বিএনপির প্রস্তাব চান শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় যে অন্তবর্তী সরকার গঠন করা হবে তাতে বিরোধীদল বিএনপির অংশীদারিত্ব থাকতে পারে।

বিবিসি বাংলার সাথে লন্ডনে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন সংসদের মেয়াদ শেষ হবার তিন মাস আগেই নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে।

তবে সেই তিন মাস সংসদের কোন অধিবেশন থাকবে না, এবং সদস্যদের কোন কার্যকরী ক্ষমতাও থাকবে না। ফলে সংসদ সদস্যরা প্রভাব খাটাতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন।

বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ এবং দলের জনপ্রিয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিরোধী দলের সাথে সরকারের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে দেশটি যে সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে। জবাবে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, সংকট ছাড়া বাংলাদেশ কবে ছিল? সব সময়েই সংকটের মধ্যে ছিল। সংকটের মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হয়। তার মধ্যেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে।

বিরোধী দলের প্রধান দাবি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তাতে তারা অনড়। সেক্ষেত্রে বিরোধী দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেজন্য সরকারের চিন্তা-ভাবনা কী? বর্তমান শাসনামলে তাদের অধীনে যে কটি নির্বাচন হয়েছে সবগুলোই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, এই সরকার প্রমাণ করেছে তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে না। তিনি বলেন, বিরোধী দল গণতন্ত্র চাইলে তারা নির্বাচনে আসবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল চাইলে আলোচনা সম্ভব এবং সেজন্য তাদের সংসদে প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে। তিনি বিরোধী দলকে সতর্ক করে বলেন, এমন কোনও যেন পরিস্থিতি তৈরি না হয় যার ফলে ২০০৭ সালের মতো একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় চলে আসে।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন কি-না এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় থাকলে ধরে নেয়া হয়, জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যায়। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তার পরে আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন সে প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, সেই সিদ্ধান্তও তিনি দলের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। দলের নেতৃত্বের বিষয়ে দলই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান।