আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

ছবির কপিরাইট AP
Image caption গ্রিনহাউজ গ্যাস

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ গত বছর সর্বোচ্চ মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে।

আবহাওয়া বিষয়ক জাতিসংঘের এই সংস্থা ডাব্লিউ এম ও বলছে যে, এই গ্রিনহাউজ গ্যাস যে হারে জমা হচ্ছে, সেই হার ১৯৮৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

সংস্থাটির প্রধান মিশেল জেরো সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে বিশ্বের হাতে যেটুকু সময় আছে, সেটা অতি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলছেন, এ নিয়ে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে এখনই নতুন আরেকটি সমঝোতা হওয়া খুবই জরুরী।

মিশেল জেরো বলছেন, তাপমাত্রার এই বৃদ্ধিকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। জাতিসংঘ ২০১০ সালে এই সীমা বেঁধে দিয়েছিলো।

তিনি বলছেন, এটা ধরে রাখতে হলে বিশ্ব নেতাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ছবির কপিরাইট Getty
Image caption জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশই চোখে পড়ছে

জাতিসংঘ বলছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এখন যে পরিমাণে গ্রিনহাউজ গ্যাস জমা হয়েছে, সেটা যে কোনো সময়ের তুলনায় সবচে বেশি।

এর পাশাপাশি কার্বন ডাই অক্সাইডের বৃদ্ধির হারও গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচে বেশি।

বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর জলবায়ুতে যে পরিবর্তন ঘটছে সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এবং এই পরিবর্তনের ফলে সেটা যে খারাপ ও চরম পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে সেটা নিয়েও কোনো প্রশ্ন নেই।

এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার।

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি বলছে, এর ফলে পৃথিবীতে যেসব সমুদ্র আছে, তার পানিতেও এসিডের পরিমাণ নজিরবিহীন হারে বাড়ছে।

এই প্রতিবেদনটি নিয়ে শুনুন জাতিসংঘের বিশেষ প্যানেল আইপিসিসির শীর্ষস্থানীয় গবেষক ড. সালিমুল হকের সাক্ষাৎকার।

তৃতীয় প্রজন্মের রোবট

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা এমন একটি রোবট আবিষ্কার করেছেন যা আর কিছুদিন পর ডিশওয়াশারের ভেতরে ময়লা থালা বাসন নিজে নিজেই ঢুকাতে পারবেন বলে তারা দাবি করছেন।

বিশ্বে এটি এধরনের নতুন একটি যন্ত্র-মানব যা বুদ্ধিমত্তার সাথে মানুষের মতো হাত দিয়ে জিনিসপত্র ধরতে ও রাখতে পারবে।

Image caption বরিসের হাতে কাপ

এই রোবটের নাম দেওয়া হয়েছে বরিস।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই রোবটটি উদ্ভাবন করেছেন। এটি বানাতে সময় লেগেছে পাঁচ বছর আর খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড।

এর আগেও বিজ্ঞানীদের এই দলটি বব নামের একটি রোবট তৈরি করেছিলেন যা নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে জি ফোর এস প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলো।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে এই রোবটের মুখে ও হাতের কব্জিতে সেন্সর বসানো, যা দিয়ে সে বস্তুটিকে দেখতে পায়।

তারপর ওই বস্তুটিকে কিভাবে পাঁচটি রোবটিক আঙ্গুলে ধরা যায়, তার জন্যে এক হাজারটির মতো সম্ভাব্য উপায় নিয়ে চিন্তা করে। এর জন্যে সময় লাগে দশ সেকেন্ড। তারপর বাধা এড়িয়ে ওই বস্তুটির দিকে সে কিভাবে ও কোন পথে হাত প্রসারিত করবে, তার পরিকল্পনা করে।

এই প্রকল্পের প্রধান প্রফেসর জেরেমি ওয়াট বলছেন, কোনো বস্তুকে ধরার জন্যে রোবটটির ভেতরে প্রোগ্রাম বসানো হয়নি, বসানো হয়েছে ওই বস্তুটিকে কিভাবে ধরতে হবে সেই উপায় খুঁজে বের করার জন্যে।

বরিসকে বলা হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের রোবট।

প্রথম প্রজন্মের রোবট ছিলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল যা শিল্প কারখানার যান্ত্রিক কাজে ব্যবহার করা হয়।

দ্বিতীয় প্রজন্মের রোবট হচ্ছে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন, কিম্বা চালকবিহীন গাড়ি, যা নিজে নিজেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে।

তবে মানুষের মতো বুদ্ধি খাটিয়ে কোন কাজ করতে পারা, যেমনটা বরিস করছে সেটা হচ্ছে নতুন এবং তৃতীয় প্রজন্মের রোবট।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান