শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প এভি ফরম্যাট চালান

প্রায় সোয়া কোটির বেশী মানুষের বসবাসের নগরী রাজধানী ঢাকা। শত শত বছর পুরোনো এই শহরে সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন, তৈরি হওয়া বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সে বিষয়ে নগরবাসী এবং বিশেষজ্ঞের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি ধারাবাহিক আয়োজন ছিলো ‘ঢাকা সপ্তাহ’। ঢাকা সপ্তাহের এবারের পর্বটি সাজানো হয়ে এবং জনস্বাস্থ্য নিয়েছিলো ঢাকা শহরের স্কুল ব্যবস্থা নিয়ে। শুরুতেই ঢাকার স্কুল ব্যব্স্থা নিয়ে দুর্ভোগের কথা তুলে ধরা হয় আনোয়ার হোসেনের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

আজিমপুর গার্লস স্কুল

মেয়েদের জন্য শিক্ষা

অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোটবইয়ের নির্ভরতা জন্মেছে

হোসনে আরা বেগম

প্রতিবেদনে ঢাকার স্কুল ব্যবস্থা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। ঢাকার অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। একজন ঢাকাবাসী তার মতামত দিতে গিয়ে বলেন যে, শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির তুলনায় সরকারি স্কুলগুলি পিছিয়ে পড়ছে।

ঢাকা মহানগর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজের ব্যাপকতার কারণেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত বেতন কাঠামো সহ অনেকক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম রনি বলেন, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা বেঁচে থাকার তাগিদে জন্য কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঢাকার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওহাব জানান, ঢাকা মহানগরীতে মাত্র ২৪টি সরকারি বিদ্যালয় থাকলেও সেগুলি গুটিকয়েক থানার মধ্যে অবস্থিত।

প্রতিবেদনের শেষ প্রান্তে প্রতিবেদক জানান, ঢাকার সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলির শিক্ষকরা কম আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে গিয়ে পাঠদানে পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্কুল মাঠে শিক্ষা সংলাপ

প্রতিবেদনের পরপরই কয়েকজন ঢাকাবাসী ঢাকার স্কুল ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি মতামত, মন্তব্য প্রদান করেন। ঢাকার আজিমপুর গার্লস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে এ আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন আকবর হোসেন।

এবারের পর্বে আজিমপুর গার্লস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে উপস্থিত ছিলেন, আজিমপুর গার্লস্ স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম। দুজন অভিভাবক হাজেরা খাতুন এবং মাহাবুবুল রহমান।

প্রথমেই হোসনে আরা বেগম এর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঢাকা শহরের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনকে তিনি কিভাবে দেখেন?

এর জবাবে হোসনে আরা বেগম মনে করেন, ঢাকার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে আসার প্রবণতা অনেক কমে গেছে এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার যথার্থ পরিবেশ নেই।

ধানমন্ডি বয়েজ স্কুল

ছেলেদের জন্যও শিক্ষা

ভালো স্কুলটি কি? এটি আসলে নির্ভর করে অভিভাবকদের মানসিকতার উপরে

হাজেরা খাতুন, অভিভাবক

এরপর হাজেরা খাতুনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করার বিষয়ে ভালো স্কুলের মাপকাঠি তারা কিভাবে নির্ধারন করে থাকেন?

এর জবাবে হাজেরা খাতুন বলেন, ভালো স্কুলের নির্ধারনের বিষয়টি অভিভাবকদের মানসিকতার উপর নির্ভর করে। তিনি মনে করেন, ভালো স্কুলের মাপকাঠি নির্ধারন করার জন্য স্কুলের অবকাঠমো, উন্মুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষার পরিবেশকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

এরপর মি রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঢাকা শহরে ভালো স্কুল নির্ধারনের জন্য শিক্ষার পরিবেশ এবং স্কুলের অবকাঠামো একসাথে বিবেচনা করা সম্ভব কিনা?

এ বিষয়ে মি রহমান মনে করেন, যে স্কুলে শিক্ষকরা আলোকিত মানুষ তৈরির প্রত্যয়ে শিক্ষা দেন সে স্কুলকেই তিনি ভালো স্কুল বলে বিবেচনা করবেন।

এরপর একজন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, স্কুলে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে তার অভিভাবকদের মতামত কতটুকু প্রাধান্য পেয়েছে?

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্কুলে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে অভিভাবকদের মতামতের পাশাপাশি তার মতামতকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন।

হোসনে আরা বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিং সেন্টার এবং নোটবইয়ের যে নির্ভরতা তৈরি হয়েছে এটি আগে ছিলো কিনা?

এ বিষয়ে হোসনে আরা বেগমে জানান, তাদের সময়কার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিং সেন্টার এবং নোটবইয়ের নির্ভরতা ছিলো না। তিনি অভিযোগ করেন, অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলেই বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিং সেন্টার এবং নোটবইয়ের নির্ভরতা জন্মেছে।

হাজেরা খাতুনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শুধু অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোটবই এবং কোচিং সেন্টারের উপর নির্ভরতা বাড়ছে নাকি এর প্রয়োজনও আছে?

এ প্রসংগে হাজেরা খাতুন মনে করেন, অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোটবই এবং কোচিং সেন্টার উপর নির্ভরতা জন্মালেও এর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

এরপরই স্টুডিওতে ঢাকা সপ্তাহের সঞ্চালক সাবির মুস্তাফা এ সপ্তাহের অতিথি নুরুল ইসলামের কাছে জানতে চান যেখানে বিভিন্ন প্রাথমিক চাহিদা মেটাতেই ঢাকার সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলি হিমশিম খায় সেখানে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এতো আধিক্য কেন?

এর কারণ হিসেবে মি ইসলাম জানান, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য স্কুলের তুলনামূলক বেশী হারে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বৃত্তি পেয়ে থাকে। তিনি মনে করেন, সহজে বিদেশে পড়াশুনার সুযোগ পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

এরপর মি ইসলামকে বলা হয়, অনেকেই দাবি করেন, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার মান বাংলা মাধ্যম স্কুলের চেয়ে উঁচু। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় এর কারণ কি?

এ বিষয়ে মি ইসলাম বলেন, শিক্ষার মান নির্ধারনের ক্ষেত্রে মাধ্যম কোন ব্যাপার না। তিনি মনে করেন, শিক্ষার মান নির্ভর করে শিক্ষকদের মানসিকতার উপর।

মি ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলি সমাজের শ্রেণী বৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে কিনা?

এর জবাবে মি ইসলাম মনে করেন, বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলি সমাজে শ্রেণীবৈষম্য সৃষ্টি করছে এটি ঠিক নয়।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻