ঢাকার ট্রাক মাল খালাস করলো দিল্লিতে

ট্রাকের দু`জন ড্রাইভার পালা করে কয়েকটি রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গাড়ি চালান।
ছবির ক্যাপশান,

ট্রাকের দু`জন ড্রাইভার পালা করে কয়েকটি রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গাড়ি চালান।

বাংলাদেশ থেকে পণ্যবাহী একটি ট্রাক যাত্রার নবম দিনে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মালামাল খালাস করেছে।

এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ট্রাক পণ্য নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি ভারতের রাজধানীতে গেল।

বিবিআইএন অর্থাৎ বাংলাদেশে-ভুটান-ভারত-নেপালের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে ট্রাকটি ঢাকা থেকে গার্মেন্টসের চালান নিয়ে কলকাতা হয়ে দিল্লি যায়।

বাংলাদেশের দুই ট্রাক চালক মতিউল ইসলাম এবং মো. রাসেল পালাক্রমে কয়েকটি রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গাড়ি চালান।

দিল্লি থেকে টেলিফোনে বিবিসি বাংলার সাথে আলাপচারিতায় ১৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথে ট্রাক চালানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন মতিউল ইসলাম।

তিনি জানান, যেটা সবচেয়ে বেশি তার চোখে পড়েছে তা হলো ভারতীয় মহাসড়কগুলোর উন্নত অবস্থা।

তিনি বলেন, একাধিক লেনের হাইওয়েগুলো ভারী গাড়ি চালানোর পক্ষে বেশ সুবিধেজনক।

মহাসড়কগুলোতে যানজটও তুলনামূলকভাবে কম।

ছবির ক্যাপশান,

ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে এই ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে।

তার সাথে একমত হলেন দ্বিতীয় ড্রাইভার মো. রাসেল। তিনি বলেন, ভারতীয় ড্রাইভাররা মহাসড়কের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই তার মনে হয়েছে।

তারা দুজনেই জানালেন, ঢাকা থেকে দিল্লি পাঁচ থেকে ছয় দিনের পথ।

তবে তারা প্রথমবার ট্রাক নিয়ে যাচ্ছেন বলে এবার কিছু সরকারি আনুষ্ঠানিকতাও ছিল।

মাঝপথে সড়ক অবরোধের জন্য ট্রাক বসে ছিল দু`দিন।

মতিউল ইসলাম বলছিলেন, তারা যেখানেই বিশ্রাম কিংবা রাত্রিবাসের জন্য থেমেছেন সেখানেই লোকজন তাদের সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তাদের সাথে কথাবার্তা বলেছে।

কিন্তু একটি সমস্যার কথা দুজনেই উল্লেখ করেছেন। তা হলো খাবার।

তারা জানান, ভারতীয় রান্নার স্বাদ ভিন্ন। ফলে সেটা খেতে তাদের একটু কষ্ট হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে তারা এর সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান।

ট্রাক নিয়ে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ আবার দেশের পথে রওনা হবেন বাংলাদেশের প্রথম এই দুই আঞ্চলিক ট্রাক ড্রাইভার।