ভারতে জনগণনার রিপোর্ট: ১২০০০ শিশুর ডিভোর্স

ছবির কপিরাইট গেটি ইমেজেস
Image caption ২০২০ সালের মধ্যে ১৪ কোটি কন্যা শিশু বা কিশোরীর বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্যে এমন প্রায় ১২০০০ শিশু পাওয়া গেছে, যাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এদের অর্দ্ধেকেরও বেশি শিশুকন্যা।

যদিও আইন অনুযায়ী এদের বিয়ের বয়স হয় নি, তবুও জনগণনার তথ্যেই উঠে এসেছে সে দেশে বাল্যবিবাহ কতটা ব্যাপকহারে ঘটে থাকে।

নতুন যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সারা দেশে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে এমন ১২,১০৫টি শিশুকে পাওয়া গেছে যাদের বয়স ১০-১৪ বছর। আবার এদের মধ্যে রয়েছে ৬৫০০ কন্যা শিশু।

ভারতে আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ।

২০১১ সালের সর্বশেষ যে আদমশুমারি হয়েছিল, সেখানে আরও জানা যাচ্ছে যে আট কোটি ৩০ লক্ষ কিশোরীর বিয়ে হয়েছে, যাদের বয়স এখনও ১৮ পার হয়নি।

আরো দেখুন:

বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত পাল্টাচ্ছে শ্রীলংকা

সাধের কুকুরের জন্য নিজের বিয়ে ভাঙ্গলেন তরুণী

বাল্যবিবাহ রোধে বিহার আর ঝাড়খন্ড রাজ্য দুটিতে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রেকথ্রু। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লীনা সুশান্ত বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "এমন অনেক কিশোরীই আমাদের কাছে এসে বলে যে হঠাৎই তারা একদিন সকালে ঘুম ভেঙে উঠে দেখেছে বাড়িতে কোনও উৎসবের আয়োজন হচ্ছে। মা বা বড়দের কাউকে জিগ্যেস করে তারা জানতে পেরেছে যে সেদিন নাকি তার বিয়ে।"

"বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েদের মতামত তো নেয়া হয়ই না, অনেক সময়ে মায়েদের মতামতেরও কোনও মূল্য থাকে না। সংসারের কর্তাই ঠিক করেন কখন মেয়ের বিয়ে দেবেন - সেটা আবার নির্ভর করে কখন তাঁর হাতে কিছুটা অর্থ জমা হয়েছে, তার ওপরে," আরও বলছিলেন লীনা সুশান্ত।

ছবির কপিরাইট এপি
Image caption বাল্য বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সবথেকে বেশি ঘটছে মহারাষ্ট্রে।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল জানাচ্ছে, ভারতের সর্বশেষ জনগণনার পর থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১৪ কোটি কন্যা শিশু বা কিশোরীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব কন্যা শিশু বা কিশোরীর ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে ১৬% বিয়ের প্রথম বছরেই সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ছে আর প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ কন্যা শিশু বা কিশোরী সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে।

লীনা সুশান্ত বলছিলেন, বাল্যবিবাহটা শুধু যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে হচ্ছে তা নয়, বিহার, ঝাড়খন্ডের উচ্চবর্ণের শিক্ষিত পরিবারও শিশু বা কিশোরীর বিয়ে দিচ্ছেন ১৮ বছরের আগেই।

"সমস্যাটা শিক্ষা-অশিক্ষার নয়। যদিও অনেক সময়তেই শিক্ষার প্রসার এই বাল্যবিবাহ আটকাতে পারছে গ্রামে গঞ্জে। কিন্তু মূল বিষয়টা হল জাতপাতের সমস্যা।''

''কোনও উচ্চবর্ণের ব্যক্তিও তাঁর কিশোরী কন্যার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, হয়তো উঁচু জাতেরই একটা ভাল পাত্র পেয়ে গেছেন তিনি আর বেশি অপেক্ষা করতে গেলে যদি বেশি বরপণ দিতে হয়, তাই ১৮-র আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কিশোরীদের। প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলি বা যাদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছয় নি, সেখানে তো এই সমস্যা আছেই," বলছিলেন মিজ সুশান্ত।

বাল্যবিবাহের পরে আবার ১৮বছরের আগেই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো অবশ্য বেশ নতুন।

যে সব গ্রামের কিশোর বা যুবকরা বাল্যবিবাহের পরে রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে কাজ করতে চলে যাচ্ছে, সেখানেই এটা দেখা যাচ্ছে বেশি করে। তারা বাইরে গিয়ে যখন জগৎটাকে দেখছে, চিনছে, তখনই তারা আর দেশের বাড়িতে রেখে আসা শিশু বা কিশোরী স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চাইছে না। তাদের ডিভোর্স দিয়ে দিচ্ছে।

বাল্য বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা সবথেকে বেশি ঘটছে মহারাষ্ট্রে। তারপরেই উত্তরপ্রদেশ, বিহার আর পশ্চিমবঙ্গের স্থান।

রাজস্থানে যদিও সব থেকে বেশি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে, তবে সেখান থেকে খুব বেশি কেউ বাইরে কাজ করতে যায় না, তাই বাল্য-বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাও সেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর