আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

Image caption জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলার অতিথি আবৃত্তিকার অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম খুলনার সাতক্ষীরায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেড়ে উঠেছেন এমন এক পারিবারিক পরিবেশে যেখানে গানবাজনা আর অভিনয় ছিল আলোবাতাসের মতোই। তার বাবা ভালো আবৃত্তি আর পাঠ করতেন, বাড়িতে ছিল নিজস্ব থিয়েটারের দল। সেই দল বছরে কয়েকটি যাত্রা এবং নাটক মঞ্চস্থ করতো এবং তাতে পরিবারের সবাই অভিনয় করতেন।

অনেক ছোটবেলায় এরকমই এক 'পালা'য় বিবেকের সহচর বালক বা 'এক-আনি'র ভূমিকায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম মঞ্চে ওঠা। এর পর একটু বড় হয়ে আবৃত্তি আর অভিনয়ের দিকে তার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। পাশাপাশি শিখেছেন গান আর তবলাবাদন।

কলেজে পড়তে কলকাতায় গিয়ে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী রাজনীতির দিকে এবং সেই সূত্রে একটি সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন। সে সময়ই কলকাতাতে কল্যাণ হালদার এবং কাজী সব্যসাচীর আবৃত্তি শুনে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় দারুণভাবে মুগ্ধ এবং অনুপ্রাণিত হন। কাজী সব্যসাচীর আবৃত্তির দল অগ্নিবীণার সদস্য হন তিনি ১৯৬৬ সালে দিকে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭০এর দশকে ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে একাধিক একক আবৃত্তির অনুষ্ঠান করে জনপ্রিয়তা পান তিনি। আবৃত্তিকার হিসেবে তার প্রতিষ্ঠার পেছনে শ্রোতাদের স্বীকৃতিই প্রধান ভুমিকা রেখেছে বলে মনে করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

'মূলত শ্রোতাদের প্রশংসা এবং স্বীকৃতিই আমাকে আবৃত্তিকার করে তুলেছে', বলছিলেন তিনি।

এরই পাশাপাশি ১৯৭০এর দশক থেকেই টিভি নাটকে অভিনয় করছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তবে ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝি মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি সূচনা-তে একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে সিনেমায় তার প্রথম আত্মপ্রকাশ।

এর পর তারেক মাসুদের 'মাটির ময়না' আর 'রানওয়ে', হুমায়ুন আহমেদের 'ঘেঁটুপুত্র কমলা' সহ বেশ কয়েকটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এখন তিনি পুরোদস্তুর পেশাদার অভিনেতা।

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার নিয়েছেন পুলক গুপ্ত।