মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় কার্যকর হয়েছে ।

গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগারের বাইরে থেকে বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল জানাচ্ছেন জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক মিঃ আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত করেছেন।

কারাগার প্রাঙ্গণ থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোল জানিয়েছেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা পর সেখানে গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থকরা উল্লাস প্রকাশ করেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে এর প্রতিবাদে সোমবার পাঁচই সেপ্টেম্বর সকাল ছ'টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত সারা দেশে হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলের দিকে মীর কাসেম আলীর পরিবারের বিশ-বাইশ জন সদস্য কাশিমপুর কারাগারের ভেতর মিঃ আলীর সঙ্গে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা সময় কাটান বলে বিবিসি বাংলাকে জানান মিঃ আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন।

মিসেস খাতুন তাঁর স্বামীর সঙ্গে দেখা করার পর জানান মিঃ আলী তাঁর নিখোঁজ ছেলেকে দেখে যেতে পারলেন না বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন তাঁর স্বামী দাবি রেখে গেছেন পুলিশ "যেন তাদের নিখোঁজ ছেলেকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।"

মিসেস খাতুন আরও বলেন তাঁর স্বামীর মনোবল শক্ত আছেএবং তিনি শেষ সময় পর্যন্ত মনে করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে "অপরাধগুলো সবই সাজানো এবং ঘটনার সাক্ষীসহ সমস্ত কিছুই সাজানো মিথ্যা মামলা।"

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption কাশিমপুর কারাগারের বাইরে ফাঁসির আগে ব্যাপক নিরাপত্তা

কারাগারের বাইরে শনিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডের রায় পুর্নবিবেচনার আবেদন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর মীর কাসেম আলীর সামনে কেবল প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার পথই খোলা ছিল।

কিন্তু তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে জানানোর পর তার সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে জামায়াতের চারজন শীর্ষ নেতাসহ যে পাঁচজনকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ঢাকার পুরনো অংশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এই প্রথম যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কাউকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হলো।