বিপর্যস্ত পরিবহন ব্যবস্থা

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প এভি ফরম্যাট চালান

প্রায় সোয়া কোটির বেশী মানুষের বসবাসের নগরী রাজধানী ঢাকা। শত শত বছেরর পুরোনো এই শহরে সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন, তৈরি হওয়া বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সে বিষয়ে নগরবাসী এবং বিশেষজ্ঞের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি ধারাবাহিক আয়োজন ছিলো ‘ঢাকা সপ্তাহ’। ঢাকা সপ্তাহের এবারের পর্ব ‘পরিবহন ব্যবস্থা’ নিয়ে। ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার বর্তমান হাল তুলে ধরা হয় আনোয়ার হোসেনের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

ঢাকার জানযট

যাবার রাস্তা নেই

প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। যাত্রী পরিবহনগুলিতে ধারন ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যানজটসহ পরিবহন ব্যবস্থার নানা সমস্যার কথা উঠে আসে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ডের উপদেষ্টা এটিএম হেলালউদ্দিন নাগরী ঢাকায় যানজট সৃষ্টির কারণ হিসেবে দাবি করেন, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল রাস্তা থাকার কারণে ঢাকা শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি জানান, একটি শহরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ রাস্তা থাকা প্রয়োজন ঢাকা শহরে তার তিনভাগের একভাগ রাস্তাও নেই।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চালু হওয়ার পর থেকে সিএনজি অটো রিক্সাগুলির বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি এবং যাত্রীদের কাছ থেকে বেশী ভাড়া আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিলো সেটি এখনও চলছে। একজন সিএনজি আটোরিক্সা চালক এর কারণ হিসেবে বলেন যে, সরকার যদি সিএনজি অটোরিক্সাগুলির দামগুলি নিয়ন্ত্রণ করতো পারতো তাহলে যাত্রীরা অযথা হয়রানির শিকার হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, সিএনজি অটোরিক্সা মলিকগণ চালকদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া আদায় করেন, যার নেতিবাচক প্রভাবপড়ে যাত্রীদের উপরে।

ঢাকা শহরে টিকেট পদ্ধতিতে যে বাস সেবা চালু হয়েছে তার বিভিন্ন অনিয়মের কথাও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। টিকেট পদ্ধতির বাসে যাতায়াতকারী একজন যাত্রী অভিযোগ করেন, এসব বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অধিক ভাড়া আদায় করা হলেও যাত্রীরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সেবা পায়।

প্রতিবেদনের শেষ প্রান্তে প্রতিবেদক জানান, ঢাকা মহানগরীতের মানুষ বৃদ্ধির অনুপাতে পরিবহনের সংখ্যা না বাড়ার কারণে জনগনের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে।

মানিক মিঞায় মুক্ত আলোচনা

প্রতিবেদনের পরপরই ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে কয়েকজন ঢাকাবাসী সরাসরি মতামত, মন্তব্য প্রদান করেন। ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে এ আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন আকবর হোসেন।

এ আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ঢাকার রাস্তায় নিয়মিত যাত্রী মারুফ রহমান ও সানজিদা শশী, এবং সাইফুদ্দিন আহমেদ, যিনি ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

প্রথমেই মি আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা শহরের যানজট এবং পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা কোন সমাধানের দিকে যাচ্ছে নাকি এটি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করছে?

এ প্রশ্নের জবাবে মি আহমেদ মনে করেন, ঢাকা শহরের পরিবহন সমস্যা সমাধানের জন্য যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা এবং এসব পরিবহনের সেবার মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

ঢাকার ট্রাফিক

বড় বাস, ছোট স্কুটার, সবাই একই যটে আটকা

বাসে ওঠার পরও দেখা যাচ্ছে যে আমাকে অনেক লাঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে

সানজিদা শশী

এরপর সানজিদা শশীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, যাত্রী হিসেবে তিনি বাস অথবা ব্যক্তিগত গাড়ির মধ্যে কোনটিকে বেশী প্রাধান্য দিবেন?

এ প্রসংগে সানজিদা শশী জানান, ঢাকা শহরের অধিকাংশ নাগরিকেরই গাড়ি কেনার সামথ্য নেই। তিনি মনে করেন, সামগ্রিকভাবে চিন্তা করে ঢাকা শহরে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকার যাত্রীবাহী পরিবহনগুলিতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশী ভোগান্তির শিকার হয়।

মি রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, যাত্রীবাহী বাসে পুরুষদের তুলনায় নারীদের অধিক ভোগান্তির যে অভিযোগ এসেছে এ বিষয়ে তিনি কি মনে করেন?

মি রহমান এ বিষয়ে বলতে গিয়ে সানজিদা শশীর সাথে একমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, জনগনের কাছাকাছি বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকার যানজট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এরপর মি আহমেদের কাছে আবার জানতে চাওয়া হয়, গত এক দশক ধরে সরকার ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য যে সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলি কোন কাজে এসেছে কিনা?

এ প্রশ্নের জবাবে মি আহমেদ বলতে গিয়ে বলেন, সরকার যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সেগুলি তেমন কোন কাজেই আসেনি। তিনি মনে করেন, প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ অথবা উন্নতমানের গাড়ি সরবরাহ করে যানজট সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি আরো মনে করেন, মানুষের বিভিন্ন নাগরিক প্রয়োজনগুলিকে জনসাধারণের হাতের কাছে আনার মাধ্যমে বেশী দূরত্বের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সানজিদা শশীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, রিক্সার চলাচল সীমিত করে দেওয়ার ফলে তিনি কোন অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা?

এর জবাবে সানজিদা শশী মনে করেন, রিক্সার চলাচল সীমিত করে দেওয়ার ফলে নারীরা তুলনামূলক ভাবে অধিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এরপর মি রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, যানজট কমানোর জন্য সরকার একটি পদক্ষেপ গ্রহন করলে সেটি অন্য আরেকদিকে সমস্যার সৃষ্টি করছে কিনা?

এ প্রসংগে মি রহমান মনে করেন, প্রকৃত কারণ না জেনে রিক্সা তুলে দেয়ার ফলে যানজট সমস্যাটি আরো প্রকট হয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রাইভেট কারের আধিক্যের ফলে ঢাকা শহরে যানজট সমস্যা আরো তীব্র হয়েছে।

রাস্তা ব্যবহারে নতুন ভাবনা

এরপরই স্টুডিওতে ঢাকা সপ্তাহের সঞ্চালক সাবির মুস্তাফা এ সপ্তাহের অতিথি কে এম মনিরুজ্জামানকে জানান, ঢাকায় বিগত ২০ বছরে গুরুত্বপূর্ণ কোন রাস্তা তৈরি হয়নি। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, নতুন রাস্তার অভাবে ঢাকায় যানজটের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক কিনা?

যে রাস্তাটুকু আমাদের রয়েছে সেটি যেন আমরা সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারি

কে এম মনিরুজ্জামান

এ প্রশ্নের জবাবে মি মনিরুজ্জামান মনে করেন, ভূমির প্রকৃতি অনুযায়ী ঢাকায় নতুন রাস্তা তৈরির সুযোগ অনেক কম। তিনি মনে করেন, ঢাকা শহরে যে রাস্তাগুলি আছে সেগুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।

তিনি জানান, ঢাকার জন্য যে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) কথা বলা হয়েছে, সেখানে ছয়টি অতিগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান এই ছয়টি রুটের মধ্যে তিনটি রুটের জন্য র‌্যাপিড বাস সেবা, এবং বাকি তিনটি (এর মধ্যে দুটি পাতাল রেল) রুটের জন্য রেলসেবার মাধ্যমে এসটিপি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

মি মনিরুজ্জামান মনে করেন, এসটিপি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের যানজট অনেক কমে যাবে।

এরপর মি মনিরুজ্জামান কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রস্তাবিত র‌্যাপিড বাস ট্রানজিট রুট কিভাবে কাজ করবে?

মি মনিরুজ্জামান এ প্রসংগে জানান, প্রস্তাবিত র‌্যাপিড বাস সেবার বাসগুলি আকারে অনেক বড় হবে এবং শুধু মাত্র এই বাসগুলির জন্য রাস্তার একটি বা দুটি লেন ছেড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে অধিকসংখ্যক যাত্রী দ্রুতগতিতে গন্তব্যে পৌছুতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

মি মনিরুজ্জামানের কাছে আবার জানতে চাওয়া হয়, শুধুমাত্র র‌্যাপিড ট্রানজিট বাস সেবার জন্য রাস্তার একটি বা দুটি লেন ছেড়ে দেওয়ার মতো কোন রাস্তা ঢাকায় আছে কিনা?

মি মনিরুজ্জামান বলেন, র‌্যাপিড বাস সেবার জন্য মাত্র তিনটি রুটের কথা বলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, ঢাকার অনেক রাস্তাতেই এই বাসের জন্য একটি লেন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব। একই সাথে তিনি এও মনে করেন, র‌্যাপিড বাস সেবা চালু হলে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে এই বাস ব্যবহার করতে আগ্রহী হবে।

এরপর মি মনিরুজ্জামানের কাছে আবার জানতে চাওয়া হয়, যেখানে ঢাকা শহরে একটি পরিবারের একাধিক সদস্যের নানা কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে কিনা?

এর জবাবে মি মনিরুজ্জামান মনে করেন, ঢাকার রাস্তায় যাতায়াতকারী র‌্যাপিড বাসের মাধ্যমে মূল দূরত্ব অতিক্রম করে অবশিষ্ট দূরত্ব সহায়ক পরিবহনের সাহায্যে পৌছুতে পারবে।

এরপর মি মনিরুজ্জামানের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়, বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় সে বাসগুলি চলাচল করে তাদের সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য কি করা যেতে পারে?

মি মনিরুজ্জামান বলেন, ঢাকার বাসগুলির সেবার মান উন্নত করার জন্য সরকারকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের পরিবহন খাতকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেটিকে আরো গোছানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। সবশেষে তিনি যোগ করেন, নতুন রাস্তা না বানিয়েও ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻