ভারতের পোশাক বাণিজ্যে বিবর্তনের ছোঁয়া

ম্যানচেস্টার
ছবির ক্যাপশান,

এফ স্টেইনার এন্ড কোং, ম্যানচেস্টার, ১৮৮০ সাল

ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অন্যতম একটা অংশ ছিল টেক্সটাইল লেবেল, দুই দেশের শিল্প চিহ্নিত করার জন্যই ওই লেবেল বা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।

এই লেবেলগুলো আসলে এক ধরনের 'টিকেট' বা বলা যায় 'পরিবহনের পণ্য আদানপ্রদানের টিকেট', পণ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে শিপমেন্টের সময় কাপড়ের মধ্যে এ লেবেলগুলো লাগানো হতো। আর এসব লেবেল এখন গুরুত্বপূর্ণঐতিহাসিক শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর বিরল এসব টেক্সটাইল মিল লেবেল সম্প্রতি মুম্বাইয়ে এক প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

গ্রাহাম , ম্যানচেস্টার, 'অর্থের মূল্যে পণ্য', ঊনবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে।

এসব রঙিন ক্রোমোলিথোগ্রাফ বা সহজ কথায় বলতে গেলে পাথরে ক্রোমিয়াম দিয়ে ছাপানো লেখাগুলোকে গ্রাফিক ডিজাইন এবং গণ যোগাযোগের অগ্রদূত বলা যায়। এগুলো ব্রিটেনে ডিজাইন করা হয়েছে, জার্মানিতে প্রিন্ট করা হয়েছে এবং ভারত উপনিবেশের বিভিন্ন বাজারে এগুলো পাঠানো হয়েছে"-বলছিলেন প্রদর্শনীর আয়োজক আর্টিসানের পরিচালক রাধি পারেখ।

ছবির ক্যাপশান,

গ্রাহাম, ম্যানচেস্টার, ঊনবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে।

"লেবেলগুলোতে এমন জলকলম ব্যবহার করা হতো এবং এমনভাবে চিহ্নিত করা থাকতো যেটা দেখে কাপড়ের ব্র্যান্ড, কাপড়ের ধরন এবং ওই টুকরায় কতটা কাপড় রয়েছে তা বুঝতে পারা যেত" - বলছিলেন সংরক্ষণাগারের কর্মকর্তা আদ্রিয়ান উইলসন।

ছবির ক্যাপশান,

'হনুমান ছাপ , মোরারজি গোসুলদাস স্পাইনিং এন্ড ওয়েভিং কোং লিমিটেড মিলস, বোম্বে, ১৯২০ সাল

ব্রিটিশ কারখানায় তৈরি তুলা দিয়ে বোনা পণ্য দিয়ে ভর্তি ছিল ভারতীয় বাজার। আর সেসব পণ্যে ভারতের প্রাণী ও উদ্ভিদ, দেব-দেবী, মিথোলজি এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষের ছবি থাকতো লেবেলগুলোতে।

ভারতে ক্রেতারা যেন সেসব কাপড়ের প্রতি আরও আকৃষ্ট হয় সে লক্ষ্যেই এমনটা করা হতো।

ছবির ক্যাপশান,

চিকা লিমিটেড, বোম্বে, কেমিকেল ডাইস, মেইড ইন ইন্ডিয়া, ১৯৪০ এর পরের দিকে, অফসেট

এর আগের লেবেলগুলো ঔপনিবেশিক শাসনামলের ভারতের করাচি বন্দর, ক্যালকাটা (বর্তমানে কলকাতা) এবং বোম্বে (বর্তমানে মুম্বাই)

ছবির ক্যাপশান,

দ্য ইউনিয়ন মিলস এর 'ইয়ং ইন্ডিয়া, বোম্বে, ১৯৩০ সাল

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও টেক্সটাইল ইন্ডাাস্ট্রি বা পোশাক শিল্প বড় একটা ভূমিকা রেখেছে।

১৯১৮ সালে মহাত্মা গান্ধী যখন স্বদেশী আন্দোলন শুরু করেন তখন তিনি বিদেশি কাপড় বয়কটের আহ্বান জানান, একইসাথে স্বদেশে তৈরি খাদি কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ছবির ক্যাপশান,

ওয়ারেন্টেড বেস্ট টার্কি রেড (প্রাকৃতিক টেক্সটাইল ডাই), উইলিয়াম স্টার্লিং এন্ড সন্স, গ্লাসগো, ১৮৮০ সাল

একইসঙ্গে, ভারতীয় শিল্পপতিরা দেশের প্রথম টেক্সটাইল মিল চালু করে মুম্বাই এবং গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরে।

ছবির ক্যাপশান,

প্রস্তুতকারকের নাম অজানা, ঊনবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে।

সময়ের সাথে সাথে যে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি বা পোশাক শিল্পে পরিবর্তন এসেছে তা টেক্সটাইল লেবেলগুলো থেকে বুঝতে পারা যায়।

ব্রিটিশ শাসনামল থেকে স্বাধীন সার্বভৌম ভারতে পোশাক শিল্প ও বাণিজ্যে বিবর্তনের ছোঁয়াই প্রকাশ করে টেক্সটাইল লেবেলগুলো।