sleeping
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ঘুম ও স্মৃতির সম্পর্ক: স্মৃতি তৈরি হয় যেভাবে

ঘুমের সাথে স্মৃতি-শক্তির খুবই জোরালো একটি সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে ঘুমের হালকা পর্বটির সাথে। সাধারণত এই সময়টাতেই আমরা বেশির ভাগ স্বপ্ন দেখে থাকি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন করে স্মৃতি তৈরি হওয়ার জন্যে ঘুমের এই পর্বটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের এই সময়েই মানুষের সব স্মৃতি তৈরি হয়ে থাকে।

ঘুমন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্ক এবং তাদের স্মৃতি-শক্তির ওপর তার প্রভাব – এনিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী- সায়েন্সে।

ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় পার করে আপনি গতকালের রাতটি পার করেছেন। এসময় কখনো আপনি ছিলেন গভীর ঘুমে আবার কখনো আধো ঘুমে।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় ঘুমের হালকা এই পর্বটিকে বলা হয় আর. ই. এম।

এসময় আপনার চোখ সবচে বেশি নড়তে থাকে আর এসময়েই আমরা সবচে বেশি স্বপ্ন দেখে থাকি।

আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি যে স্মৃতি জোরালো করতে গভীর ঘুম হওয়া খুবই জরুরি। কারণ এসময়েই মানুষের স্মৃতি সংহত হয়।

ছবির কপিরাইট Getty
Image caption গভীর ঘুম নিয়ে আগেই গবেষণা হয়েছে কিন্তু ঘুমের হালকা পর্বটি নিয়ে গবেষণা করা কঠিন

কিন্তু ঘুমের হালকা পর্বটির সময় মস্তিষ্কের ভেতরে কি ঘটে সেটা খুবই রহস্যময়। তখনকার অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা কঠিন। কারণ এই পর্বটি হয় ক্ষণস্থায়ী এবং খুবই ভঙুর।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছেন ইঁদুরের বেলায়। তারা দেখেছেন, হালকা ঘুমের সময় ইঁদুরের মস্তিষ্কের ভেতরে কিছু কিছু কোষ বা সার্কিট যদি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া যায়, তাহলে এই প্রাণীটি আগের দিন যেসব ছোটখাটো জিনিস শিখেছিলো, সেগুলো আর মনে করতে পারে না।

বিবিসির বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন ওয়েব বলছেন, ঘুমের সাথে স্মৃতির সম্পর্ক নিয়ে এযাবৎ কালের মধ্যে এটাই সবচে বড়ো গবেষণা।

তিনি বলেছেন, “সারাদিনে আপনার যেসব অভিজ্ঞতা হয় সেগুলো মস্তিষ্কের ভেতরে খুব অল্প সময়ের জন্যে জমা থাকে। রাতের বেলা আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন ওই ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে আপনার মস্তিষ্কের ভেতরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া কাজ করতে থাকে। সারাদিনের অভিজ্ঞতা তখন আপনার মাথার ভেতরে সংহত হতে থাকে। অর্থাৎ ঠিক তখনই গঠিত হয় আপনার স্মৃতি।”

“যেসব জিনিস আপনি মনে রাখতে চান শুধুমাত্র সেগুলোই‌ আপনার মস্তিষ্কের সার্কিটের ভেতরে ঢুকে জমা হতে থাকে।”

এই পরীক্ষাটি চালাতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ঘুমন্ত কিছু ইঁদুরের মস্তিষ্কে ছোট্ট একটি অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করেছেন।

এই ফাইবার দিয়েই তারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন ইঁদুরের মাথার ভেতরের কিছু নিউরন।

ছবির কপিরাইট Thinkstock
Image caption এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে ইঁদুরের ওপর

ওই ইঁদুরটি প্রতিদিনই নানা রকম জিনিস শিখছে- যেমন ধরুন কোথায় খাবার পাওয়া যাবে, ভয় পেলে কি করতে হবে ইত্যাদি।

তারপর ইঁদুরটি যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন হালকা ঘুমের সময় তারা তার মস্তিষ্কের ভেতরে বেশকিছু সার্কিট বন্ধ করে দেন। মাথার ভেতরে আলোর বিচ্ছুরণের সাহায্যেই তারা এই কাজটি করেছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইঁদুরের মস্তিষ্কে ওই বিশেষ কোষগুলোকে বন্ধ করে দিলে, ওই প্রাণীটির মস্তিষ্কের ভেতরে কিছু কাজও বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া বাকি সব কিছুই কিন্তু ঠিকঠাক চলতে থাকে। এর ফলে ইঁদুরের ঘুমও ভাঙে না।

পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের স্মৃতিও কিছুটা লোপ পেয়েছে। অর্থাৎ আগের দিন তারা যা কিছু শিখেছিলো এখন তার অনেকটাই আর মনে করতে পারছে না।

ছবির কপিরাইট Thinkstock
Image caption স্মৃতি গঠিত হয় ঘুমের ভেতরে

হালকা ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্কের ভেতরে কি ঘটে সেবিষয়ে জানা সম্ভব না হলেও সম্প্রতি কিছু গবেষণা হয়েছে গভীর নিদ্রার সময়ে কি ঘটে তার উপরে।

দেখা গেছে, সেসময় সারাদিনে আমাদের যেসব অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেগুলোর রি-প্লে হতে থাকে। তখনই গঠিত হয় আমাদের স্মৃতি।

কিন্তু হালকা ঘুমের সময়, যখন আমাদের চোখ খুব বেশি নড়তে থাকে এবং পেশীগুলোও শিথিল হয়ে বিশ্রাম করতে থাকে, তখন মস্তিষ্কের ভেতরে কি হয়, সেই রহস্য এখনও ভেদ করা যায়নি।

কিন্তু ইঁদুরের ওপর সবশেষ এই গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, হালকা ঘুমের সময় যে আমরা শুধু স্বপ্নই দেখি তা নয়, এরচেয়ে আরো বেশি কিছুও হয়তো হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষেরা কেনো তাদের স্মৃতি-শক্তি হারিয়ে ফেলে এই গবেষণায় ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারা বলছেন, ঠিক একই ধরনের পরীক্ষা তারা এখন মানুষের ওপরেও চালাতে চান।

বজ্রপাতের বিদ্যুৎ

বাংলাদেশে এবছর বজ্রপাতে আশিজনের মতো নিহত হয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৩৫ জন মারা গেছে গত বৃহস্পতিবার।

ছবির কপিরাইট Getty
Image caption তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বেড়ে যায় বজ্রপাতও

মাত্র একদিনেই বজ্রপাতে এতো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা খুবই বিরল।

বাংলাদেশে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বজ্রপাতের প্রবণতা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা বেশি হলেই বজ্রপাতের ঘটনা বেশি হয়ে থাকে।

বজ্রপাতের বিদ্যুৎ কেনো তৈরি হয় এবং এথেকে নিরাপদ থাকার উপায় কি –শুনুন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল হকের সাক্ষাৎকার।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।