তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক

প্রতি সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত বিষয়াবলী নিয়ে আয়োজিত ‘সংসদ এ সপ্তাহে’ এর এবারের পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় গত ৩রা জুলাই, ২০০৯ তারিখে। আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় সংসদ এ সপ্তাহের এবারের আয়োজনে অতিথি হিসেবে স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি’র সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন তালুকদার এবং বিশ্লেষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা চলতি সপ্তাহে সংসদে আলোচিত বিষয়াবলী ছাড়াও বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে এ সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তাদের বক্তব্য, মতামত প্রদান করেন এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাহামুদুল করিম চঞ্চলের একটি প্রতিবেদন দিয়ে। এবারের প্রতিবেদনটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার (১৯৯৬ সালের) পরে বঙ্গভবনের ভূমিকা বাড়লেও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ায় (২০০৬ সালে) এর (বঙ্গভবন) ভূমিকা বিতর্কিত হয় এবং ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার টানা দুই বছর (২০০৭-২০০৯ সাল পর্যন্ত) ক্ষমতায় থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয় বিগত সংসদ নির্বাচনের পর (২০০৮ সাল) সংসদ সদস্যরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্বন্ধে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মনে করেন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে পুণ:গঠন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ সাধনকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আরেকটি জরুরী অবস্থার ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না।“

প্রতিবেদনে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার সময়ে (১৯৯৬ সালে) সন্তুষ্ট না হলেও, বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে যতোই শক্তিশালী করা হোক না কেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আরও ২/৩টি মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষেই বেশী জনমত দেখা যায়। সাধারণ জনগণের মধ্যে একজন বলেছেন, আরও ১৫ থেকে ২০ বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু থাকা উচিত। আরেকজন বলছেন, মেয়াদ পূর্তির পরপরই সরকারী দল নির্বাচন দিলে ঐ নির্বাচনে তাদের (সরকারী দলের) প্রভাব থাকে। এসময় আরেকজন নাগরিক জানান তিনি মনে করেন, দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল যদি একে অপরের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে তাহলে এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই।

প্রতিবেদনের শেষ প্রান্তে প্রতিবেদক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে এদেশের রাজনীতিকরা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। সবশেষে প্রতিবেদক জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও রাজনীতিবিদদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস অর্জিত হয়নি।

প্রতিবেদনের পরপরই আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দাবির প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হলেও এখন আওয়ামী লীগই কোন প্রেক্ষিতে এ সরকার পদ্ধতির বিরোধিতা করছে৻ এ প্রসংগে আব্দুর রাজ্জাক জানান, আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি তুলেছিল জাতীয় নির্বাচনকে সামরিক সরকারের প্রভাব মুক্ত রাখার জন্য। একইসাথে তিনি জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল ৩ মেয়াদের কথা মাথায় রেখে৻ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সেই ৩টি মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে।

আব্দুল মমিন তালুকদারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হওয়ার শুরুর দিকে বিএনপি এই সরকার ব্যবস্থার বিপক্ষে থাকলেও, এখন বিএনপি এ পদ্ধতি (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) বহাল রাখার পক্ষে কথা বলছে কোন প্রেক্ষিতে৻ জবাবে আব্দুল মমিন তালুকদার বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ আন্দোলন করে এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে। একই সাথে তিনি মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা স্থাপিত না হলে কোন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। মি তালুকদারের কথার রেশ ধরে মি রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারার ক্ষমতা নিয়ে জনগণ আশ্বস্ত হবে কিভাবে৻ মি রাজ্জাক এর উত্তরে বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের জন্য জনগণ এ (তত্ত্বাবধায়ক) সরকার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়েছে।

এরপর মি তালুকদারের কাছে জানতে চাওয়া হয় নির্বাচন কমিশনকে যদি স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হয় তাহলে বিএনপি কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রশ্নটি বিএনপি কেন এত বড় করে দেখছেন৻ এ প্রশ্নের জবাবে মি তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা না হলে দলীয় সরকারের অধীনে এটি (নির্বাচন কমিশন) চাপের মুখে থাকবে। সরকার যদি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেন তাহলে বিএনপি কি পদক্ষেপ নিবে? এ প্রশ্নের জবাবে মি তালুকদার জানান, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেন তাহলে বিএনপি সংসদের ভিতরে এবং বাইরে এর বিরোধিতা করবে। বিএনপি এখন সংসদে অনুপস্থিত, এ ইস্যুতে তিনি জানান বিএনপি সংসদে যেতে চায় কিন্তু এজন্য সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

এরপর মি রাজ্জাকের কাছে জানতে চাওয়া হয় ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করবে কিনা৻ এ প্রশ্নের জবাবে মি রাজ্জাক জনতার দাবিকে অগ্রাহ্য করে সংবিধান সংশোধনের আশংকাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, জনতার উপর আস্থা রেখেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি জানান, সরকার নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী করে নির্বাচন পরিচালনা করতে চান। একই সাথে তিনি জানান বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করে থাকেন।

নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী করা প্রসংগে মি তালুকদারের মতামত জানতে চাইলে তিনি নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পক্ষে মতামত দেন।

এরপর ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদের বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে সংসদে এ সপ্তাহে আলোচিত বিষয়াবলীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি তুলে ধরা হয় ‘এ সপ্তাহের স্পট লাইট’ নামক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহ‌মদ সাম্প্রতিককালে সংসদে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে প্রণীত হতে যাওয়া শিক্ষানীতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান প্রণীত হতে যাওয়া শিক্ষানীতির ২/৩টি মূল বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে অন্তর্ভূক্তিমূলক (দেশের সকল শ্রেণীর মানুষকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে) নীতি। এই শিক্ষানীতিতে নৈতিকতা এবং দক্ষতা সৃষ্টিতে জোর দেয়ার পাশাপাশি শিক্ষকের প্রশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ থাকবে বলে তিনি জানান। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানান এই শিক্ষানীতি মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষাকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এরপরই মি. আহমদ আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে স্টুডিওতে যোগ দেন। সংসদে গত সপ্তাহে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে থেকে শিক্ষাকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে তিনি জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষার অপরিহার্যতা ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষানীতি প্রণীত না হওয়ার কারণে গত সপ্তাহে বিষয়টি (শিক্ষা) তেমন কোন আলোচনায় না এলেও তিনি একে (শিক্ষা) গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে অভিহিত করেন।

এরপর মি. তালুকদারের কাছে জানতে চাওয়া হয় চলতি সপ্তাহে সংসদের কোন বিষয়টি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে৻ এ প্রশ্নের জবাবে মি তালুকদার আওয়ামী লীগের সাংসদ সুরঞ্জিত সেনের একটি উক্তির কথা উল্লেখ করেন। (উল্লেখ্য, সুরঞ্জিত সেনের উক্তিটি ছিলো “যারা সংসদে আসেনা, তাদের পদত্যাগ করা উচিত।“) তিনি মনে করেন, সুরঞ্জিত সেনের মতে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের এরূপ মন্তব্য করা সঠিক হয়নি। মি তালুকদারের কথার প্রেক্ষিতে মি রাজ্জাক জানান, অতীত নিয়ে টানা হেঁচড়া না করে সংসদকে কার্যকর করার জন্য বিরোধী দলের সংসদে আসা উচিত। একই সাথে তিনি জানান, সংসদকে কার্যকর করার সদিচ্ছা বিরোধী দলের মাঝে নেই।

এরপর দেশের প্রধান দুটি বিরোধী দলের বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে মি. আহমদের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি মনে করেন জাতিকে শিক্ষিত করার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার এ ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব। তিনি আরও মনে করেন, দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনে দুটি দলেরই একযোগে এগিয়ে আসা উচিত। এছাড়া সংসদে সামনের সারিতে আসন বরাদ্ধ নিয়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যকার শীতলাবস্থার অবসান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এরপর মি তালুকদারের কাছে জানতে চাওয়া হয় সংসদে সামনের সারিতে আসন বরাদ্ধ সহ সামগ্রিকভাবে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও বিএনপি সংসদে যেতে প্রস্তুত কিনা৻ এ প্রশ্নের জবাবে মি তালুকদার জানান, বর্তমান সংসদে বিএনপিকে একটিও সন্মানজনক আসন দেয়া হয়নি। তিনি মনে করেন, বিএনপিকে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে বিবেচনা না করে সংখ্যার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকার কোন প্রকার ছাড় দিতে প্রস্তুত কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে মি রাজ্জাক বলেন, বিএনপি সংসদে উপস্থিত থেকে তাদের দাবিগুলি সংসদে উপস্থাপন করলে সরকার সেটি বিবেচনা করবে।

সবশেষে অতিথিদের সাথে স্টুডিওতে যোগ দেন প্রতিবেদক মাহামুদুল করিম চঞ্চল। সঞ্চালক তাঁর কাছে আগামী সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনে সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়গুলি জানতে চান৻

মি. চঞ্চল জানান, চলতি সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২টি গুরুত্বপূর্ণ বিলসহ যে ১৫টি বিল উত্থাপিত হয়েছে আগামী সপ্তাহের সংসদ অধিবেশনে তা পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মনে করেন উত্থাপিত বিলগুলির মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২টি বিল নিয়ে সাংসদরা আগামী সপ্তাহে সংসদ জমিয়ে তুলবেন।

অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় গত ৩রা জুলাই, ২০০৯ রাত সাড়ে দশটায়

সংসদ এ সপ্তাহে প্রযোজনা করেছেন ক্রেইগ স্কট