ইয়েমেনে 'সৌদি জোটের' যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছিল

সানা
ছবির ক্যাপশান,

বিমান হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়

বিবিসি জানতে পেরেছে , ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সৌদি যৌথবাহিনীরই একটি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছিল বলে সৌদি আরব গোপনে স্বীকার করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর ঐ হামলায় অন্তত ১৪০ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়।

শনিবারের ঐ হামলার বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে সৌদিরা।

সানায় বিমান হামলায় নিহতদের সিংভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক এবং গত দুবছর ধরে চলে আসা যুদ্ধে হতাহতের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি।

এঘটনায় সৌদি আরবের সাথে তদন্তে যোগ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ।

এর আগে জাতিসংঘের প্রধান মানবাধিকার কর্মকর্তা, জাঈদ রা'দ আল হুসেইন, ঐ ঘটনায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তাঁর একজন মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন "দায়িত্ব কাউকে নিতে হবে, এখানে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন রয়েছে। দায়িত্ব এবং ন্যায়বিচার না থাকার কারণে এধরণের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এধরণের দায়মুক্তি চলতে পারে না"।

ছবির ক্যাপশান,

বিশ্বজুড়ে হামলার ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়

শনিবারের সেই হামলাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ব্রিটেনও তদন্তে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। ব্রিটেনের সেই অনুরোধে সায় দিয়েছে সৌদিরা।

রিয়াদ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রও তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।

তবে মানবাধিকার গোষ্ঠিগুলো একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সৌদি সূত্রগুলো বলছে, তদন্তে বিমানের ডাটা রেকর্ডিং, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষী এবং সামরিক গোয়েন্দা তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।

ইয়েমেনে সৌদি গোয়েন্দা বাহিনীর অনেক তথ্যদাতা রয়েছে। সুতরাং, সেই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যে কিছু হুতি বিদ্রোহী নেতা এবং সৌদি মিত্র উপজাতি নেতারাও রয়েছে সেটি সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের জানা থাকার কথা।

তবে বিমানের পাইলট নিজেই বোমা ফেলেছে নাকি তাকে উচ্চপর্যায় থেকে হামলা চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

সৌদি একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সৌদিদের পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি দেয়া হবে না। তদন্ত শেষ হতে কত সময় লাগবে তাও নিশ্চিত নয়।