নাইজেরিয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুরা
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

নাইজেরিয়ার বামা শহরে অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুরা

দীর্ঘ দিনের সহিংসতায় একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নাইজেরিয়ার এই বামা শহর। জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম এক সময় এই শহর নিয়ন্ত্রণ করতো। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এখানে কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা ভালোভাবে জানা যাচ্ছে মাত্র কিছুদিন হলও।

মৃত্যুপথযাত্রী এক শিশু ফিরো মোহাম্মদ। ভুগছে ভয়াবহ রকমের অপুষ্টিতে। নাইজেরিয়ায় এরকম আড়াই লাখ শিশুর একজন এই ফিরো।

তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

মোহাম্মদের মা বলছেন, খাওয়া দাওয়ার জন্যে তাদের কাছে কিছু নেই। খাবার কেনার জন্যে টাকা পয়সাও নেই তাদের। তিনি বলছেন, গ্রামাঞ্চলে শুধু তারাই বেঁচে থাকতে পারছেন যাদের কিছু অর্থ আছে।

যুদ্ধ পরবর্তী মানবিক এই সঙ্কট থেকে বেঁচে যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে সেনাবাহিনীর লোকজন যদি তাদেরকে উদ্ধার করে তাহলেই। যাদের বাড়িঘর নেই, আগুনে পুড়ে গেছে, কিম্বা যারা ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেঁচেছেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে, দিচ্ছে খাবার দাবারও।

কিন্তু শরণার্থীদের আশ্রয় শিবিরের বাইরে শহরের চেহারাটা একেবারেই অন্য রকমের। রাস্তার পর রাস্তা ধরে গেলে দু'পাশে চোখে পড়বে শুধুই ধ্বংসযজ্ঞ। দেখে মনে হয় বামা শহর যেন একেবারেই স্থবির।

বিবিসির সংবাদদাতা মার্টিন পেশেন্স শহরটি ঘুরে দেখেছেন। শহরের এখানে সেখানে পরে আছে বিধ্বস্ত সব গাড়ি। তিনি বলছেন, বোকো হারাম যেদিন এই শহরে পৌঁছায় সেদিন থেকেই এখানকার জীবন থমকে গেছে। একটি পেট্রোল স্টেশনে গিয়ে তিনি দেখেছেন, সেখানে যতো গাড়ি তেল নিতে গিয়েছিলো সেগুলোর সবই পুড়ে গেছে। তাদের কেউই গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে আর পালাতে পারেনি। এই সহিংসতায় মারা গেছে হাজার হাজার মানুষ। এখনও কেউ নিশ্চিত করে জানে না তাদের সংখ্যা কতো।

শুধু এই বামা শহরই না, আরো বহু গ্রাম ও শহরও সহিংসতার কারণে বিপর্যস্ত। আর এতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা। কিন্তু সাহায্য সংস্থাগুলো এখন তাদের মতো শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তা টবি ল্যানজার-

প্রায় ৯০ লাখ মানুষ আছে নাইজেরিয়ায় যাদের খুবই জরুরী ভিত্তিতে মানবিক সাহায্য দরকার। তাদের মধ্যে সাড়ে চার লাখ মানুষের কাছে খাবার দাবা নেই। তারা জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। ঝুলে আছে জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে। ২৫ লাখের মতো মানুষ তাদের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

আশ্রয় শিবিরে আসার কারণে তারা হয়তো এখন যুদ্ধ থেকে বেঁচে গেছে কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ জীবন যে পুরোপুরি নিরাপদ সেটা বলার সময় এখনও আসেনি।

সম্পর্কিত বিষয়