আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

মঙ্গলের বুকে কীভাবে কাজ করবে কিউরিওসিটি?

দীর্ঘ ন-মাসের যাত্রার শেষে নাসার রোবটচালিত যান মঙ্গলগ্রহের বুকে নেমেছে দিনকয়েক আগে। এক টন ওজনের ওই যানটিকে প্যারাশুট আর রেট্রো রকেটের সাহায্যে গতি মন্থর করিয়ে, ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করে নামিয়ে আনা হয় মঙ্গলের বুকে।

মার্স রোভার, যার নাম কিউরিওসিটি, যখন লাল গ্রহের মাটি স্পর্শ করল – তখন পৃথিবীর বুকে ক্যালিফোর্নিয়ার মিশন কন্ট্রোলের কর্মীদের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস স্বভাবতই বাঁধ মানতে চায়নি।

অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই মঙ্গলের বুক থেকে অসাধারণ সব ছবি পাঠাতে শুরু করে দিয়েছে কিউরিওসিটি। মঙ্গলে আদৌ জীবনের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব কি না, বা কোনওকালে ছিল কি না – সেটা জানাটাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য, আর সেই জিজ্ঞাসার উত্তর খোঁজার কাজটাও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption শিল্পীর কল্পনায় মঙ্গলে কিউরিওসিটির অবতরণ

প্রেসিডেন্ট ওবামার বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা জন হলড্রেন, যিনি আবার আমেরিকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি কার্যালয়েরও প্রধান, তিনি তাই সগর্বে বলছেন মঙ্গলের বুকে একদিন মানুষ পাঠানোর যে বহুদিনের স্বপ্ন আমেরিকার – এখন সেই স্বপ্নপূরণেরই কাজ চলছে জোর কদমে।

তিনি জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকার সামনে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন – সেটা হল ২০৩০র দশকেই মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠাতে হবে। আমাদের মহাকাশচারীরা সেই গ্রহে নেমে ঠিক কী দেখতে পাবেন, কী পরিবেশ পাবেন – সে ব্যাপারেই কিউরিওসিটি এখন নানা জরুরি তথ্য পাঠাবে।’

সোজা কথায়, মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর চেষ্টারই প্রথম ধাপ হল ওই গ্রহের বুকে কিউরিওসিটির অবতরণ। মার্স রোভার সেই কাজে ঠিক কীভাবে সাহায্য করবে, অনুষ্ঠানে সেটাই জানিয়েছেন নাসার মার্স মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী জন গ্রটজিঙ্গার।

২০৩০র দশকে, অর্থাৎ আজ থেকে বছর কুড়ি বাদে মঙ্গলে যদি সত্যিই মানুষ পাঠাতে হয় তাহলে তার আগে এরকম আরও বহু অভিযান চালাতে হবে তাতেও কোনও সন্দেহ নেই।

কিন্তু মঙ্গল নিয়ে এখন প্রাথমিকভাবে যাবতীয় তথ্যের উৎস হবে কিউরিওসিটি – আর আগামী দুবছর ধরে মঙ্গলের বুকে কাজ করে যাবে এই যান।

তবে নাসার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জর্জ বোল্ডেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত দুবছরের সময়সীমার পরেও এটি সক্রিয় থাকতে পারে!

ম্যালেরিয়ার টিকা কয়েক বছরের মধ্যেই?

মারণ-রোগ ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে বহু পুরনো লড়াই, তাতে অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা একটা দারুণ সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, এখনও সারা বিশ্বে প্রতি বছর ম্যালেরিয়াতে অন্তত সাড়ে ছলক্ষরও বেশি মানুষ – কোনও কোনও হিসেবে দশ লক্ষ পর্যন্ত মানুষ মারা যান – যাদের একটা বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

ছবির কপিরাইট Other
Image caption ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহক মশা

কিন্তু মেলবোর্নের বার্নেট ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা কেনিয়াতে এমন কিছু মানুষের সন্ধান পেয়েছেন যারা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হবার পর সেরে উঠেছেন – এবং দেখা গেছে তাদের দেহে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটা প্রতিরোধ-ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে যাতে পরে আর ম্যালেরিয়া তাদের আক্রমণ করতে পারছে না।

অস্ট্রেলিয়ান ওই গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর জেমস বিসন বলছিলেন, কীভাবে ওই রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা ম্যালেরিয়ার জীবাণুর সঙ্গে টক্কর দিতে পারছে সেটা তারা অনেকটাই বুঝতে পেরেছেন।

নানা সময়ে ম্যালেরিয়ার নানা প্রতিষেধক ওষুধ বের হলেও এই রোগের কোনও টিকা আজও তৈরি করা সম্ভব হয়নি, আর সে কারণেই ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইতে মানুষ এখনও এতটা অসহায়।

বার্নেট ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা কিন্তু মনে করছেন, তাদের পরীক্ষা সফল হলে একদিন হয়তো ম্যালেরিয়ার টিকাও তৈরি করা যাবে – এবং হয়তো সেটা আগামী এক দশকের মধ্যেই সম্ভব হবে।

কথাটা সত্যি হলে প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য তার চেয়ে বড় সুখবর আর হতে পারে না। আর সেই আশার আলোটা দেখা যাচ্ছে আফ্রিকার কেনিয়া থেকে, যেখানে ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুর হার ভীষণই বেশি।

চলে গেলেন ই টি-র স্রষ্টা

বিজ্ঞানের শেষে এবারে একটু কল্পবিজ্ঞান প্রসঙ্গ। ই টি বা একসট্রা টেরেসট্রিয়ালকে মনে আছে নিশ্চয় ?

তিরিশ বছর আগে পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের হাত ধরে গ্রহান্তরের যে অদ্ভুতদর্শন প্রাণী সেলুলয়েডের পর্দায় এসে নেমেছিল আর এসেই সারা বিশ্বের মন জিতে নিয়েছিল, সেই ই টি-র কথাই বলছি!

সেই ই টি-র নকশা করেছিলেন যিনি, সেই বিখ্যাত ইটালিয়ান স্পেশাল এফেক্টস শিল্পী কার্লো রামবাল্ডি দীর্ঘ রোগভোগের পর গত সপ্তাহে মারা গেলেন। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption ই টি ও তার স্রষ্টা কার্লো রামবাল্ডি

সারা জীবনে বহু বিখ্যাত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি, কিন্তু ওই এক ই টি-ই বোধহয় তাকে অমর করে রাখবে।

১৯৮২তে ই টি-র জন্য অস্কার জেতার পর রামবাল্ডি বলেন, ‘মানুষ তো জানে ই টি-র ওই চরিত্রটা যন্ত্র দিয়ে কৃত্রিমভাবে বানানো, কিন্তু ছবি দেখতে দেখতে তারা সেই কথাটা বেমালুম ভুলে যেত। তারা সত্যিই ভাবতো যন্ত্রটন্ত্র কিছু নয়, আসলেই ই টি একটা গ্রহান্তরের প্রাণী!’

শুধু ই টি-ই নয়, ১৯৭৯তে রিডলে স্কটের ছবি এলিয়েন বা তারও বছরতিনেক আগে জন গিলেরমিনের কিং কং ছবিতেও স্পেশাল এফেক্টের কারিকুরি ছিল তাঁরই – এবং এই তিনটে কাজের জন্যই অস্কার জিতেছিলেন কার্লো রামবাল্ডি।

পৃথিবীতে তাঁর প্রয়াণে কিং কং বা ই টি-দের দুনিয়াতেও নিশ্চয় অনেকেরই আজ মন ভার!

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ।