ঢাকার গুলশানে হামলাকারীদের নিয়ে আইএস-এর নতুন ভিডিওতে কী আছে?

Image caption এতদিন এই জঙ্গিদের স্থিরচিত্র দেখা গেলেও ভিডিওতে এবার তাদের দেখা যাচ্ছে অস্ত্র হাতে।

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশের ওপর একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে। গত জুলাই মাসে ঢাকার গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন পাঁচজন জঙ্গির কথাবার্তা, হামলার ঘটনা এবং আইএস এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরা হয় বাংলা ভাষায় তৈরি এই ভিডিওতে । ভিডিওটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, কয়েকজন ধর্মীয় নেতাসহ বেশ কয়েকজনের সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে।

গুলশান হামলার প্রায় তিন মাসের কাছাকাছি সময়ে এসে হামলাকারী সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মৃতদেহ গত বৃহস্পতিবার দাফন করা হয়। এরপর এই ভিডিও প্রকাশ করে আইএস।

আইএস-সহ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার দিকে নজর রাখেন সাংবাদিক তাসনিম খলিল। ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে তিনি বলছিলেন, ভিডিওতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ধর্মীয় নেতার কথা বলা হয়েছে। যেমন শোলাকিয়া ঈদ জামাতের ইমাম ফরিদউদ্দিন মাসুদকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, তিনি আসলে সরকারের পক্ষে লোক। এছাড়া শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দুজনকেই উদ্দেশ্য করে ভিডিওতে বলা হয়েছে, তারা তাগুদ বা ইসলামের শত্রু।

ভিডিওটির দ্বিতীয় অংশে গুলশান হামলার ঘটনায় নিহত পাঁচজন জঙ্গি কালো পাঞ্জাবী এবং মাথায় বিশেষ ধরণের স্কার্ফ পড়ে আইএস এর পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। এ ধরণের স্থির চিত্র আগে প্রকাশ হয়েছিল। এখন ভিডিওতে তারা কথা বলছেন। তারা একজন করে কথা বলছেন, তখন তার হাতে একে-৪৭ রাইফেল এবং ছুরি দেখা যায়। তারা কোরান-হাদিস থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি তুলে ধরেন।গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলা করার পক্ষে তারা তাদের যুক্তিও তুলে ধরেন।

Image caption হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পরের ভিডিও ফুটেজ কিছুটা দেখা যায় আইএস এর ভিডিওতে।

নিহত হওয়ার পর এই জঙ্গিদের যে নাম বা পরিচয় সকলে জেনেছে। সেই নাম নয়। ভিডিওতে তাদের পোশাকি নাম ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু গুলশান হামলার ঘটনার প্রায় তিন মাস পর এসে কেন এই ভিডিও প্রকাশ করা হল,এর পিছনে কি কারণ থাকতে পারে,এসব প্রশ্নে তাসনিম খলিলের বক্তব্য হচ্ছে, "আইএস এর এবং এ ধরণের জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের কোনও সদস্য কোথাও হামলা করে নিহত হলে,নিহতদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর এ ধরনের ভিডিও প্রচার করে থাকে। গুলশানে হামলাকারী জঙ্গিদের ক্ষেত্রেও তাই করা হল। তাদের মৃতদেহ দাফন হওয়ার পর ভিডিও প্রকাশ হল।"

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এরা সাধারণত কোনও জঙ্গি তৎপরতা বা হামলা চালানোর আগে কিছু বার্তা ভিডিও করে রাখে। গুলশানের হামলাকারীরাও বাংলাদেশের কোনও গ্রাম থেকে ভিডিও করেছিল বলে এটি দেখে তাঁর ধারণা হয়েছে। বাচ্চাদের চিৎকার, গরু-বাছুরের ডাকের আওয়াজ শোনা গেছে।

গুলশানে রেস্তোরায় হামলার ঘটনার ছবিও ভিডিওতে আছে, সে ব্যাপারে তাসনিম খলিল বলেন,"গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের মৃতদেহ পড়ে আছে।এমন ছোট একটা দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়। এতে আমি একটু অবাকই হয়েছি। কারণ এই ভিডিওটার ব্যাপারে আইএস এর একসেস থাকার কথা না। এই ধরনের ভিডিও সাধারণত বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনী করে এমন ঘটনাগুলির পরে। তো সেটা আইসিসের ভিডিওতে কিভাবে এলো, সেটা একটা রহস্য"।

এ ধরনের একটি ভিডিও দেয়া হবে বলে আইসিসের বাংলা একটা ওয়েবসাইটে প্রথমে ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরবি ভাষায় একটি ওয়েবসাইটে এটি প্রথম রিলিজ করা হয়।