BBC navigation

বিজ্ঞানের আসর

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 30 এপ্রিল, 2013 16:08 GMT 22:08 বাংলাদেশ সময়

মেডিয়া প্লেয়ার

পৃথিবীর মতো আরও দুটি গ্রহ, ব্যাক্টেরিয়া থেকে জ্বালানি তেল

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

পৃথিবীর মতো আরও দুটি গ্রহের সন্ধান

আমাদের সৌরজগতের বাইরেও কত আর কী ধরনের গ্রহ আছে, তা খুঁজে বের করতেই বছর তিনেক আগে নাসা চালু করেছিল কেপলার টেলিস্কোপ। এখনও পর্যন্ত তারা প্রায় একশোর মতো গ্রহর অস্তিত্ত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছে।

এখন এই শক্তিশালী মহাকাশ টেলিস্কোপটি আরও এমন দুটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছে – যেখানে জীবনের অনুকূল পরিবেশ আছে।

এই গ্রহদুটি পৃথিবী থেকে বারোশো আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে, আর সেগুলোও সূর্যের মতোই আর একটা তারকাকে ঘিরে কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করছে – যার নাম দেওয়া হয়েছে কেপলার সিক্সটি টু।

সদ্য সন্ধান-পাওয়া এই গ্রহদুটোর বিশেষত্ব হল, এগুলোর আকারটা একদম সঠিক মাপের – অনেকটা পৃথিবীরই মতো। আর এই গ্রহদুটো খুব গরমও নয়, খুব ঠান্ডাও নয়।

kepler_planet

কেপলার টেলিস্কোপে শনাক্ত দুটি গ্রহ

গবেষকদের মতে, পৃথিবীর সঙ্গে এতটা মিল থাকা গ্রহ এর আগে কখনওই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেপলার প্রজেক্টের চিফ ইনভেস্টিগেটর উইলিয়াম বরোকি তো সোজাসুজি বলছেন – জীবনের অস্তিত্ত্ব থাকার সম্ভাবনা এই গ্রহগুলোতেই সবচেয়ে বেশি, কারণ 'এগুলো খুব সম্ভবত একদম পৃথিবীরই মতো'!

তবে নাসার বিজ্ঞানীরা পাশাপাশি একটা কথা বারবারই জোর দিয়ে বলছেন – একটা গ্রহ জীবনের জন্য বাসযোগ্য মানেই যে সেখানে জীবনের অস্তিত্ত্ব থাকবে, তা কিন্তু নয়। ফলে এই গ্রহদুটিতেও প্রাণের সন্ধান মিলবে – সেই কথাটা এখনই বলা সম্ভব নয়।

আসলে কেপলার টেলিস্কোপ যদিও সুদূর মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহকে শনাক্ত করতে পারছে, কিন্তু সেই গ্রহগুলোর বুকে প্রকৃত অবস্থাটা কীরকম, সেটা জানার মতো বড় আর শক্তিশালী টেলিস্কোপ এখনও মানুষের হাতে নেই।

তবে এখানে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির বিজ্ঞানী লিসা কালটেনেগার একটা মৌলিক বিষয় নিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন।

তাঁর বক্তব্য হল, বাসযোগ্য গ্রহ বলতে কী বোঝায় – তার জবাবে আমরা পৃথিবীকেই আদর্শ মডেল ধরে নিয়েছি। কিন্তু যে গ্রহগুলো অবিকল পৃথিবীর মতো – শুধুমাত্র সেখানেই জীবন থাকতে পারবে, এটা ধরে নেওয়া ভুল হবে।

ফলে বোঝাই যাচ্ছে, কোন ধরনের গ্রহে জীবন থাকতে পারে – তা নিয়ে বিতর্ক সহজে মেটার নয়।

কোনও কোনও বিজ্ঞানী বলছেন, উদ্ভিদের সালোক সংশ্লেষে খুব গুরুত্বপূর্ণ পিগমেন্ট যে ক্লোরোফিল – কোনও নতুন গ্রহ থেকে তার আলোকরশ্মির চিহ্ন খোঁজাটাই বরং সহজ উপায়, যা বলে দেবে সেখানে জীবনের অস্তিত্ত্ব আছে কি না!

ই কোলাই থেকে জ্বালানি ডিজেল!

বিজ্ঞানীরা বলছেন – তারা এমন এক নতুন প্রজাতির ব্যাক্টেরিয়া তৈরি করেছেন, যা জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার জেনেটিক মডিফিকেশন ঘটিয়েই গবেষকরা জন্ম দিয়েছেন এই নতুন ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার – আর তারা শর্করাকে এমন এক ধরনের তেলে রূপান্তরিত করছে, যেটা ঠিক ডিজেলেরই মতো।

ই কোলাই সাধারণত শর্করাকে ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থে রূপান্তরিত করে থাকে, কিন্তু ব্রিটেনের এক্সেটার ইউনিভার্সিটি আর বহুজাতিক জ্বালানি সংস্থা শেলের যৌথ গবেষণায় ওই ব্যাক্টেরিয়ার জিন কাঠামোয় এমনভাবে পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে – যে ফ্যাটের পরিবর্তে তারা তৈরি করছে সিন্থেটিক ফিউয়েল মলিকিউল।

bacteria

ব্যক্টেরিয়াজাত এই তেলের রাসায়নিক গঠন ডিজেলেরই মতো

এখন এই তেল উৎপাদনের হারটা যদি বাড়ানো যায়, তাহলে কৃত্রিমভাবে তৈরি এই তেল একদিন জীবাশ্ম জ্বালানিরও বিকল্প হয়ে উঠতে পারে, বিজ্ঞানীদের দাবি সেরকমই। এখন চেষ্টা চলছে শর্করা ছাড়া অন্য সব কিছুকেও এই ব্যাক্টেরিয়া জ্বালানিতে পাল্টে দিতে পারে কি না, সেটা পরখ করে দেখার।

এক্সেটার ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী প্রফেসর জন লাভ বলছেন, 'ব্যাক্টেরিয়া কিন্তু তাদের খাবারের উৎস হিসেবে কার্যত যে কোনও কিছুকেই ব্যবহার করতে পারে। ফলে পয়োনিষ্কাশনই হোক, কিংবা বিভিন্ন প্রাণীর বর্জ্য – অথবা এমন সব জিনিস, যেগুলো মাটিতে চাপা দিয়ে আমরা ল্যান্ডফিল সাইটগুলো ভর্তি করে থাকি, তার সবই কিন্তু এই ব্যাক্টেরিয়ার জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়!'

এই ব্যাক্টেরিয়াজাত জ্বালানি দিয়ে গাড়ির ট্যাঙ্ক ভরার দিন অবশ্য এখনও অনেক দূরে – কারণ এখন একশো লিটারের সমপরিমাণ ব্যাক্টেরিয়া থেকে তৈরি করা যাচ্ছে মাত্র এক চা-চামচ জ্বালানি তেল।

ফলে বাণিজ্যিকভাবে এই জ্বালানি তৈরি করতে হলে আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন। তবে আশার কথা হল, ব্যাক্টেরিয়া থেকে তৈরি এই জ্বালানি গুণগত মানে খুবই উন্নত।

উদ্ভিদ থেকে তৈরি বায়োডিজেল বা বায়োইথানল আধুনিক প্রযুক্তির ইঞ্জিনে ব্যবহার করায় যেমন নানা সমস্যা আছে – ব্যাক্টেরিয়া থেকে তৈরি এই বিশেষ তেলে কিন্তু সেই সব প্রযুক্তিতেও সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য!

'কিলার রোবটে'র বিরুদ্ধে আন্দোলন

সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যে সব অস্ত্রসম্ভার – অর্থাৎ মানুষের কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই যেগুলো তার আক্রমণের নিশানা বাছাই করে তাতে আঘাত হানতে পারে – তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য লন্ডনে এ মাসেই এক আন্তর্জাতিক প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে।

সমর-বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই এই ধরনের অস্ত্রসম্ভার বানানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন ও লক্ষ্য পূরণে তারা অনেকটা এগিয়েও গেছেন – কিন্তু এখন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও শিক্ষাবিদ, দার্শনিকদের একটি জোট দাবি করছে এই গবেষণা এখনই বন্ধ করা দরকার, এই ধরনের অস্ত্র দিনের আলো দেখার আগেই তা ঠেকানো দরকার।

killer robot

'কিলার রোবট'

ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস ন্যাভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে দর্শনের অধ্যাপক ব্র্যাডলে জে স্ট্রসার কেন এই দাবিকে সমর্থন করেন, তা বিবিসিকে ব্যাখ্যা করছিলেন।

তাঁর কথায়, 'আমার মতো বহু লোকই বিশ্বাস করেন, একটা মানুষের প্রাণ নেওয়া হবে কি না – সেই সিদ্ধান্তটা যদি এই কম্পিউটার বা রোবটের মতো নীতিবোধ বিবর্জিত একটা এজেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই ভাবনায় একটা গভীর নৈতিক সমস্যা আছে।'

'তবে অন্যরা অবশ্য এই যুক্তিও দেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে কিছু নৈতিক লাভও আছে – কারণ প্রতিপক্ষের গোলাগুলি থেকে এই ধরনের অস্ত্র সৈন্যদের অনেক ভাল সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু তবুও আমি মনে করি এই সম্ভাব্য লাভগুলোর চেয়ে এর উল্টোদিকে যে গভীর নৈতিক উদ্বেগের বিষয়গুলো আছে তার পাল্লাই অনেক ভারী!'

আন্দোলনকারীরা এই ধরনের অস্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘কিলার রোবট’, অর্থাৎ যে প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালিত হচ্ছে রোবটের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র যুদ্ধে মানুষবিহীন অস্ত্রের প্রয়োগ কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে – কিন্তু তাকে ঘিরে বিজ্ঞান ও নৈতিকতার আরও এক প্রস্ত সংঘাত যে ঘনিয়ে উঠছে তা স্পষ্ট!

এ সপ্তাহের বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ

Multimedia

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻