সাকিব-তামিমদের মত ক্রিকেটার হতে আগ্রহী অনেক শিশু-কিশোর

  • শায়লা রুখসানা
  • বিবসি বাংলা, ঢাকা
ছবির ক্যাপশান,

সাত থেকে কুড়ি-একুশ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আসেন ভর্তি হতে।

মাথায় হেলমেট। পরনে সবুজ লাল জার্সি। হাতে ব্যাট। পায়ে প্যাড। ঢাকার আবাহনী মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত ক্লাস ওয়ানের রায়হান । ক্রিজে দাঁড়িয়ে ব্যাট করছে। আর তার দিকে বল ছুঁড়ে দিল যে সেও তাই মত এক শিশু। রায়হান সম্প্রতি শিশু-কিশোরদের এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে শতরান করেছে।

ঢাকার ধানমন্ডীএলাকার আবাহনী মাঠে বিকেলের দিকটায় গিয়ে দেখা গেল এমনই সব ক্ষুদের ক্রিকেটাররা ক্রিকেটের কলা কৌশল রপ্ত করায় ব্যস্ত।

তাদের একজন বলছিল, সে অলরাউন্ডার হতে চায়।

ছবির ক্যাপশান,

চলছে প্রশিক্ষণ

আরেকজন জানায় সে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হতে চায়। যে এই 'ছোটবেলার' কথা বলছে তার নিজের এখন বয়স হবে ১০ কিংবা ১২ বছর!

ছবির ক্যাপশান,

আগামি দিনের মাশরাফি সাকিব তামিম হতে চাইছে এরাই।

এককজন বলে ওঠে'মাশরাফী ভাই আমার আইডল'।

শেখ জামাল ধানমন্ডী ক্লাব ক্রিকেট একাডেমিতে গিয়েও দেখা গেল এই দৃশ্য। সেখান কথা হচ্ছিল তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লাহ রহমান সানী র সাথে। বোলার মুস্তাফিজুর রহামনের খেলা দেখে ক্রিকেটে আগ্রহী হয় সে। মর্নিং শিফটে স্কুল সেরে বিকেলের সেশনে ক্রিকেট খেলা শিখতে আসে শেখ জামাল ধানমন্ডী ক্লাব ক্রিকেট একাডেমীতে। এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে প্রতিদিন তাকে নিয়ে মা বেগম নাহিদ রহমান আসেন । তিনি জানান ছেলে এবং তার বাবা দুজনই চান ছেলে ক্রিকেট শিখুক।

ছবির ক্যাপশান,

এভাবে বাচ্চাদের নিয়ে মাঠে আসেন ক্রিকেট শেখাতে উৎসাহী অভিভাবকেরা।

আরেকজন মা পেশায় শিক্ষিক সামিরা সাইদ জানান, তার ছেলে আগে ব্যাডমিন্টন খেলতো। সেটা ছেড়ে এখন ক্রিকেটে ভর্তি হয়েছে বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের খেলা দেখে।

এসব একাডেমীতে এক থেকে দেড়শোর মত শিক্ষার্থী ক্রিকেট শিখছে। সকাল এবং বিকেল দুই বেলা করে প্রশিক্ষণ চলে। সব ধরনের পরিবার থেকেই আসছেন শিক্ষার্থীরা।

ডিসকভারি ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষক সাজাহান হোসেন সাজু জানান, ক্রমশ ক্রিকেটে আগ্রহ বাড়ছে শিশু-কিশোরদের। সাথে বাবা মায়েদেরও।

ছবির ক্যাপশান,

নির্ভুলভাবে শেখাতে প্রযোজনে বিসিবির সহায়তা নেয়া সম্ভব, বলেন প্রশিক্ষক সাজাহান হোসেন সাজু।

কিন্তু এসব একাডেমি কতটা নির্ভুল ও সঠিক পদ্ধতিতে ক্রিকেট শেখাতে পারছে? জানতে চাইলে সাজাহান হোসেন বলেন, এক্ষেত্রে ক্লাবগুলো সচেষ্ট। কিন্তু প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকায় বিসিবির সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

ধানমন্ডী ক্রিকেট একাডেমির প্রশিক্ষক সাদিকুজ্জামান পিন্টু বলেন, অনেক প্রতিভা নিয়ে ক্রিকেট শিখতে আসে কিন্তু এএসসি পর্যায়ে গিয়ে ঝরে যায়।

ছবির ক্যাপশান,

প্রশিক্ষক সাদিকুজ্জামান পিন্টু বলেণ, অনেকে সহজাত প্রতিভা নিয়ে আসেন কিন্তু লেখাপড়ার চাপে আবার ঝরে যায়।

তবে সন্তানকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তেলাটাকে গর্বের বিষয় বলেও মনে করছেন এখনকার অনেক অভিভাক। এমনই একজন সন্তানের সাথে মাঠে আসা তপন কুমার সরকার ।

তার মতে, বাংলাদেশে একজন ভাল ক্রিকেটার হয় ওঠা সহজ কাজ নয়। সেখানে একজন মাশরাফি, সাকি, কিংবা তামিম ইকবালের খেলোয়াড় হতে পারলে তাকে সবাই চেনে। সেটা বাবা-ম সবার জন্ই গর্বের বিষয়।

ছবির ক্যাপশান,

নেটে চলচে ব্যাটিং প্রাকটিস

সরকারি ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিকেএসপিতে লেখাপড়ার পাশপাশি ক্রিকেট কোচিং এর ব্যবস্থা তো আছেই। কিন্তু এর বাইরে একটি বড় অংশ এখন এসব প্রাইভেট একাডেমী থেকে ক্রিকেট কোচিং নিচ্ছে।

আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের সাথে তাল মিলিয়েই যেন দিন দিন বাড়ছে ক্রিকেটে আগ্রহীদের সংখ্যাও । এখান থেকেই আগামি দিনের মাশরাফি-সাকিব-কিংবা মুস্তাফিজরা বের হয়ে আসবে কি না তা এখনই বলা না গেলেও, তাদের চেষ্টা আর আগ্রহরে কমতি নেই।