ভারতে গ্যাস সিলিন্ডারে পাচার হচ্ছে মদ, গত মাসেই মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের

  • অমিতাভ ভট্টশালী
  • বিবিসি বাংলা, কলকাতা
বিহারে গ্যাস সিলিন্ডারে মদ বহন করছে পাচারকারীরা
ছবির ক্যাপশান,

গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বেরা হচ্ছে মদ

ভারতের বিহার রাজ্যে পয়লা এপ্রিল থেকে মদ নিষিদ্ধ হয়েছে, কিন্তু তাই বলে মদ্যপান যেমন পুরোপুরি বন্ধ হয় নি, তেমনই চলছে চোরাকারবারও।

পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে চোরাই পথে মদ নিয়ে আসার নিত্যনতুন পদ্ধতি বের করছে পাচারকারীরা।

ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকে দেশী মদ একটা গ্যাসের খালি সিলিন্ডারে ভরে নিয়ে আসছিল দুজন পাচারকারী। নওয়াদা জেলায় পুলিশ আর আবগারি দপ্তরের হাতে ধরা পড়েছে তারা।

আবগারি কর্তারা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের নীচের অংশটা কেটে ফেলা হয়েছিল প্রথমে, তারপর ফাঁকা সিলিন্ডারে ১৪৫ টি মদের পাউচ ভরে আবারও নীচের ধাতব অংশটা লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। সাইকেলের কেরিয়ারে চাপিয়ে যেভাবে গ্রামাঞ্চলের গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া হয়, সেভাবেই পাড়ি দিয়েছিল দুই পাচারকারী। তবে সন্দেহ হওয়ায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে পড়ে সত্যটা।

বিহার পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, পয়লা এপ্রিল থেকে ৩১শে অগাস্ট পর্যন্ত ৮৫ হাজারের বেশী জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার জন। এদের মধ্যে ১৩৮০৫ জনের জেল হয়েছে।

বেআইনি মদ উদ্ধারের পরিমাণও বিরাট।

৯২ হাজার লিটার দেশী মদ, ১১৬০০ লিটার ভারতে তৈরি বিদেশী ব্রান্ডের মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রায় দশ হাজার বোতল বিয়ারও আটক করেছে আবগারি দপ্তর।

বিষাক্ত মদ খেয়ে গত মাসেই ২১ জনের মৃত্যুও হয়েছে বিহারে।

এক বিখ্যাত মদ প্রস্ততকারক সংস্থার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছিলেন, "আমরা প্রথম থেকেই জানতাম নিষিদ্ধ করলেও পাশের রাজ্যগুলো থেকে মদ বিহারে ঢুকবেই। কিন্তু আগে মদ বিক্রি থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করত, এখন সরকারের সেই ক্ষতিটা হচ্ছে। লোকে বিষাক্ত মদ খেয়ে মারাও যাচ্ছে।"