালের সন্ত্রাসের উদাহরণ দিতে গিয়ে জানান, দক্ষিণাঞ্চলের ১৮ জন সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন।

মি মঞ্জু এ বিষয়ে আরও যোগ করতে গিয়ে বলেন, ক্রসফায়ার নির্ভরতা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগনের আস্থাহীনতা বাড়াবে। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ সময় প্রশ্নকর্তা গণেশ কুমার মল্লিক মনে করেন, প্যানেল সদস্যরা সংলাপে এসে যে মতামত দিয়েছেন পরবর্তীতে সেটির প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

এরপর প্রশ্নকারী ছিলেন মো রকিবুল হাসান। তার জিজ্ঞাসা ছিলো, শিল্পনগরী খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলি চালু করার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা?

মি খালেক এ বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রথমেই অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে খুলনার কল-কারখানাগুলি বিলুপ্ত হতে বসেছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলি পুনরায় চালু করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতাসীন সময়ের মধ্যেই খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলি পুণরায় চালু হবে।

মি আহমেদ এ প্রসংগে জানান, খুলনার শিল্প কারখানাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকে ধুঁকে বন্ধ হয়েছে। তিনি মনে করেন, খুলনার উন্নয়নের জন্য খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলি চালু করার পাশাপাশি সেগুলি স্থায়ীভাবে সচল রাখার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

এ সময় দর্শকদের একজন খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা পুণরায় চালুর বিষয়ে মি খালেকের আশ্বাসের উপর আস্থা প্রকাশ করেন।

আরেকজন দর্শক মনে করেন, ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে খুলনার বন্ধ হয়ে হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলি চালু করা সম্ভব নয়।

দর্শকদের একজন মনে করেন, খুলনার কল-কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে প্রশাসন দায়ী থাকলেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ।

একজন দর্শক তার মতামত দিতে গিয়ে অভিযোগ করেন, সরকারি পাটকলগুলিতে যে কাঁচামাল কেনা হয় তা খুবই নিন্মমানের।

দর্শকদের আরেকজন মনে করেন, বহিরাগত অসাধু কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণেই খুলনার পাটকলগুলির আজ এ বেহাল দশা।

ফৈরদৌসী আলী এ প্রসংগে বলতে গিয়ে বলেন, খুলনার কল-কারখানাগুলি বন্ধ হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাস এবং মাদকাসক্তির পরিমাণ আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। তিনি মনে করেন, সন্ত্রাস এবং মাদকের কবল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগনকে রক্ষা করার জন্য খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানগুলি অবিলম্বে চালু করা প্রয়োজন।

মি মঞ্জু এই প্রসঙ্গে মনে করেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছে। তিনি এর কারণ হিসেবে দায়ী করেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বের দুর্বলতাকে। এর পাশাপাশি তিনি মনে করেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলি চালুর পাশাপাশি খুলনায় শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করতে হবে।

মি খালেক এ প্রসংগে আরও যোগ করতে গিয়ে মনে করেন, খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানাগুলি পুণরায় চালু করতে হলে শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। মি মঞ্জুর মতামতের প্রসংগে তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে মংলা বন্দরের কার্যক্রম শুরু করেছে, এবং খুলনার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার সরকারের বর্তমান মেয়াদকালের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

এরপর প্রশ্নকারী ছিলেন সীমা রায়। তিনি জানতে চান, সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কোন আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন আছে কিনা?

এ প্রসংগে ফৈরদৌসী আলী মনে করেন, সংসদে আইন প্রণয়ন করা না হলে পিতার সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মি আহমেদ মনে করেন, সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা উচিত।

এ সময় একজন দর্শক মনে করেন, সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

আরেকজন দর্শক মনে করেন, ‘ইউনিফরম্ ফ্যামিলি কোড’ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সকল নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দর্শকদের একজন মনে করেন, সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার বিষয়ক আইন প্রণয়ন করা হলে দেশে হিন্দু নারী নির্যাতনের হার অনেক কমে যাবে।

মি খালেক এ প্রসংগে মনে করেন, সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার বিষয়ক আইনটি সংসদে পাশ হওয়া উচিত।

মি মঞ্জুও এ বিষয়ে মনে করেন, নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের সমান অধিকার বিষয়ক আইনটি প্রণয়ন হওয়া দরকার।

এবারের বাংলাদেশ সংলাপের সর্বশেষ প্রশ্নকারী ছিলেন কামরুজ্জামান। তিনি জানতে চান ঘড়ির কাঁটা না পেছানোর সরকারি সিদ্ধান্তে সাধারণ জনগন উপকৃত হচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

মি খালেক এ প্রসংগে মনে করেন, ঘড়ির কাঁটাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে না নেয়ার ফলে সাধারণ জনগন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না।

তবে মি আহমেদ এ প্রসংগে মি খালেকের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।

ফৈরদৌসী আলী মনে করেন, ঘড়ির কাঁটার বর্তমান পরিবর্তনের সাথে সাধারণ জনগন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী শীতকালীন সময়ে শুধুমাত্র স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ঘড়ির কাঁটাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিলে এ সংক্রান্ত আর কোন বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবে না।

মি মঞ্জু মনে করেন, ঘড়ির কাঁটাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে না নেয়ার ফলে দেশবাসী বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। সবশেষে তিনি মনে করেন, ঘড়ির কাঁটার সময়সূচী পরিবর্তনের আগে জনগনের মতামত নেয়া উচিত।

অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় গত ১৫ই নভেম্বর, ২০০৯ প্রবাহ অধিবেশনে

বাংলাদেশ সংলাপ প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ