কোটা পদ্ধতি বাতিল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে সেটা নিয়ে আজ বুধবার সংসদে এক প্রশ্ন উত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন এখন থেকে সব কোটা পদ্ধতি বাতিল।

সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত জানান।

তিনি বলেন "কোটা পদ্ধতি থাকলেই এ ধরণের আন্দোলন হবে বার বার হবে। প্রতিবন্ধী বা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা আছেন তাদেরকে আমরা অন্যভাবে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।"

আরো পড়ুন:

কোটা সংস্কার: আন্দোলনের নেপথ্যে কী ঘটছে

চাকরিতে কোটা নিয়ে এত ক্ষোভের কারণ কী?

এক নজরে বক্তব্যের সারাংশ:

  • কোটা পদ্ধতি থাকবে না
  • অন্যদের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলাদাভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখবেন
  • ভিসির বাসায় ভাংচুরের ঘটনায় তদন্ত করে বিচার করা হবে
  • আপনারা (আন্দোলনকারীরা) ক্লাসে ফিরে যান

"মেধার মাধ্যমে যেভাবে বিসিএস পরিক্ষা হয় সেভাবে হবে" বলেন তিনি। তিনি বলেন, "নারীদের জন্য কোটা রাখা হয়েছিল কিন্তু এখন তারাই আন্দোলন করছে।"

Image caption বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের কোটার হার

মেয়েদের রাতের বেলায় আন্দোলন করা, একটা সময়সীমা বেধে দেয়ার পর সেটা না মানা এসব কিছু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন "সংস্কারের কথা বলতে গেলে... আবার কয়েক দিন পরে এসে আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। তো কোটা থাকলেই হল সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোন ঝামেলাই নেই। কাজে কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নেই। আর যদি দরকার হয়, তাহলে আমি বলে দিয়েছে আমাদের কেবিনেট সেক্রেটারি আছে, কমিটি আছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আছে তাদের নিয়ে তারা কাজ করবে"।

তিনি ক্লাসে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন শিক্ষার্থীদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসায় হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন "আমরা যে শিক্ষার সুযোগ দিয়েছি, সেই শিক্ষা গঠনমূলক কাজে ব্যবহৃত না হয়ে, এখন গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে"।

কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী ছিল?

কোটা সংস্কারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ'এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল -

•কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে অঅনতে হবে)

•কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া

•সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)

•কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া, যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)

•চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
কেন কোটা সংস্কার আন্দোলন
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বিক্ষোভে যোগ দিতে যেভাবে বেরিয়ে এসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা

সম্পর্কিত বিষয়