ঢাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প এভি ফরম্যাট চালান

প্রায় সোয়া কোটির বেশী মানুষের বাস রাজধানী ঢাকায়। শত শত বছরের পুরোনো এই শহরে সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন, তৈরি হওয়া বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সে বিষয়ে নগরবাসী এবং বিশেষজ্ঞের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি ধারাবাহিক আয়োজন ছিলো ‘ঢাকা সপ্তাহ’। ঢাকা সপ্তাহের এবারের পর্বটি সাজানো হয় ঢাকা শহরের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে। শুরুতেই ঢাকার পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা তুলে ধরা হয় মোকাররম হোসেনের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

ঢাকার বস্তি

পরিবেশ দূষন জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারন?

পানি প্রাপ্তির সমস্যা শুধু পরিমাণগত নয়, এটি কোয়ালিটিরও সমস্যা

মহিদুল হক

প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের পরিবেশ এবং ঢাকাবাসীর জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকা শহরের রাস্তায় গাড়ীর বিকট হর্ণ এবং কালো ধোঁয়া পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি রাস্তার পাশের ডাস্টবিন থেকে উপচে পড়া ময়লা পরিবেশে দূষিত করছে।

এ বিষয়ে কয়েকজন নগরবাসী মতামত দিতে গিয়ে জানান, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ বেঁচে থাকার জন্য একটি বিরাট হুমকি। তারা সবাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে করেন, বিভিন্ন দূষণের ফলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হয়।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের (এটি সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে) পরিচালক নাসির উদ্দীন জানান, পরিবেশ দূষণের ফলে শিশু, বৃদ্ধ এবং হৃদরোগীরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শীতকালে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক বেড়ে যার ফলে ঐ সময়ে পরিবেশ দূষণের নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনার স্তুপ পরিবেশের পাশাপাশি পানিও দূষিত করে থাকে।

প্রতিবেদনের পরপরই কয়েকজন ঢাকাবাসী ঢাকার পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সরাসরি মতামত, মন্তব্য প্রদান করেন। ঢাকার ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ থেকে এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন আকবর হোসেন।

এবারের পর্বে ধানমন্ডি ক্লাব মাঠে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংগঠন ‘বাপা’ এর সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক নাসরিন খান এবং রশিদী মাহবুব, এবং শরীফ জামিল, যিনি ঢাকা শহরের খেলার মাঠ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন।

প্রথমেই মি হকের কাছে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা শহরের পরিবেশ নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা কোনটি৻

হাসপালে রোগী

রোগমুক্তির আশায়

এখানকার বায়ু এবং শব্দ এতো দূষিত যে ঢাকা শহরকে এই ক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয় না এটি কোন বসবাসযোগ্য শহর

রশিদী মাহবুব

এ প্রশ্নের জবাবে মি হক বলেন, ঢাকা শহরের পরিবেশের নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। তিনি আরও মনে করেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশুদ্ধ এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

এ বিষয়ে মি মাহবুবের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বায়ু এবং শব্দ দূষণকে ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানে ঢাকা শহরে বায়ু এবং শব্দ দূষণের মাত্রা এতোই বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গিয়েছে।

এরপর নাসরিন খানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঢাকা শহরের পরিবেশ উন্নত করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করলেও ঢাকার পরিবেশ নিয়ে নগরবাসী এতো উদ্বিগ্ন কেন৻

এ প্রসংগে নাসরিন খান বলতে গিয়ে বলেন, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপই ঢাকা শহরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে। একইসাথে তিনি এও মনে করেন, ঢাকা শহরের জনসংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে সেটি বজায় থাকলে শহরের পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণের হার আনুপাতিক হারে বাড়তে থাকবে।

তবে তিনি মনে করেন জনগনের রাজধানীমুখী প্রবণতা রোধ করতে পারলে ঢাকা শহরের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এরপর মি জামিলের কাছে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা শহরের খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত পরিবেশের যে অভাব রয়েছে সে বিষয়টি তিনি কি ভাবে দেখছেন৻

এ প্রশ্নের জবাবে মি জামিল মনে করেন, জনসংখ্যা চাপের সাথে সঙ্গতি রেখে ঢাকাবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। এর ফলে ঢাকার মাঠগুলি যথেচ্ছ ব্যবহারের শিকার হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, সরকার ঢাকা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করলেও সেই কমিটি এখন পর্যন্ত কোন তালিকা প্রস্তুত করেনি। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কের তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অপারগতা প্রকাশ করেছে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন খেলার মাঠগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে মি জামিল জানান, পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য এবং নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামোর অভাবে ঢাকা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কগুলির সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এরপর মি হকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঢাকা শহরের পরিবেশ রক্ষার সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করছেন কিনা৻

মি হক জানান, পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ তারা সরকারের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, জনগনকে সাথে রেখে সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে না পারলে পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

এরপর মি মাহবুবের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শব্দ দূষণে রোধে সরকারের যে বিধিমালা প্রণয়ন করেছিলো সে বিষয়গুলি এখন কতটুকু মেনে চলা হচ্ছে৻

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

অনেকের ভরসা এই ঢাকা মেডিকেল

এর জবাবে মি মাহবুব অভিযোগ করেন, শব্দ দূষণ রোধে সরকার যে শব্দসীমা নির্ধারন করে দিয়েছিলো সেটি মেনে চলা হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, সমবেত সদিচ্ছার মাধ্যমে শব্দ দূষণ রোধ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে নাসরিন খান বলেন, শহরের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সরকারের আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এটি মেনে চলার ক্ষেত্রে জনগনকেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।

এরপর মি হকের কাছে জানতে চাওয়া হয় ২০২০ সালে ঢাকা শহরের ভবিষ্যতকে তিনি কিভাবে দেখেন৻

মি হক মনে করেন, বর্তমানের মতো পরিবেশ দূষণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। তিনি মনে করেন, ইতমধ্যেই ঢাকা শহর বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলে ওঠার ক্ষমতা হারিয়েছে।

এরপরই স্টুডিওতে ঢাকা সপ্তাহের সঞ্চালক সাবির মুস্তাফা এ সপ্তাহের অতিথি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে জানতে চান বায়ু দূষণ এবং শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর আসলেই নেতিবাচক কোন প্রভাব ফেলে কিনা৻

এ প্রশ্নের জবাবে মি চৌধুরী জানান, মানুষের স্বাস্থ্যের উপর যে বিষয়গুলি প্রভাব ফেলে তার মধ্যে পুষ্টির পরই পরিবেশের অবস্থান। তিনি অভিযোগবস্থান নিয়ামকের মধ্যেদুষণর ব্যাপারে কোন পরিকল্পনা নেই। করেন, ঢাকা শহরের পরিবেশ উন্নয়নের ব্যাপারে সরকারের নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই।

তিনি জানান, শব্দ ও বায়ু দূষণের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মানুষ সরাসরি আক্রান্ত হয়।

এর পাশাপশি ঢাকা শহরের পরিত্যাক্ত ময়লা আবর্জনা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি মনে করেন, শহরের ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ক্ষেত্রে ঢাকাবাসী সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে না। তিনি আরও মনে করেন, ঢাকা শহরকে ময়লা-আবর্জনা মুক্ত রাখতে হলে জনগনের পাশাপাশি সরকারেরও ভূমিকা পালন করতে হবে।

এরপর মি চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হয় ঢাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য পার্ক অথবা উন্মুক্ত পরিবেশ কতটুকু প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন৻

মি চৌধুরী বলেন, ঢাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পার্ক এবং খেলার মাঠ থাকা খুবই প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, উন্মুক্ত পরিবেশের অভাবে ঢাকা শহরে মাদকাসক্তের পরিমাণ বাড়ছে।

সবশেষে তিনি মনে করেন, পার্কের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে কোন রিয়েল স্টেট প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মানের অনুমতি দেয়া উচিত নয়।


সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻