প্রকাশক দীপন হত্যায় অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেফতার: পুলিশ

গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত সবুর রাজু, সাদ, সামাদ এবং সাজু নামেও পরিচিত। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত সবুর রাজু, সাদ, সামাদ এবং সাজু নামেও পরিচিত।

বাংলাদেশে জাগৃতি প্রকাশনী সংস্থার প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা এবং শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রহমান টুটুল হত্যাচেষ্টার অন্যতম 'মাস্টারমাইন্ড' আব্দুস সবুরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিএমপির পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়েছে, গতকাল শনিবার রাতে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন থেকে আব্দুস সবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত সবুর রাজু, সাদ, সামাদ এবং সাজু নামেও পরিচিত।

এর আগে গত ২৪শে অগাস্ট প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার মূল আসামী শামীম ওরফে সিফাতকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায় ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায় যে শামীম সিফাত, সমীর ও ইমরান নামেও পরিচিত।

মূল আসামী শামীমকে গ্রেফতারের কিছুদিন আগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন যে ছয় জঙ্গিকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, তাদের মধ্যে শামীমের নামও ছিল।

ছবির কপিরাইট DMP News
Image caption উপরের সর্বডানের ছবিটি সিফাতের, এদের সবার তথ্য চেয়ে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ। সিফাতকে গত ২৪শে অগাস্ট পুলিশ গ্রেফতার করে।

সিলেট অঞ্চলের ছেলে সিফাত ওরফে শামীম, প্রকাশ ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের সার্বিক সমন্বয়কারী এবং ওই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষক ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আর আজ যাকে ধরা হয়েছে সেই আহমেদ সবুর যে কিনা রাজু নামেও পরিচিত সেও ওই ছয়জনের তালিকায় ছিল। তার কোনও তথ্য দিতে পারলে দুই লাখ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা ছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে, টুটুল হত্যাচেষ্টায় জড়িত আনাসারুল্লাহ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ঘটনাস্থল রেকি করা এবং হামলা পরিকল্পনা তৈরি করা ছাড়াও ওই ঘটনার সার্বিক দায়িত্বশীল একজন ছিল সে।"

গ্রেফতারকবৃত সবুর ওরফে রাজু মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ে আনাসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি বোমা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে বাড্ডার সাঁতারকুলে ওই সংগঠনের নতুন এক আস্তানায় নিজেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন বলে জানান পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে খুন হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। একই বছর ফেব্রুয়ারিতে একই ধরণের আরেকটি হামলায় নিহত লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের কয়েকটি বইয়ের তিনি প্রকাশক ছিলেন।