টেস্ট ক্রিকেটের 'টু-টিয়ার সিস্টেম' বাতিল করলো আইসিসি

ছবির কপিরাইট আইসিসি
Image caption আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি

টেস্ট ক্রিকেটে নিচের আর ওপরের তলার দলগুলোকে নিয়ে আলাদা দুটি স্তর বা 'টু-টিয়ার সিস্টেম' চালু করার প্রস্তাব আইসিসি খারিজ করে দিয়েছে।

বুধবার দুবাইতে আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বৈঠকে মোট ছটি দেশ এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল, তা সত্ত্বেও মূলত ভারতের আপত্তিতেই এই প্রস্তাব পাস করানো যায়নি।

টু-টিয়ার সিস্টেমের বিরোধিতায় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়েও ভারতের পাশে ছিল, তবে এই ইস্যুতে আইসিসিতে কোনও ভোটাভুটি হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে।

বছরদুয়েক আগে এন শ্রীনিবাসনের আমলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই-ই কিন্তু এই টু-টিয়ার সিস্টেমের মূল প্রস্তাবক ছিল, কিন্তু তারা এখন সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে।

কেন মত বদলাল ভারত?

এক কথায় বলতে গেলে কারণটা স্রেফ অর্থনৈতিক। এন শ্রীনিবাসনের আমলে যখন ভারত এই টু-টিয়ার সিস্টেম প্রস্তাব করেছিল, তখন এটাও বলা হয়েছিল যে নতুন পদ্ধতিতে 'বিগ থ্রি', অর্থাৎ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড আইসিসি-র রাজস্বের একটা মোটা অংশ পাবে।

যেমন, ভারতের ২০১৫ থেকে ২০২৩, এই নবছরে আইসিসি-র ব্রডকাস্ট রেভিনিউ থেকেই অন্তত ২২% অর্থ পাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ইতিমধ্যে আইসিসিতে নেতৃত্ব বদলেছে, রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে - এবং ভারতকে জানানো হয়েছে ১৫%-এর বেশি অর্থ তাদের দেয়া সম্ভব নয়।

ভারতীয় বোর্ড এতে অসম্ভব ক্ষুব্ধ - গত ২৪ ঘন্টায় বোর্ডের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন এর অর্থ হল ভারত অন্তত ৯০০ কোটি রুপি বা প্রায় ১৪ কোটি ডলার কম পাবে, এতটা ক্ষতি স্বীকার করা তাদের পক্ষে কোনও মতেই সম্ভব নয়।

ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption বাংলাদেশ টিু-টিয়ার সিস্টেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

ফলে ভারত এখন রেগেমেগে পুরো প্রস্তাবটাই বাতিল করে দিতে চেয়েছে - যদিও প্রকাশ্যে কর্মকর্তারা বলছেন, "টু-টিয়ার সিস্টেমে নিচু র‍্যাঙ্কিংয়ের টেস্ট দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে - তাই এটা চালু করা উচিত হবে না।"

সিদ্ধান্তে খুশি বাংলাদেশ

ভারত ছাড়া বৈঠকে যে তিনটি দল এই সিস্টেমের বিরোধিতা করেছিল - তারা হল র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা জিম্বাবোয়ে, নয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশ আর ছয় নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কা।

আসলে নিচু র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর প্রধান আশঙ্কাই ছিল টু-টিয়ার সিস্টেম চালু হলে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে তাদের টেস্ট খেলার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

তাতে সার্বিকভাবে সে সব দেশে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহেও ভাঁটা পড়তে পারে, মাঠে বা টেলিভিশনে দর্শকও কমে যেতে পারে।

ফলে দুবাইতে এদিন আইসিসি-র বৈঠকের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী একটি ক্রিকেট পোর্টালকে এ কথাও বলেছেন যে এই টু-টিয়ার সিস্টেমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে তারা যে অন্য সদস্যদের শেষ পর্যন্ত বোঝাতে পেরেছেন তাতে 'বাংলাদেশ খুবই আনন্দিত'।

আইসিসি-বিসিসিআই দ্বন্দ্ব

সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে ভারতীয় বোর্ডের প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে বিস্তর আলাপ আলোচনা হলেও গত কয়েক মাস ধরে কিন্তু এই দুই সংস্থার মধ্যে মতবিরোধের লক্ষণ স্পষ্ট।

ঘটনাচক্রে আইসিসি-র চেয়ারম্যান এখনও একজন ভারতীয়, শশাঙ্ক মনোহর - কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে ইদানীং প্রায় প্রতি পদে পদে আইসিসির সংঘাত হচ্ছে।

সদ্যই যে আইসিসি-র ফিনান্স কমিটি তৈরি হয়েছে তাতে ভারতের কোনও সদস্য জায়গা পাননি, আর তাতে ভারতীয় বোর্ড অসম্ভব চটেছে।

যে দেশ থেকে আইসিসি-র প্রায় ৭০% রাজস্ব আসে তাদের কোনও প্রতিনিধি ফিনান্স কমিটিতে থাকবেন না, এটা বিসিসিআই কিছুতেই মানতে পারছে না।

আরও নানা বিষয় নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে তীব্র মতভেদ তৈরি হচ্ছে - এমন কী, ভারতীয় বোর্ডের সচিব অজয় শিরকে এমনও হুমকি দিয়েছেন যে প্রয়োজনে আগামী বছর ইংল্যান্ডে যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-র খেলা হবে ভারত তা থেকেও নাম তুলে নিতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর