আলেপ্পোর জন্যে লড়াই: শহরে ধ্বংসলীলা

ছবির কপিরাইট AP
Image caption বুধবার আলেপ্পোতে বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা আলেপ্পো শহরের বিভিন্ন অংশে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সরকারি বাহিনী ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে চলেছে।

হোয়াইট হেলমেট নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণ সংস্থা বলছে, যুদ্ধ বিমান ও ভারী কামান দিয়ে অন্তত ৬০টি বিমান হামলা চালানো হয়ছে এবং এই সংস্থাটির নিজেদের সমন্বয় কেন্দ্রগুলোও এতে আক্রান্ত হয়েছে।

এর আগে সিরিয়ার সরকার এক ঘোষণায় জানিয়েছিল, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে আলেপ্পো শহরের পূর্বাংশ পুনর্দখল করার জন্য তারা নতুন এক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।

ত্রাণ-কর্মীদের কাছ থেকে এসব অভিযানের যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তারা একে রীতিমত ধ্বংসলীলা বলে বর্ণনা করছেন।

বিবিসির পল এডামস জানাচ্ছেন, পূর্ব আলেপ্পোর আড়াই লাখ লোকের কাছে একে এক পূর্ণমাত্রার সামরিক আক্রমণ বলেই মনে হচ্ছে।

ব্রিটেন ভিত্তিক একটি সিরিয়ান মানবাধিকার সংস্থা বলছে,গত রাত থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০টি বিমান হামলা হয়েছে।

সরকারি বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো ব্যারেল বোমা ফেলছে, কিন্তু বিমান হামলার অনেকগুলোই চালাচ্ছে রাশিয়ার জেট বিমান।

হোয়াইট হেলমেট সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, আলেপ্পোর আকাশে পাঁচটি রুশ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন উড়তে দেখা গেছে।

দু'দিনের প্রবল বোমাবর্ষণে আলেপ্পোর পূর্বাংশে বড় বড় অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Thiqa agency
Image caption হামলায় বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে গেছে

সংস্থাটি বলছে, তাদের চারটি চিকিৎসা কেন্দ্রের মধ্যে তিনটিই আক্রান্ত হয়েছে এবং অন্তত তিনটি জায়গায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে লোকজন চাপা পড়ে আছে।

সিরিয়ার সরকার এর আগেই তাদের ঘোষণায় বেসামরিক লোকদের, তাদের ভাষায়, সন্ত্রাসীদের অবস্থানগুলো থেকে দূরে থাকতে বলে দিয়েছে।

তাদের 'সেখানে থেকে যাওয়া মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি নেয়া' - এটা স্পষ্ট করে দিয়ে বলা হয়েছে নির্ধারিত কিছু চেকপয়েন্ট দিয়ে বেসামরিক লোকেরা পূর্ব আলেপ্পোর ওই এলাকাগুলো ছেড়ে যেতে পারবে।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption ধ্বংস হয়ে যাওয়া আলেপ্পো

এই অভিযানে স্থল-সেনাও নামানো হবে এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে, কারণ সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে এই বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণকে প্রস্তুতিমূলক বলে আখ্যায়িত করে বলা হয় এটা আরো কিছুদিন চলবে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করার যে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছিল তাতে এখন পর্যন্ত কোন ফলই হয় নি - যা নিয়ে জাতিসংঘের দূত স্টেফান ডে মিস্টুরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।