কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সামিনা চৌধুরী গান শিখতে শুরু করেন তাঁর বাবা মাহমুদুন্নবীঁ এবং মা রাশিদা চৌধুরীর কাছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে ধ্রুপদী সংগীত শিখতে শুরু করেন আরো পরে বরং তার আগেই ১৯৮১ সালেই তিনি চলচ্চিত্রে গান গাইতে শুরু করেন।

Image caption শিল্পী থেকে টেলিভিশনে বিচারক

‘একবার যদি কেউ ভালবাসত’ এই গানটি দিয়েই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন । ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে গাওয়া ওই গান দিয়ে সামিনা চৌধুরী চল্চ্চিত্রে গান শুরু করলেও এরপর তিনি টেলিভিশন, রেডিও সহ সব মাধ্যমে গাইতে শুরু করেন ।

খুব কম বয়সে এই সুযোগ পাওয়ার কারণ কি শিল্পী মাহমুদুন্নবীর কন্যা হওয়া কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন তা মোটেও না বরং তিনি যখন গাইতে শুরু করেন তখন কেউ জানত না যে তার বাবা মাহমুদুন্নবী । যখন সবাই জানতে আরম্ভ করল তখন তিনি সামিনা নবী থেকে সামিনা চৌধুরী হয়ে গেছেন।

এক ধরণের অভিমান থেকে তার এই নাম পরিবর্তন বলে তিনি জানান।

সামিনার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে বেশ কিছু গান জনপ্রিয় হবার পেছনে যেমন তার গান বাছাই করে গাওয়ার চেষ্টা আছে তেমনি আছে তার ভাগ্য।

একসময়ে একটি মাত্র টেলিভিশন চ্যানেল অর্থাৎ বাংলাদেশ টেলিভিশন থাকার ফলে সেসময়ে খুব দ্রুত মানুষের কাছে গান পৌছে যেত ।

একদিকে এর ফলে শুধু ভাল শিল্পীরা যেমন সুযোগ পেতেন, তেমনি এখন অনেক সুযোগ তৈরী হয়েছে৻ কিন্তু সামিনা বলেন , এখন সুযোগ বেশী হওয়ায় আগাছাও বেড়ে গেছে ।

এই সুযোগ বাড়ার জায়গা তেরী হয় বিভিন্ন ট্যালেন্ট হান্ট অনুষ্ঠানে যেখানে সামিনাও বিচারক হন । তবে তিনি বলেন এসব অনুষ্ঠানে বেশ কিছু ভাল গলা আসে তবে এরা আদর্শিক দিক থেকে ঠিক থাকে না বলেই হারিয়ে যায়।

সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের ট্যালেন্ট হান্ট অনুষ্ঠানে তাকে শুরু থেকে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও চূড়ান্ত পর্বে তাকে দেখো যায়নি এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন তাকে জানানোই হয়নি চূড়ান্ত পর্বের কথা।

এই ঘটনা থেকেই তিনি হতাশ যে এদেশে শিল্পীদের পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং বড়দের প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধাবোধ উঠে যাচ্ছে কিনা । সামিনা এখন তার পুরনো গান গুলোর রিমেক এবং নতুন কিছু এ্যালবামের কাজে ব্যস্ত আছেন।

বিবিসি বাংলার ঢাকা স্টুডিওতে এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিথিলা ফারজানা