BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 22 জানুয়ারি, 2013 10:34 GMT 16:34 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

শ্রবণশক্তি ফিরে পেতে নতুন ওষুধ, শিম্পাঞ্জির ন্যায়বোধ

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

বিজ্ঞানের আসর

বধিরতা নিরাময়ে নতুন ওষুধ

পৃথিবীতে বহু মানুষ প্রায় সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেছেন – শুধু এই কারণে যে জীবনে একটা দীর্ঘ সময় ধরে কখনও তাদের প্রচন্ড জোরালো আওয়াজের উপদ্রব সহ্য করতে হয়েছে। এই ধরনের তীব্র শব্দের এক্সপোজারের কারণে যে বধিরতা সৃষ্টি হয়, বিজ্ঞানীদের এতদিন ধারণা ছিল তা কাটিয়ে ওঠার কোনও রাস্তাই নেই।

deafness

বধিরতার সমস্যা

কিন্তু সম্প্রতি একদল গবেষক এর একটা সম্ভাব্য নিরাময়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী নিউরোনে এই গবেষকরা লিখেছেন, তারা এমন একটি নতুন ওষুধ বের করেছেন, যা ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গেছে এর ফলে সেন্সরি হেয়ার সেলের নতুন করে তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া উদ্দীপিত হয়।

হয়তো সাফল্যটা আংশিক, কিন্তু এর পরও আশা করা হচ্ছে যেহেতু এই কোষগুলো আবার নতুন করে তৈরি করা যাচ্ছে – তাই বধির মানুষরাও হয়তো এই ওষুধে আবার কানে শুনতে পারবেন। তবে গবেষক দলের প্রধান, আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ড: অ্যালবার্ট এজ অবশ্য এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে বধিররা সবাই এর মাধ্যমে তাদের পূর্ণ শ্রবণশক্তি ফিরে পাবেন, এমনটা আশা করা ঠিক হবে না।

এই গবেষণাটা যে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলেই বিজ্ঞানীরা এতটা উৎসাহিত বোধ করছেন যে তারা নিশ্চিত এটা একটা দারুণ অগ্রগতি এবং এতদিনে বোধহয় মানুষের অ্যাকিউট নয়েস-ইনডিউসড ডেফনেস, বা তীব্র শব্দজনিত বধিরতার একটা চিকিৎসা বেরোবে।

অনুমান করা হয়, সারা বিশ্বে পঁচিশ কোটিরও বেশি মানুষ এই ধরনের বধিরতার শিকার। তাদের সবাইকে নতুন আশার বাণী শোনাতে পারে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বের করা এই নতুন ওষুধ!

চীনে এক সন্তান নীতির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

যে শিশুরা বাবা-মার একমাত্র সন্তান, অর্থাৎ যাদের নিজেদের কোনও ভাই বা বোন নেই – তাদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় কি কোনও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা কাজ করে?

খুব নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন, কিন্তু চীনে এক সন্তান জমানায় বেড়ে ওঠা শিশুদের নিয়ে করা সম্ভবত প্রথম মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে – এই সব ছেলেমেয়েরা কিন্তু অনেক বেশি নিরাশাবাদী, এমন কী আগের প্রজন্মের তুলনায় তারা কোনও কিছুতে ভরসাও রাখে কম!

china_children

চীনের আধুনিক প্রজন্মের শিশুরা

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে চীনের সরকার ১৯৭৯ সালে সে দেশে এক সন্তান নীতি চালু করেছিল, দ্বিতীয় সন্তান হলে বাবা-মা অনেক সরকারি সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হতেন – ফলে পরবর্তী তিন দশকে চীনে যে সব ছেলেমেয়েরা বেড়ে উঠেছে, তাদের বেশির ভাগেরই কোনও ভাইবোন নেই।

অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিসা ক্যামেরন সমীক্ষা চালিয়েছেন নবীন এই চীনাদের নিয়েই, এবং বিবিসিকে তিনি বলছিলেন চীনের সমাজের ওপর – বিশেষ করে তাদের কর্মক্ষম জনশক্তির ওপর – এর প্রভাব পড়ছে অপরিসীম।

তাঁরা দেখেছেন যখন নিজের পেশা বেছে নেওয়ার প্রশ্ন আসছে, তখন এক-সন্তান নীতির জমানায় বেড়ে ওঠা প্রজন্ম এমন সব পেশাই বেছে নিচ্ছে যাতে ঝুঁকি কম। ফলে নতুন উদ্যোগে ঝাঁপানোর সামর্থ্য তাদের কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

অস্ট্রেলিয়ার ওই গবেষকরা আরও দেখেছেন, ১৯৭৯র পর চীনে যে শিশুরা জন্মেছে তারা তাদের পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক কম বিবেকবান, অতটা প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতাও তাদের নেই।

ফলে এক সন্তান নীতি চীনে ঠিক কী ধরনের সমাজ তৈরি করছে, এই গবেষণা সে দেশের সরকারকে তা নিয়ে নতুন করে ভাবাবে সন্দেহ নেই!

ইউরোপে সাইবার-অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র

সারা দুনিয়ায় এখন বড় বড় মাপের সব অপরাধের একটা প্রধান উৎস হল ইন্টারনেট। সাইবার জগতে কারসাজির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কিংবা শিশুদের যৌন নিগ্রহের মতো যে ধরনের মারাত্মক সব অপরাধ ঘটেছে, তা দেশে-দেশে পুলিশের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে বললেও কম বলা হয়।

শুধুমাত্র এই সাইবার-ক্রাইম প্রতিরোধেই এই প্রথম আলাদা একটি অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ-কেন্দ্র এবার ইউরোপে গড়ে তোলা হয়েছে, এ মাসের গোড়ায় নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে সেই বিশেষ কেন্দ্রটির উদ্বোধন হল।

cyber_crime_centre

ইউরোপে সাইবার-ক্রাইম সেন্টারের উদ্বোধন

বিভিন্ন দেশের সীমানা পেরিয়েও যাতে সাইবার-অপরাধের মোকাবিলায় তদন্তকারীরা সব তথ্য হাতের নাগালে পান ও এই ধরনের অপরাধ ঠেকানোর সামর্থ্য অর্জন করেন – সেটাই হবে এই ইউরোপীয়ান সাইবারক্রাইম সেন্টারের লক্ষ্য।

ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের অধিকর্তা ও এই সেন্টারের প্রেসিডেন্ট রব ওয়েইনরাইটও বলছেন, ইন্টারনেট এখন নানা আপরাধমূলক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইন্টারনেট ও ক্রমবর্ধমান মোবাইল প্রযুক্তিই কিন্তু এখন সংগঠিত অপরাধ-চক্রগুলোর পছন্দের সেরা হাতিয়ার।

এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের সঙ্গে জালিয়াতি যেমন চলছে, তেমনি আইডেন্টিটি ফ্রড বা মানুষের পরিচিতি চুরি করা, অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে – আবার মাদক চোরাচালান বা এমন কী, মানুষ পাচারের মতো পুরনো অপরাধগুলোতেও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেটের!

ইন্টারনেট ব্যবহার করে অপরাধ চালায় যে সব চক্র, তারা সাধারণত তাদের কার্যকলাপ গোপন রাখতে চায় ইন্টারনেটেরই এমন একটা অংশে – যেখানে সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন বা নিয়মিত একজন নেট-ব্যবহারকারী চট করে অ্যাকসেস পায় না। ইন্টারনেটের এই গহীন, গোপন অংশটারই নাম ‘ডিপ ওয়েব’ বা ‘ডার্ক নেট’ – যেখানে এখন দুঁদে অপরাধীদের খোঁজে হানা দেবে এই ইউরোপীয়ান সাইবারক্রাইম সেন্টার!

শিম্পাঞ্জির প্রখর ন্যায়বোধ !

ফেয়ারনেস – বা ন্যায়বোধ, এই বিশেষ মানবিক গুণটার মালিকানা কি শুধু মানুষেরই ? এতদিন ধারণা ছিল সে রকমই, কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বলছেন, না, প্রাণীজগতে মানুষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অন্যতম, শিম্পাঞ্জির মধ্যেও তারা প্রখর ন্যায়বোধ লক্ষ্য করেছেন।

দুটো শিম্পাঞ্জি কীভাবে নিজেদের মধ্যে একটা কলা ভাগ করে খায়, সেটা দেখার জন্য বিজ্ঞানীরা তাদের রংবেরংয়ের টোকেন দিয়ে একটা খেলায় নামিয়েছিলেন – আর তাতে বারবারই দেখা গেছে শিম্পাঞ্জিরা সব সময়ই অপরকে কলার সমান ভাগ দিতে আগ্রহী।

chimp

ন্যায়বোধসম্পন্ন শিম্পাঞ্জি!

আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে করা এই গবেষণার চমকপ্রদ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাকাডিমি অব সায়েন্সেসের কার্যবিবরণীতে।

আর এই ফলাফলটা কেন তাৎপর্যপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করে আটলান্টার এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডার্বি প্রোক্টার বিবিসিকে বলেন,'আমরা মনে করছি এর অর্থ হল শিম্পাঞ্জি আর মানুষ বিবর্তনগত প্রক্রিয়ায় সম্ভবত একই রকম ইতিহাসের শরিক – এবং উভয়ের এই ন্যায়ের বোধ থেকে সেটা স্পষ্ট।'

তাঁর মতে, মানুষ ও বানর প্রজাতির প্রাইমেটদের মধ্যে আসলে অনেক অভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। যেগুলো অনেকে মনে করেন একান্তভাবেই মানুষের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, এখন দেখা যাচ্ছে সেই সব গুণ মানুষ নয় এমন প্রাণীদের মধ্যেও আমরা খুঁজে পাচ্ছি।

শিম্পাঞ্জির মধ্যে এর আগেও নানা মানবিক গুণের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেমন তারা সমবায়-ভিত্তিক একটা সমাজে বাস করে, একসঙ্গে শিকারে বেরোয় – এবং ঠিক মানুষের মতোই তাদের অপত্যস্নেহও প্রবল।

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻