জার্মানিতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন

নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ফায়ারসার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। ছবির কপিরাইট AFP
Image caption নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ফায়ারসার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে আসা শরণার্থীরা জার্মানিতে এখনও বড় একটি রাজনৈতিক ইস্যু।

এখন থেকে এক বছর আগে জার্মানিতে শরণার্থীদের স্থান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। এরপর থেকে নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধের ওপর শরণার্থীদের প্রভাব নিয়ে মিসেস মের্কেলের বিরোধীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

আগে যারা শরণার্থীদের জার্মানিতে আগমনকে সমর্থন দিয়েছেন তাদের অনেকেও এখন প্রশ্ন তুলেন এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে।

বিগত বছরটি অধিকাংশ জার্মানরা কখনোই ভুলবে না। জার্মানি গত এক বছরে অনেক পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

একইসাথে পরিবর্তন হয়েছে আহমেদ আনসালের জীবন। জার্মান সহকর্মীদের সাথে টেবিলে বসা এই দাঁতের ডাক্তার এই দেশে এসেছেন সিরিয়া থেকে।

জার্মানিতে বসবাসের অভিজ্ঞতা ভালো বলেই জানাচ্ছিলেন আহমেদ আনসাল।

"অনেক নতুন মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে। তাদের অনেকেই আমাদের পরিবারের সদস্যদের মতোই অনেক কাছের মানুষে পরিণত হয়েছে"-বলছিলেন মি: আনসাল।

শরণার্থীদের বিষয়ে অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের স্লোগান হচ্ছে, আমরা পারবো। আর আবেনসবার্গের মানুষজনও সেই চেষ্টাই করছে।

শহরের উপকণ্ঠে দিগন্তবিস্তৃত ভুট্টাক্ষেতের কাছে কমলা রঙ্গের পোশাক পরা শ্রমিকেরা শরণার্থীদের জন্য নতুন ঘর বানানোর কাজে ব্যস্ত। এই শহরে প্রায় ৪০০ শরণার্থীকে জায়গা দিতে হবে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সিরিয় শরণার্থীদের কাজ শেখানো হচ্ছে।

আবেনসবার্গে পরিবর্তন খুব নিয়মিত ঘটনা নয়। অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে, জার্মানি জার্মানিই থাকবে।

যদিও এখানে অনেকেই সেই কথায় আশ্বস্ত নয়। যেটা বোঝা যায় আবেনসবার্গের মেয়র উবার ব্রেন্ডলের কথায়-"যদি অভিবাসীদের সংখ্যা আরো কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তাহলেও এই সমাজে অনেক পরিবর্তন আসবে। এটা আমাদের জন্য গ্রহণ করা কঠিন। আমি মনে করি অ্যাঙ্গেলা মের্কেল মানবিক দিক বিবেচনা করে গত বছর একটি কথা বলেছিলেন। আমার মনে হয় না আজ তিনি সেই কথা বলতেন"।

সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে জার্মানিতে একটি অস্বস্তি কাজ করছে। এর সাথে যোগ হয়েছে তথাকথিত আইএসের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে দুইজন আশ্রয়প্রার্থীর চালানো সন্ত্রাসী হামলা।

নিজের দোকানে আপেল, আঙ্গুর আর প্লাম সাজাতে সাজাতে আবেনসবার্গের এক ফল ব্যবসায়ী বলছিলেন, জার্মানরা সাহায্য করতে চায়, তবে তাদের মধ্যে একটি নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে।

চাপের মুখে থাকা এঙ্গেলা মের্কেলের প্রতি সমর্থন আগের চেয়ে কমে গেছে।

আগামী বছর এখানে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে, আর মিসেস মের্কেলের রক্ষণশীল দল খুব দ্রুতই অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দলের কাছে ভোট হারাচ্ছে।

সমর্থন ধরে রাখার জন্য মিসেস মের্কেলকে জার্মানদের কাছে অন্তত দুটো বিষয় প্রমাণ করতে হবে। একটি হচ্ছে, তিনি দীর্ঘমেয়াদে শরণার্থীদের আগমন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং দ্বিতীয়ত, তিনি জার্মানিকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।

তার সরকার এখন কাছ থেকে আবেনসবার্গের মতো শহরগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখছে।

এই শহরের একটি লোহার কারখানায় কাজ করে কিছু তরুণ শরণার্থী। জার্মান সমাজে শরণার্থীদের একীভূতকরণের জন্য কারিগরী শিক্ষা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানকার প্রশিক্ষক আর্নল্ড অ্যারোনলাইটনা মনে করেন, এ বিষয়ে মিসেস মের্কেলের আরো সাহায্য প্রয়োজন।

"তিনি সঠিক কাজ করেছেন। তবে এখন আমাদের এক ধাপ পেছনে যাওয়া উচিত। শরণার্থীদের সংখ্যা সীমিত করাটা বিতর্কিত বিষয়। তবে আমাদের সেটা করতে হবে। একইসাথে ইউরোপের সহযোগিতাও আমাদের প্রয়োজন"।

এখানে প্রশিক্ষণরত শরণার্থীদের কাজ শুরু করার জন্য অন্তত তিন বছর লাগবে। তবে তারা এখনও নিশ্চিত নয় যে, তারা এই দেশে থাকতে পারবে কিনা।তাদের জন্য এবং জার্মানির জন্যও এখন নিশ্চয়তা খুবই কম।