আমরা একটা রায় পেলাম, একটা বিচার পেলাম: মুক্তিযোদ্ধা জসিমের বোন

Image caption এই জসিম উদ্দিনকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগেই ফাঁসি দেয়া হয়েছে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামির নেতা মীর কাসেম আলীকে যে মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেই জসিম উদ্দিনের মামাতো বোন হাসিনা খাতুন।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, "এ রায়ে শুধু আমি নই, আমার মতো ভুক্তভোগী যারা, আমার ফুপু (জসিম উদ্দিনের মা) জীবিত থাকলে তিনিও খুশী হতেন।

"(পরিবারের) প্রত্যেকে সুখী হবেন যে আমরা একটা রায় পেলাম, বিচার পেলাম"।

তিনি বলেন, "আমি বিচার পাবো তা কোন অবস্থায় বিশ্বাস করিনি। কারণ টাকা, টাকা আর টাকা। সে টাকা দিয়েই সবকিছু চাপা দিতে চেয়েছে। টাকা যে সব নয় এটাই প্রমাণ হয়েছে"।

Image caption একাত্তরের নিহত জসিম উদ্দিনের মামাতো বোন হাসিনা খাতুন

এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা খাতুন বলেন যে মারা গেছে তার বয়স ছিলো মাত্র ১৭ বা ১৮ বছর বয়স। পরিপূর্ণ মানুষ মারা গেলো তার জন্য এক ধরনের দু:খ কিন্তু অল্প বয়সী একটা ছেলে মারা গেলে তার দু:খ অন্যরকম।

"এখন আমাদের অন্যরকম দু:খের মধ্যে বিচারটা পাওয়া এটা আমাদের মধ্যে জাগছে যে ভবিষ্যতেও এমন বিচার পাবো"।

রায় কার্যকরের পর পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নিহত জসিমের এক হিসেবে কেউ নেই। বড় ভাই আছে কিন্তু তিনি অসুস্থ। আর আছি আমি"।

হাসিনা খাতুন বলেন, "আমার ফুফুর মৃত আত্মা অনেক বেশি শান্তি পেয়েছে। আমার ভাইয়ের বুকেও শান্তি"।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশে মীর কাসেম আলীর মতো মানুষের জন্ম না হোক, এমন মানুষ আর না আসুক এটাই আমার কামনা"।

প্রসঙ্গত, আদালতে উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৭১ সালে মীর কাসেম আলীর পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা জসিম উদ্দিনকে অপহরন করে একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

পরে জসিম উদ্দিনের মৃত্যু হলে আরও পাঁচজনের সাথে তাঁর মৃতদেহ কর্ণফুলী ফেলে দেয়া হয়।

সম্পর্কিত বিষয়