বস্তিবাসীর কঠিন জীবন

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প এভি ফরম্যাট চালান

প্রায় সোয়া কোটির বেশী মানুষের বসবাসের নগরী রাজধানী ঢাকা। হাজার বছর পুরোনো এই শহরে সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন, তৈরি হওয়া বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সে বিষয়ে নগরবাসী এবং বিশেষজ্ঞের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি ধারাবাহিক আয়োজন ছিলো ‘ঢাকা সপ্তাহ’।এবারের পর্বটি সাজানো হয়ে এবং জনস্বাস্থ্য নিয়েছিলো ঢাকার বস্তিবাসীদের জীবন নিয়ে। শুরুতেই ঢাকার বস্তিবাসীদের জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরা হয় কুররাতুল আইন তাহমিনার একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

বস্তিবাসী শিশু

উচ্ছেদেরে আতংক মাথায় নিয়ে বড় হওয়া

সরকারি জমির উপর বস্তি থাকলে সেখানে উচ্ছেদটি আইনগত প্রক্রিয়ায় হয় এবং সেটি খুব কঠিনভাবেই হয়

সালমা শফি, নগর পরিকল্পনাবিদ

প্রতিবেদনে জানা যায় ঢাকা শহরের অধিকাংশ বস্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন। প্রতিবেদক এসব বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশ, অপ্রতুল পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা এবং অধিক ভাড়ার পাশাপাশি নানা দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।

ঢাকার প্রায় সবকটি বস্তিতেই স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ এবং বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা নেই। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ঢাকার বস্তিবাসীদের নানা সমস্যার পাশাপাশি উচ্ছেদ আতংকও কাজ করে।

প্রশাসনের ধারণা ঢাকার বস্তিগুলি বিভিন্ন অপরাধের আখড়া। তবে এ বিষয়ে নগর গবেষক নজরুল ইসলাম প্রশাসনের এ ধারণাকে ভুল বলে আখ্যা দেন। তিনি মনে করেন, ঢাকার অধিকাংশ বস্তিবাসীই নিরীহ এবং সৎ।

প্রতিবেদনের শেষে প্রতিবেদক জানান, সবাই বস্তিবাসীদের অবহেলার চোখে দেখলেও বস্তির শ্রমজীবি মানুষেরা ঢাকার পোশাক শিল্প, পরিবহন শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ নানা কাজের চাকা সচল রেখেছে।

বস্তির মাঠে জিবন জিজ্ঞাসা

প্রতিবেদনের পরপরই ঢাকার কয়েকজন বস্তিবাসী এবং এসব বস্তির আশেপাশে বসবাসকারী কয়েকজন বস্তির মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে সরাসরি মতামত, মন্তব্য প্রদান করেন। ঢাকার আগারগাঁও থেকে এ আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন আকবর হোসেন।

এ আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বস্তিবাসী খোকা মিয়া, মো শামসুল হক, মো শিশির মিয়া। এবং ঢাকার বস্তির পাশের দুজন বাসিন্দা মো ইব্রাহিম এবং জোহরা পারভীন।

প্রথমেই মি মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বস্তিতে কি কি নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়?

এর জবাবে মি মিয়া বস্তিতে নাগরিক সুবিধার বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকার বস্তিগুলিতে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা নেই।

এ বিষয়ে মি হকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করলে দিলে বস্তিবাসীরা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?

মি হক বলেন, উচ্ছেদের মুখে পড়লে বস্তিবাসীরা অন্য বস্তিতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

কোন রাজনীতিবিদ এবং স্থানীয় যারা নেতা তারাই আসলে বস্তিবাসীদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন

মো ইব্রাহিম, মিরপুরের বাসিন্দা

এরপর মি ইব্রাহিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বস্তির ফলে ঢাকা শহরে কোন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয় কিনা?

এ প্রসংগে মি ইব্রাহিম বলতে গিয়ে মনে করেন, বস্তির থাকার উপকারীতা এবং অপকারিতা দুটোই আছে। তিনি আরও মনে করেন, ঢাকা শহরে বস্তি রাখতে হলে বস্তিগুলিতে উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

জোহরা পারভীনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঢাকা শহরে বস্তি থাকা এবং না থাকার বিষয়ে তিনি কি মনে করেন?

জোহরা পারভীন এ প্রশ্নের জবাবে মনে করেন, ঢাকাবাসীর প্রয়োজনেই বস্তির প্রয়োজন আছে।

এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঢাকা শহরের বস্তিগুলি বিভিন্ন অপরাধের আখড়া বলে যে অভিযোগ উঠেছে সেটি ঠিক কিনা?

এ প্রশ্নের জবাবে জোহরা পারভীন স্বীকার করেন, ঢাকার বস্তিগুলিতে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হয়।

এরপর একজন বস্তিবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বস্তিতে অভিযান চালায় কিনা?

এর জবাবে তিনি জানান, অপরাধ দমনে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায়ই বস্তিতে বিভিন্ন অভিযান চালায়।

বস্তিবাসী মহিলা

কোনমতে বেঁচে থাকাই একমাত্র অভিলাষ

আমরা বস্তিতে কোন সুবিধা পাই না

খোকা মিয়া, বস্তিবাসী

মো শিশির মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বস্তি শহরের অন্যান্য বাসিন্দার জন্য সুবিধা নাকি অসুবিধার সৃষ্টি করে?

এ প্রশ্নের জবাবে মো শিশির মিয়া মনে করেন, বস্তির ফলে শহরের অন্যান্য বাসিন্দার কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এরপর একজন রিক্সাচালক এবং বস্তিবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, গ্রামে কিছু না করে শহরে এসে রিক্সা চালানোর কারণ কি?

এর জবাবে তিনি বলেন, গ্রামে কর্মসংস্থানের ভালো কোন ব্যবস্থা না পেয়ে অনেক মানুষ ঢাকায় এসে রিক্সা চালাচ্ছেন।

মি ইব্রাহিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নগরবাসী বস্তি নিয়ে যে সমস্যায় ভোগে এটি কিভাবে সমাধান করা সম্ভব?

মি ইব্রাহিম এ বিষয়ে অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বস্তিবাসীদের বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করে থাকেন। তিনি মনে করেন, বস্তিবাসীদের পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে বস্তিবাসীদের নিয়ে বসবাস করতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি হবে না।

এরপর জোহরা পারভীনের কাছে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা শহরের প্রায় ৫০ লাখ বস্তিবাসীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা?

জবাবে জোহরা পারভীন মনে করেন, সরকার এবং নাগরিকদের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে সকল বস্তিবাসীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এরপরই স্টুডিওতে ঢাকা সপ্তাহের সঞ্চালক কাদির কল্লোল এ সপ্তাহের অতিথি সালমা শফির কাছে জানতে চান বিগত সময়ে উচ্ছেদের শিকার যে সমস্ত বস্তিবাসীদের পুর্নবাসন করা হয়নি তারা কোথায় আশ্রয় নিয়েছে?

এ প্রশ্নের জবাবে সালমা শফি জানান, সরকারি জমিতে যে বস্তিগুলি থাকে মূলত সেগুলিই উচ্ছেদের শিকার হয়। এদের মধ্যে কেউ অন্য বস্তিতে আশ্রয় নেয় এবং কেউ রাস্তায় দিন কাটায়।

সালমা শফির কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, ব্যক্তি মালিকানাধীন বস্তিগুলিতে বস্তিবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বা অন্য কোন পক্ষের কিছু করণীয় আছে কিনা?

সালমা শফি এ প্রসংগে মনে করেন, সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার সবস্তরের বিশেষ করে নিন্মবিত্ত মানুষের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।

সর্বশেষ সংবাদ

অডিও খবর

ছবিতে সংবাদ

বিশেষ আয়োজন

BBC navigation

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻