mobile
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মোবাইল মেটাডেটায় ব্যক্তিগত তথ্য

মেটাডেটায় ব্যক্তিগত তথ্য

ফোনে আমরা যেসব কল করি সেগুলোর ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক আগ্রহ।

কাকে কল করছি, কতক্ষণ ধরে কথা বলছি, কতোবার ফোন করেছি এবং আমি যাদের সাথে কথা বলছি তারা আবার কাদেরকে কল করছে। এবং সবচে বড়ো কথা – আমরা কি নিয়ে বা কোন বিষয়ে কথা বলছি।

এখন ধরুন- আমি যদি কাউকে ফোন করে শুধু বলি যে- “আমি বলছি। চলো আমরা দেখা করি”- তাহলে কিন্তু এটা থেকে খুব বেশি কিছু জানা যায় না, বোঝাও যায় না।

কিন্তু স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিষয়ে একটি গবেষণা চলছে, যাতে দেখা হচ্ছে ফোনালাপের বিষয় না জেনেও আপনার এবং আপনি যাকে কল করছেন তাদের ব্যাপারে কতোটা কী জানা যেতে পারে।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্যাট্রিক মাচলার। এবং এই কাজের জন্যে তিনি কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল ফোনে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলেছেন তিনি যার ওপর অ্যামেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা নজর রাখতে পারবে।

প্যাট্রিক মাচলার বলছেন, “টেলিফোনে যেসব মেটাডেটা আছে সেগুলোর নিরাপত্তা এবং এসব তথ্যের কি পরিণতি হতে পারে সেসব বোঝার জন্যেই এই গবেষণা ।”

Image caption ফোনের মেটাডেটা থেকেই ব্যক্তিগত অনেক তথ্য পাওয়া যায়

“এই কাজটা করার জন্যে আপনাকে টেলিফোন মেটাডেটার ডেটাবেইজ সংগ্রহ করতে হবে। তা করার জন্যে আমরা একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছি। যেসব স্বেচ্ছাসেবী ফোনে ওই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন, আমরা তাদের ফোন থেকে মেটাডেটা সংগ্রহ করতে পেরেছি এবং পরে সেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছি।”

এসব মেটাডেটা থেকে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- কোন ফোন নম্বরে কল করা হয়েছে, কখন করা হয়েছে, কোন নম্বর থেকে কল করা হয়েছে, কল কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিলো ইত্যাদি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীদের ফোন থেকে সংগ্রহ করা এসব তথ্য থেকে কি জানা বা বোঝা সম্ভব হয়েছে?

এই গবেষণার একটি উদ্দেশ্য ছিলো - বিশেষ এই অ্যাপ বসানো ফোন যারা ব্যবহার করছেন, তাদের ব্যাপারে মেটাডেটা থেকে কি ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য জানা যায় সেটা বোঝার চেষ্টা করা।

ছবির কপিরাইট Getty

মি. মাচলার বলছেন, “প্রথমেই যে তথ্যটি আমরা অবশ্যই জানতে পারি সেটা হলো -এই ব্যক্তিটি কে। আপনি যাকে ফোন করেছেন তার নম্বর দেখে আমরা এই নম্বরের মালিককেও চিহ্নিত করতে পারি । তারপর ফেসবুক, গুগল এসব ব্যাবহার করে ওই ব্যক্তি সম্পর্কেও আমরা আরো কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।”

“আপনি যদি কোনো স্থানীয় দোকানপাটে ফোন করেন , তাহলে সেটা দেখে হয়তো বুঝতে পারবো আপনি কোথায় থাকেন, হয়তো তার আশেপাশেই কোথাও থাকেন। অথবা ধরুন আপনি বিশেষ কোনো ক্লিনিকে কিম্বা বিশেষ কোনো ডাক্তারকে ফোন করলেন তাহলে আমরা ধরে নিতে পারবো যে আপনিও হয়তো স্বাস্থ্যগত ওই সমস্যায় ভুগছেন।”

এই গবেষণাটি চালানো হয়েছে খুবই ছোট্ট পরিসরে। অল্প কিছু মানুষের মধ্যে। এবং অল্প বাজেটে। এই গবেষণার ফলাফল খুব শীঘ্রই প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

মহাকাশে প্রতিযোগিতা

ভারত দাবি করছে, মহাকাশে বারবার পাঠানো যেতে পারে এরকম একটি মানব-শূন্য মহাকাশ যান তারা সফলভাবে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটাই তাদের প্রথম কোনো পরীক্ষামূলক যান যা একাধিকবার পাঠানো যাবে। এরকম যান তৈরির জন্যে বহু বছর ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। আর এই চেষ্টায় এখন যোগ দিলো ভারতও।

ছবির কপিরাইট epa
Image caption ভারতের মহাকাশ অভিযান

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এধরনের যান তৈরি করা সম্ভব হলে মহাকাশে যাওয়ার খরচ বহুগুণে কমে আসবে।

গত পাঁচ বছর ধরে পরীক্ষামূলক এই যানটি তৈরি করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা – ইসরু। এজন্যে খরচ হয়েছে প্রায় দেড়শো কোটি ডলার।

আন্তর্জাতিক দুটো বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এধরনের যান তৈরির চেষ্টা করছে। মহাকাশে একাধিকবার পাঠানো যেতে পারে এরকম যান তৈরিতে এতো প্রতিযোগিতার কারণ কি – এনিয়ে শুনুন যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান।