মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে আগুন ধরে যায় কেনো?

বাজারে যতো স্মার্ট ফোন পাওয়া যায় তার মধ্যে জনপ্রিয় একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট।

তার সর্বাধুনিক মডেল গ্যালাক্সি নোট সেভেন।

মাত্র কয়েকদিন আগেই এটি বাজারে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এই কোম্পানির নির্মিত সেটটি বাজারে আসার সাথে সাথেই বিক্রি হয়ে গেছে এর ২৫ লাখ সেট।

কিন্তু তারপরেই হঠাৎ করে এই সেট নিয়ে বড়ো ধরনের বিপত্তি দেখা দিলো।

দেখা গেলো এই ফোনে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যাচ্ছে। এরকম ৩০ থেকে ৩৫টি ঘটনা রিপোর্ট করা হলো।

তার মধ্যে একজন আগুনে পুড়ে পাওয়া যাওয়া তার সেটটির ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে দিলো ইউটিউবে।

ছবির ক্যাপশান,

স্যামসাং নোট সেভেন

এরপরেই বড় ধরণের ঘোষণা এলো স্যামসাং থেকে। বাজার থেকে ২৫ লাখ সেট ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলো। বলা হলো, যারা ইতোমধ্যেই এই সেটটি কিনে ফেলেছে, তারা সেটি ফিরিয়ে দিয়ে নতুন ফোন নিতে পারবে।

পাশাপাশি এই সেটের বিক্রিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানের যাত্রীদের সাবধান করে দিয়েছেন বিমান উড়ার সময় তারা যাতে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট সেভেন চালু না করেন বা চার্জ না দেন।

শুধু তাই নয়, তারা এই ফোন সাথে না রেখে, চেকড-ইন ব্যাগের ভেতরে দিয়ে দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।

ফোনের হ্যান্ডসেটে বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই আগুন লেগে যাওয়ার জন্যে এর লিথিয়াম ব্যাটারির সমস্যাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব ব্যাটারি যদি খুব দ্রুত চার্জ হয়ে যায়, কিম্বা এর কোথাও সমস্যা থাকে তাহলে এর ভেতরে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন ধরে যেতে পারে।

ফোনের এই ব্যাটারি নিয়ে শুনুন বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপনের সাক্ষাৎকার।

ছবির ক্যাপশান,

অসাইরাস-রেক্স যেভাবে গ্রহাণু থেকে ধূলিকণা সংগ্রহ করবে

গ্রহাণু থেকে ধূলিকণা

মহাকাশের একটি গ্রহাণু থেকে ধূলিকণা সংগ্রহ করে আনার লক্ষ্যে নতুন এক অভিযান শুরু করেছে নাসা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির পাঠানো চালকবিহীন এই যানটির নাম অসাইরাস-রেক্স।

এই যানটির গন্তব্য বেনু নামের একটি গ্রহাণু, যা আসলে কালো একটি পাথর এবং সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে।

অসাইরাস-রেক্সের এই গ্রহাণুতে গিয়ে পৌঁছানোর কথা ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে।

তার আরো পাঁচ বছর পর এই যানটির পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

সবমিলিয়ে নাসার এই মিশনটি সাত বছরের।

ছবির ক্যাপশান,

বেনুর আকারের একটি তুলনা

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, গ্রহাণু থেকে যেসব ধূলিকণা সংগ্রহ করে আনা হবে সেসব পরীক্ষার মাধ্যমে সৌরজগতের জন্ম রহস্য সম্পর্কে আরো অনেক কিছুই জানা সম্ভব হতে পারে।

কার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের ধারণা, বেনুর মতো গ্রহাণুগুলোর জন্ম সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে।

তারা বলছেন, এসব গ্রহাণু সম্পর্কে জানতে পারলে পৃথিবীতে কিভাবে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিলো সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সৌরজগতের সৃষ্টির হওয়ার সময় বেনু নামের এই পাথর খণ্ডটি ছিটকে পড়েছিলো।

নাসার এই প্রকল্পের সাথে জড়িত একজন বিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা রিচে বলেছেন, "একেবারেই অজানা কোনো গন্তব্যে যাওয়া এবং সেই জায়গা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার সবচে বড়ো দিকগুলোর একটি হচ্ছে যে এথেকে আপনি নতুন নতুন জিনিস জানতে পারবেন।"

"আমরা খুব নিশ্চিতভাবে জানি যে এই গ্রহাণুটি কার্বন-সমৃদ্ধ। ওখানে এধরনের আরো কিছু জৈব পদার্থও থাকতে পারে। তবে এই যানটির পৃথিবীতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এনিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারবো না। আমরা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছি," বলেন তিনি।

বেনু থেকে যানটি কিভাবে সংগ্রহ করবে এই ধূলিকণা?

ছবির ক্যাপশান,

রাডার থেকে তোলা বেনুর কিছু ছবি

অবতরণ করার আগে অসারইস-রেক্স মহাকাশ থেকে গ্রহাণুটির উপর পরীক্ষা চালাবে প্রায় দু'বছর। পরে এটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামবে। তারপর ওই যান থেকে রোবটিক একটি হাত বেরিয়ে এসে গ্রহাণুটির উপরের পৃষ্ঠ থেকে পাথরের কিছু নমুনা তুলে আনার চেষ্টা করবে।

ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে সেখান থেকে জোরে কিছু গ্যাস বেরিয়ে আসবে। যার ফলে সেখান থেকে কিছু ধূলিকণা তার ওপরে গিয়ে জমা হবে। এটা নিশ্চিত হওয়ার পর যানটি তার গতি-মুখ পরিবর্তন করে ফিরে আসবে পৃথিবীতে।

পরে নাসার গবেষকরা এই ধূলিকণা পরীক্ষা করার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করবেন সৌরজগতে আমাদের এই পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিলো।

এছাড়াও মহাকাশে সম্ভাব্য বিপদজনক এসব পাথর সৌরজগতে কিভাবে ঘুরে বেড়ায় সে সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বলা হচ্ছে, বেনুতে গিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে দু'বছর। নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হবে ২০২০ সালের জুলাই মাসের পর।

তিনবার চেষ্টা চালাবে। বেনু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মহাকাশ যান অসাইরাস-রেক্স, দু'বছরের ফিরতি যাত্রা শেষে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা মরুভূমিতে নেমে আসবে ২০২৩ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান